Sharing is caring!

ষষ্ঠ শ্রেণির শতভাগ শিক্ষার্থীর টিউশন ফি দেবে সরকার 

ডেস্ক নিউজ

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ বলেছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই ষষ্ঠ শ্রেণির শতভাগ শিক্ষার্থীর টিউশন ফি সরকার দেবে। সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি এক এক রকম। কোন প্রতিষ্ঠানে কত টাকা টিউশন ফি দেওয়া হবে তা নির্ধারণ করতে আরও কয়েকটি কর্মশালা করে চূড়ান্ত করা হবে। পর্যায়ক্রমে এটি দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত চালু করা হবে। শিক্ষায় এসডিজি-৪ বাস্তবায়নের জন্য এ সিদ্বান্ত নেওয়া হয়েছে।

এসইডিপির (এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম) অধীনে ‘সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচি (এইচএসপি) শীর্ষক স্কিমের মাধ্যমে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। গত রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অংশীজনদের নিয়ে এ সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় এসব তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, লেখাপড়ার পেছনে একজন শিক্ষার্থীর দুই ধরনের খরচ হয়। একটি প্রাতিষ্ঠানিক। অপরটি পারিবারিক। পারিবারিক ব্যয়ের মধ্যে আছে খাতা, কলম, জামা-কাপড় ইত্যাদি। অবৈতনিক শিক্ষার ধারণায় সরকার প্রাতিষ্ঠানিক খরচ বহন করবে। এতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো টিউশন ও অন্যান্য ফি আদায় করা হবে না।

জানা গেছে, সরকার দুইভাবে টিউশন ফি দিতে পারে বলে মত দেয়া হয়েছে। একটি হচ্ছে, প্রত্যেক স্কুল-মাদ্রাসা একই হারে টিউশন ফি নেবে। সেই ফির অর্থ সরকার শিক্ষার্থীর কাছে পাঠাবে। শিক্ষার্থী তা স্কুলে জমা দেবে। অথবা, শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত টিউশন ফি সরকার সরাসরি প্রতিষ্ঠানে পাঠাবে। এ ক্ষেত্রে ষষ্ঠ শ্রেণিতে প্রতিষ্ঠান ভেদে ৩৫ টাকা থেকে ১২০টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের জুলাইয়ে ষষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণিতে ৭৫ লাখ ৮২ হাজার ৮৭৫ শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছে। শিক্ষার্থী বৃদ্ধির আনুপাতিক হার বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে ২০২১ সালে ৮০ লাখ ৪৪ হাজার ৬৭৩ জন এবং ২০২৫ সালে ৯০ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫০ জন হবে। ২০৩০ সালে বাংলাদেশে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত নিম্ন মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী হবে এক কোটি চার লাখ ৯৬ হাজার ৪৭৪। প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তিন শ্রেণিতে অবৈতনিক শিক্ষা চালু করতে সরকারের ১৮ কোটি ১৭ লাখ পাঁচ হাজার টাকা দরকার হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *