Sharing is caring!

সংসদে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট

উপস্থাপন করলেন অর্থমন্ত্রী

♦ দর্পণ ডেস্ক 

জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের বাজেটের আকার হয়েছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিনের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। স্পিকারের অনুমতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন। এসময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে উপস্থিত ছিলেন। বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তাঁর বক্তব্যে বলেন ‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রমা’। করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এবং দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জরুরি, স্বল্পমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদি সব ধরনের পরিকল্পনার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় গত বছরের বাজেটের চেয়ে ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি ধরা হয়েছে। বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার তিন কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে সরকার প্রতিশ্রুত বৈদেশিক অনুদান পাবে ৪ হাজার ১৩ কোটি টাকা। সরকারের মোট আয় হবে ৩ লাখ ৮২ হাজার ১৬ কোটি টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব বোর্ডের বাইরের খাত থেকে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কর ব্যতীত রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেয়া হয়। ১৯৭২ সালের স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেটের তুলনায় এবছরের বাজেট পাঁচ লাখ ৬৭ হাজার ২১৪ কোটি টাকা বেশি। ১৯৭২ সালের ৩০ জুন ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ। ওই বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে এবারের বাজেট গতানুগতিক হচ্ছে না বরং সরকারের অতীতের অর্জন ও উদ্ভূত পরিস্থিতির সমন্বয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রমা’ শিরোনামের এই বাজেটে সঙ্গত কারণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে স্বাস্থ্য খাত। পাশাপাশি কৃষি, খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির প্রতি দেওয়া হচ্ছে অগ্রাধিকার। অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এসব অগ্রাধিকার খাতের পাশাপাশি বাজেটে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন প্রস্তাব থাকবে। উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার বাজেট অধিবেশন খুবই সংক্ষিপ্ত। মাত্র ১২ কার্যদিবস। এবারের বাজেটের আকার হতে পারে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। ১১ জুন বাজেট উত্থাপনের পর ১২ ও ১৩ জুন অধিবেশনের মুলতবি। ১৪ ও ১৫ জুন সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা এবং সম্পূরক বাজেট পাস। ২৯ জুন সোমবার বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনা। ৩০ জুন মূল বাজেট ও নির্দিষ্টকরণ বিল পাস। এরপর ৮ বা ৯ জুলাই অধিবেশন বসে ওইদিনই সমাপ্তি। স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে গুরুত্ব দিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরের ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। গত অর্থবছরের চেয়ে এবারের বাজেট আকারে ৪৪ হাজার ৮১০ কোটি বেশি। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভর্তুকিসহ পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকছে। খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপরে জোর দেয়া হচ্ছে বাজেটে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ ৯টি খাতে। খাতগুলো হলো- সামাজিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, জনপ্রশাসন, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও ধর্ম। পাশাপাশি বরাদ্দ কমছে শিল্প, গৃহায়ন, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে। করোনাভাইরাস মোকাবেলা, ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও গরিব মানুষকে পুনর্বাসনে বেশি বরাদ্দ কাজে লাগানো হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *