Sharing is caring!

‘সংস্কারপন্থীদের’ ফিরিয়ে মনোনয়ন

দেয়ায় তৃণমূলের ক্ষোভে বিএনপি!

নিউজ ডেস্ক: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সংস্কারপন্থী নেতাদের দলে ফিরিয়ে বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন দেয়ায় তৃণমূলের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপিকে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা। তারা বলছেন, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দলের মুমূর্ষু সময়ে রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করে বিনিময়ে যা পেলাম তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বেগম খালেদা জিয়াকে দলের চেয়ারপারসনের পদ থেকে সরানোর চেষ্টা হয়েছিল। তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একদল নেতা সংস্কারের দাবি তুলে একজোট হন। সাবেক বেশ কিছু সংসদ সদস্যও সেখানে যোগ দেন, বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে। অথচ এবার ২০ জনের মতো এমন নেতাদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এদের এক ডজনেরও বেশি পেয়েছেন মনোনয়ন। যারা কেবল এলাকায় নিজ দলের নেতাদের বিরোধিতার কারণে এলাকায় যাচ্ছেন না। এদিকে সংস্কারপন্থী নেতাদের মনোনয়ন দেয়া নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে নানা কর্মসূচিও পালন করেছে তৃণমূল নেতারা। গুঞ্জন উঠেছে, সংস্কারপন্থীদের মনোনয়ন দেয়ায় স্থানীয় নেতাদের অসহযোগিতার কারণে ওই আসনগুলো হারাতে হতে পারে বিএনপিকে।

জানা গেছে, বগুড়া-৪ আসনে সংস্কারপন্থী নেতা জিয়াউল হক মোল্লার সঙ্গে মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়েছে দলের আরেক নেতা মোশাররফ হোসেনকেও। এর জেরে এই আসনে বিএনপির সবাই জিয়াউল হককে ঠেকাতে একাট্টা অবস্থান নিয়েছেন।

কাহালু উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবদুর রশীদ বলেন, ‘জিয়াউল হক মোল্লার চাচাতো ভাই গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে ভোট করেছিলেন। কিন্তু জামানত হারান। তাকে বিএনপির লোকেরাও ভোট দেয়নি জিয়াউল হক মোল্লার কারণেই। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় নির্বাচনে তিনি কীভাবে ভোট আশা করেন?

বগুড়া-৫ আসনে সংস্কারপন্থী নেতা জি এম সিরাজের সঙ্গে জানে আলম খোকাকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে। যদিও দীর্ঘদিন ধরে মাঠে ছিলেন খোকা। তার বিরুদ্ধে মামলাও আছে। নেতাকর্মীদের বিপদে-আপদে ছিলেন। কিন্তু এই আসনে সিরাজের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

যদিও এরইমধ্যে সিরাজের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশ। তাকে মনোনয়ন দিলে মেনে নেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়ে রাজপথে সক্রিয় অবস্থান নিয়েছেন নেতারা।

এ প্রসেঙ্গ জানে আলম খোকা বলেন, ‘যারা আন্দোলন-সংগ্রামে বিগত ১০-১২ বছর এলাকার বাইরে ছিলেন, এলাকার লোকদের সঙ্গে, নেতা-কর্মীদের সঙ্গে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিলো না, এমন পরিস্থিতিতে তাদের মনোনয়ন দেওয়া হলে বিএনপি তো নয়ই, সাধারণ ভোটাররাও ভোট দেবে না।

বরিশাল-১ আসনে জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে আব্দুস সোবহানকে। এই আসনে আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন বরিশাল বিভাগ বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান। সরকারবিরোধী আন্দোলনে সরব অবস্থানে ছিলেন কুদ্দুস। তার কর্মী-সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল তিনি মনোনয়ন পাবেন। বেশ কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি আছে। অন্যদিকে জহির উদ্দিন স্বপন পুরোপুরি এবং আব্দুস সোবহান অনেকটা নিরাপদে ছিলেন এতদিন।

এ প্রসঙ্গে ছাত্রদলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘অন্তত দলের চিঠি পাওয়ার মতো যোগ্য হলেন না কুদ্দুসুর রহমান। আর এত বছর দলের বাইরে থেকেও মনোনয়ন পাওয়া যায়, এটা দুঃখজনক। যারা রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেও মূল্যায়ন পেলেন না তারা এই প্রতিদান নিশ্চয় ভুলবেন না।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, নরসিংদী-৪, রাজশাহী-৪, যশোর-১, নারায়ণগঞ্জ-৫, নারায়ণগঞ্জ-২, নওগাঁ-৬, পটুয়াখালী-২ সহ অসংখ্য আসনে একই অবস্থা তৈরি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘দেখুন, এবারের নির্বাচনটি বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। যারা জয়ী হতে পারবেন বলে দল মনে করেছে তাদের মনোনয়ন দিয়েছে। এসব নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করলে সেসব নেতাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে দলীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সুতরাং আশা করি তারা দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন।’

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *