Sharing is caring!

President & Secretary picশিবগঞ্জ প্রতিনিধি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক সমিতির ব্যাপক অনিয়ম, দূর্ণীতিসহ অর্ধ কোটি টাকা জালিয়াতির বিভিন্ন তথ্য ও অভিযোগ পাওয়া গেছে। দলিল তৈরীর নামে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা এই সমিতি। আর জালিয়াতি চক্রের কারণে বিপুল পরিমাণের অর্থ রাজ¯^ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। এছাড়া অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিবগঞ্জ দলিল লেখক সমবায় সমিতিটি প্রায় ৮ বছর থেকে সমবায়ের নাম দিয়ে ব্যাপক অর্থের পাহাড় গড়ে তুলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিস সূত্রে পাওয়া গেছে, সমিতিটির শিবগঞ্জ শাখা সোনালী ব্যাংকে ৩৩১৫ হিসাব নম্বরে প্রায় ৫৮ লক্ষ টাকা জমা রয়েছে। আর এই শাখায় সমিতিটির সমবায় বাদ দিয়ে “শিবগঞ্জ দলিল লেখক সমিতি” নাম লিখে হিসাবটি খোলা হয়েছে। কিন্তু তাদের চাঁদা আদায়ের তালিকায় “শিবগঞ্জ লেখক সমবায় সমিতি” লেখা রয়েছে। এতে এই জালিয়াতি চক্রটি সরকারকে রাজ¯^ থেকে বঞ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে সমিতির নাম অফিসে উল্লেখিত আছে শিবগঞ্জ দলিল লেখক সমবায় সমিতি। তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও কার্যক্রম চলছে মেমো এবং রেজুলেশন ছাড়াই। প্রতিনিয়ত সমিতির ১৩৯ জন দলিল লেখকের কাছ থেকে দলিল প্রতি ৭‘শ থেকে ১ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সমিতিটি ঘোষিত চাঁদা আদায়ের তালিকা অনুযায়ী কবলা, হেবাবিল এওয়াজনামা, হেবানামা, এওয়াজনামা ও সাধারণ দানপত্র দলিলে ব্যাপক পরিমানে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। দলিল জমির ক্রয়-বিক্রয় মূল্য ৬ হাজার টাকা থেকে ২৪ হাজার টাকা করা হলে সমিতি কর্তৃপ¶ ৪০০ টাকা, ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা হলে ৫০০ টাকা, ৫১ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা হলে ৭০০ টাকা। এছাড়াও ১ লাখ টাকার উর্দ্ধে হলে প্রতি ১ লাখ টাকায় ৩০০ টাকা করে সমিতিকে বাধ্যতামূলক চাঁদা দিতে হয়। আর এই নিয়ে ভুক্তভোগিরা ও সাধারণ মানুষ পড়ছেন চরম বিপাকে। এব্যাপারে শিবগঞ্জ দলিল লেখক সমবায় সমিতির সভাপতি ফাইজুদ্দিন আহম্মেদ ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম (সিলু)র কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে, তারা এ সকল বিষয় এড়িয়ে যান। এমনকি সমবায়ের কথা তুলে ধরলে তারা অ¯¯^কার করেন এবং ক্যামেরার সামনে থেকে সরে যান। শিবগঞ্জ উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা একেএম রবিউল আলমের কাছে শিবগঞ্জ দলিল লেখক সমবায় সমিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের রেজিস্ট্রেশন কিংবা সমবায় বলতে কিছুই নেই। অথচ সমবায় সমিতি আইন ২০০১ সংশোধন ২ ও ১৩-এ ৯ ধারায় বলা হয়েছে কোন সমিতি নিবন্ধিত না হলে এবং সমবায় শব্দটি ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত সমিতিটি জালিয়াতি করলেও স্থানীয় প্রশাসন কোন উদ্যোগ নেয়নি। তাদের নজরদারি না থাকায় কিংবা নিরব ভূমিকা পালন করাই দিনদিন বেড়েই চলেছে এসব সমিতির চাঁদাবাজি ও চরম দৌরাত্ব।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *