Sharing is caring!

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবন মান

উন্নয়নে বর্তমান সরকারের যতো অবদান

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা তথা ভাগ্য উন্নয়নে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত দশ বছরে দু’ধাপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি করা সহ নানাবিধ সুযোগ সুবিধা প্রদান করেছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে মন-প্রাণ দিয়ে দেশের কাজে মনোযোগী হতে পারে সেই লক্ষ্যে সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ একাধিক কল্যাণমুখী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। চলুন জেনে নেয়া যাক সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ…১. প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবন মান উন্নয়ন ও আর্থিক সমস্যা সমাধানে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দুই ধাপে অর্থাৎ ২০০৯ ও ২০১৫ সালে বেতন ও অন্যান্য সুবিধা তিনগুণ (৩৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে বর্তমান সরকার।

২. সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়ি-ঘর নির্মাণে স্বল্প সুদে গৃহনির্মাণ ঋণ দিচ্ছে সরকার। ৩০ আগস্ট ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বল্প সুদে সরকারি কর্মচারীদের গৃহ ঋণ প্রদান সংক্রান্ত বিলে অনুমোদন প্রদান করে। ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য চলতি বছরের নভেম্বর মাস থেকে ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহ নির্মাণ ঋণ দিচ্ছে সরকার।

৩. গাড়ি কেনার জন্য উপ-সচিব পর্যায়ে ঋণ দিচ্ছে সরকার। গাড়ি কেনা বাবদ ৩০ লাখ টাকা স্বল্প সুদে ঋণ ও প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা পরিচালনা ব্যয় পাচ্ছেন তারা। এখন পর্যন্ত ১৮৬০ জন উপ-সচিব মর্যাদার কর্মকর্তারা এই সুবিধা গ্রহণ করেছেন।

৪. শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্য মাসিক পেনশন ব্যবস্থার পুন:স্থাপন করেছে বর্তমান সরকার। পেনশন বৈষম্য দূর করে সরকার বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার এককালীন পেনশন উত্তোলনকারীদের ১৫ বছর পর আবারো পেনশন সুবিধার আওতায় আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

৫. সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পারিবারিক পেনশন বেসামরিক প্রশাসনের ন্যায় শত ভাগ নিশ্চিত করেছে বর্তমান সরকার। পূর্বে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা মাত্র ৩০ শতাংশ হারে পেনশন পেতেন।সরকার সেই বৈষম্য দূর করে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পরিবারকেও শত ভাগ পেনশন সুবিধার আওতায় এনেছে। যার ফলে ১৮ হাজার ১৮৯টি পরিবার উপকার পাচ্ছে।

৬. সামরিক বাহিনীর জেসিও পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বাড়ি ভাড়া ২০ শতাংশ ভাতা পুন:স্থাপন করেছে বর্তমান সরকার। ইতোপূর্বে জেসিও পর্যায়ে কর্মকর্তাদের প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করায় তাদের বাড়ি ভাড়া ভাতা কর্তন করা হয়। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে এই সামরিক কর্মকর্তাদের বাড়ি ভাড়া ভাতা ২০ শতাংশ পুন:স্থাপন করে। যার ফলে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রায় ৬ হাজার ৫৯৩ জন কর্মকর্তা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

৭. এই সরকার শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে বেসরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের বকেয়া পেনশন পরিশোধ করে দেয়। যা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অন্যতম নজির হয়ে থাকবে। সেই লক্ষ্যে ২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত যেসব শিক্ষক অবসরে গেছেন তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা চিন্তা করে সরকার বাজেটে ৭৫৭ কোটি টাকা বরাদ্ধ প্রদান করে। যার ফলে বেসরকারি স্কুল ও কলেজের ২৩ হাজার ৩২৬ জন শিক্ষক পেনশন সুবিধা পাচ্ছেন।

৮. এই সরকার সবার প্রতি সুনজর দিয়ে একটি সুষম প্রশাসনিক ব্যবস্থা গঠনে বদ্ধপরিকর। এর আগে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের মাসিক ভাতা প্রবর্তন করেছে। বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার, সহকারি কোম্পানি কমান্ডার, প্লাটুন কমান্ডার, সহকারি প্লাটুন কমান্ডারদের মাসিক ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা দেয়া হতো না। তারা মূলত স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করতো। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর চলতি বছরের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের মাসিক ভাতা প্রদান সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করে। এতে করে থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ১১ হাজার ৬৬ জন আনসার সদস্য এখান থেকে আর্থিক সুবিধা পাবেন।

৯. বর্তমান সরকার গ্রাম পুলিশ সদস্যদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে দফাদার ও মহল্লাদারদের ১০ অক্টোবর ২০১৮ থেকে তাদের সম্মানী ৩৪০০ এবং ৩০০০ থেকে ৭ হাজার ও ৬ হাজার ৫শ টাকায় উন্নীত করেছে। এতে করে ৪৫ হাজার ৭১০ জন গ্রাম পুলিশ সদস্য এই সুবিধা পাচ্ছেন।

১০. বিজেএমসিতে কর্মরত ৬১ হাজার ৯৫ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পর্যন্ত বেতন-ভাতা পরিশোধ করে যাচ্ছে সরকার। বাজেটের অপ্রত্যাশিত খাত থেকে তাদের বকেয়া মজুরি ও বেতন পরিশোধ করার বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিটি পরিবার যেন খেয়ে-পড়ে বাঁচতে পারে সেদিকে বিশেষ সুনজর দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ৪০০ কোটি টাকা এবং চলতি বছরে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে সরকার। এছাড়া চলতি বছরের নভেম্বর মাসে আরো বাড়তি ১০০ কোটি টাকা বিজেএমসির কর্মচারীদের জন্য বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে।

১১. আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী বিশেষ করে এসএসএফ, পিজিআর, ডিজিএফআই, এনএসআই, র‌্যাব এর সকল পর্যায়ের সদস্যরা ঝুঁকি ভাতা পাচ্ছেন। পাশাপাশি বিজিবি, কারারক্ষী, কোস্ট গার্ড এর ১০ম গ্রেড এবং তার নিচের সদস্যরাও নিয়মিত ঝুঁকি ভাতা পাচ্ছেন। এছাড়াও পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও ফায়ার সার্ভিসের ১০ম গ্রেড ও তার নিচের পর্যায়ের সদস্যদেরও ঝুঁকি ভাতা দিচ্ছে সরকার।

১২. সম্প্রতি পুলিশ সদস্যদের সার্বিক পরিশ্রম ও কাজের পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার পুলিশ ইন্সপেক্টরদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দিয়েছে। তারই প্রেক্ষাপটে সরকার চলতি বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর পুলিশ ইন্সপেক্টরদের ঝুঁকি ভাতার পরিবর্তে সারা বছরে এক মাসের সমপরিমাণ অর্থ ঝুঁকি ভাতা হিসেবে প্রদান করছে।

সার্বিক দিক বিবেচনা করলে দেখা যায়, এই সরকার সবচেয়ে বেশি কল্যাণমুখী এবং জনদরদি। বিশেষ করে যারা দিন-রাত পরিশ্রম করে রাষ্ট্রের সেবা করে যাচ্ছেন সেই সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হক আদায়ে সবচেয়ে বেশি সচেষ্ট বর্তমান সরকার। সারা দেশের ১৪ লাখ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কল্যাণে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে এই সরকার। রাষ্ট্র পরিচালনা করতে সরকারকে সাহায্যকারী কর্মচারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা উন্নয়নে এই সরকারের অবদান বলে শেষ করা যাবে না। শুধু সরকারি কর্মচারী নয় বরং দেশের ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। এই সরকারের আমলে মানুষ পেয়েছে অর্থনৈতিক মুক্তি ও সমৃদ্ধি এবং সম্মান। সুতরাং সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে এবং বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ এবং মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বার বার এই সরকারে প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *