Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ সাংসদের তদবীর বলে কথা, সাজাপ্রাপ্ত গ্রেফতারী পরোয়ানাভূক্ত আসামীকে শনিবার রাতে গ্রেফতার করার পর সাজাপ্রাপ্ত এক আসামীকে ছেড়ে দেয়ার জন্য তদবীর করে সাংসদ। সাংসদের তদবীরে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েও অবশেষে আসামীকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ। এঘটনা নিয়ে এলাকায় নানা বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আসামী নুরুজ্জামানকে ছেড়ে দেয়ার জন্য সাংসদের বার বার তদবীরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামী গ্রেফতারকারী এস.আই মোঃ রেজাউল করিম। জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ গোলাম রাব্বানীর কথায় এক সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় থানা পুলিশ। সাজাপ্রাপ্ত আসামী কানসাট বাজারের সরবত আলী ব্যাপারীর ছেলে নুরুজ্জামান কসাই। স্থানীয় ও পুলিশ সুত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার কানসাট গোপালনগর মোড়ের সারোয়ার হোটেলের সামনে থেকে শিবগঞ্জ থানার এস.আই রেজাউল করিমের নেতৃত্বে টহলরত একদল পুলিশ দীর্ঘদিন থেকে পলাতক ও আদালতের সাজাপ্রাপ্ত এবং গ্রেফতারী পরোয়ানাভূক্ত আসামী নুরুজ্জামান কসাইকে গ্রেফতার করে এবং থানা হাজতে নিয়ে যায়। নুরুজ্জামান কসাইকে গ্রেফতারের সময়ই এই প্রতিবেদকের চোখে পড়ে এবং এস.আই রেজাউল করিমের সাথে কথা বলে জানা যায় সে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে। কিন্তু সাজাপ্রাপ্ত এই আসামীকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর শুরু হয় পুলিশের উপর আসামী ছেড়ে দেয়ার জন্য প্রচন্ড চাপ। অবশেষে প্রভাবশালী মহলের এই তদবীরের কারণে সাজাপ্রাপ্ত এই আসামীকে ছেড়ে দেয়া হয়। এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৩ সালে ব্যবসা-বাণিজ্য করার জন্য নুরুজ্জামান কসাই আবু তালেবের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা নেয়। পরে পাওনা টাকা চাইতে গেলে সাজাপ্রাপ্ত আসামী নুরুজ্জামান ২৫ লাখ টাকার একটি চেক দেয় আবু তালেবকে। উত্তরা ব্যাংক কানসাট শাখার দেয়া চেকে উক্ত ব্যাংক এ্যাকাউন্টে কোন টাকা না থাকায় চেকটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ফেরৎ দেন এবং চেক ডিজঅনার সার্টিফিকেট প্রদান করেন। পরে আবু তালেবের স্ত্রী আঁখি তারা বেগম বাদি হয়ে ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রæয়ারী মামলা দায়ের করেন, মামলা নম্বর-৪১৮/১৪। মামলার দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালত গত ২৩/০৩/২০১৭ ইং তারিখে আসামী নুরুজ্জামান কসাইকে এক বছরের কারাদন্ড ও ২৫ লাখ টাকার অর্থদন্ডের রায় ষোষণা করেন। এদিকে ১৯/০৪/২০১৭ইং তারিখে ৬৭২ স্মারকে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন আদালত। গ্রেফতারী পরোয়ানার প্রেক্ষিতে এস.আই রেজাউল করিম শনিবার দিবাগত রাতে সাজাপ্রাপ্ত আসামী নুরুজ্জামানকে গ্রেফতার করে। থানায় নিয়ে যাওয়ার পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এদিকে মামলার দাবি আঁখি তারা বেগম দুঃখ প্রকাশ করে এই প্রতিবেদককে বলেন, ২০১৩ সালে ব্যবসা-বাণিজ্য করার জন্য নুরুজ্জামান কসাইকে আমার ¯^ামী ২৫ লাখ টাকা দেয়। পরে পাওনা টাকা চাইতে গেলে নুরুজ্জামান ২৫ লাখ টাকার একটি চেক দেয়। কিন্তু ব্যাংকে তার কোন টাকা না থাকায় গত ২৪/১২/২০১৩ ইং তারিখে চেকটি ডিজঅনার বলে ফেরৎ দেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পরে বাধ্য হয়ে আদালতে গত ১৯/০২/২০১৪ তারিখে মামলা করি, যার নম্বর-৪১৮/১৪। মামলার দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালত গত ২৩/০৩/২০১৭ ইং তারিখে আসামী নুরুজ্জামান কসাইকে এক বছরের কারাদন্ড ও ২৫ লাখ টাকার অর্থদন্ডের রায় ষোষণা করেন। তিনি আরো বলেন, আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় আদালত গত ১৯/০৪/২০১৭ইং তারিখে আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। কিন্তু পুলিশ দীর্ঘদিন পর আসামী ধরলেও আদালতের রায়ের প্রতি বৃদ্ধাআঙ্গুলী দেখিয়ে ও অজ্ঞাত কারণ এবং অপারগতা প্রকাশ করে আসামীকে ছেড়ে দিয়েছে। এ ব্যাপারে এস.আই রেজাউল করিম বলেন, আসামীকে ছেড়ে দেয়ার জন্য এমপি মহাদয় কল দিয়েছিলেন। তারই কথাতে আসামী ছেড়ে দেয়া হয়। তিনি আরো বলেন, এমপি মহাদয়ের কথার কারণে আমি নিরুপায় হয়ে গেছিলাম। বিধায়, আমি আসামীকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছি। সাজাপ্রাপ্ত আসামী ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ হাবিবুল ইসলাম হাবিব জানান, আমি এবিষয়ে কিছুই জানি না। আসামী গ্রেফতারের পর ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানানো হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *