Sharing is caring!

সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী স্বীকৃত

যুদ্ধাপরাধী গাজী নজরুলকে প্রতিহতের আহ্বান

নিউজ ডেস্ক: স্বীকৃত যুদ্ধাপরাধী সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালিগঞ্জ, আংশিক) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছেন ওই আসনের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। বিভিন্ন সূত্রের খবরে জানা গেছে, এই আসনে একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী, ছাত্র সংঘের সদস্য, একাত্তরে হানাদার বাহিনীর দোসরকে মনোনয়ন দেয়ায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, বিএনপির নীলনকশা বাস্তবায়নে পাকিস্তানপন্থী যুদ্ধাপরাধীদের নির্বাচনে মনোনীত করে দেশের সার্বভৌমত্বে যে আঘাত হানছে তা সাতক্ষীরা-৪ আসনের সচেতন নাগরিকরা মেনে নেবে না।মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় সাতক্ষীরায় ‘রাজাকার বাহিনী’ গঠন করা হয় নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে। তার নেতৃত্বেই বাঙালি মুক্তিকামী জনতাকে অমানবিক নির্যাতন করা হতো। এমনকি তৎকালীন সাতক্ষীরা সদর মহকুমা এলাকায় মানবতাবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সংঘটিতে করার নেপথ্যে ছিলেন এই জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম। তিনি সাতক্ষীরাবাসীর কাছে একজন স্বীকৃত যুদ্ধাপরাধী, ছাত্র সংঘের সদস্য, একাত্তরে হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে পরিচিত। প্রাপ্ত তথ্যমতে, মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছাত্রসংঘের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং আলবদর বাহিনীর সদস্য হিসাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছিলেন।

এ প্রসঙ্গে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাতক্ষীরা জেলার আহ্বায়ক আশেক এলাহী বলেন, ‘গাজী নজরুল ইসলাম জেলা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারপর থেকেই এলাকায় সহিংসতা, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপরাধে তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি মনোনীত করেছেন। যা জাতির জন্য লজ্জার। এ নিয়ে সাতক্ষীরাবাসীর মধ্যে তীব্র ঘৃণ্য মনোভাব বিরাজ করবে। সাতক্ষীরাবাসীর পক্ষ থেকে আমি তাকে প্রতিহত করার আহ্বান জানাচ্ছি।

শুধু তাই নয়, যুদ্ধাপরাধী জামায়াত এই নেতা ১৯৯১ থেকে ৯৬ সাল এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এসময় তার নির্দেশনায় সাতক্ষীরায় সংখ্যালঘুদের ওপরে হামলার ঘটনা ঘটে অহরহ। তার কর্মী দ্বারা নির্যাতিত-নিপীড়িত হয়ে সাতক্ষীরার অধিকাংশ সংখ্যালঘু দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। তাই সাতক্ষীরাবাসী সেই অন্যায়-অত্যাচার রুখে দিতে গাজী নজরুলকে প্রতিহত করতে একাট্টা অবস্থান নিয়েছেন। স্থানীয় তরুণ-প্রবীণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাজী নজরুল ইসলামকে ভোটের মাধ্যমে প্রতিহত করতে প্রস্তুত তারা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *