Sharing is caring!

আসলাম আহমদ \ চলছে চৈত্র মাস। আর কিছুদিন পর শেষ হবে বাংলা মাস। শুরু হবে বৈশাখ। নতুন বছরকে সামনে রেখে ঘরে ঘরে তৈরি হবে বাংলার সব মুখোরোচক খাবার। পিঠা, ক্ষীর, মিষ্টি, নাড়–সহ আরো কত রকম খাবার তৈরি করবেন গৃহিনীরা তার কোন হিসেব নেই। তাই বাড়ির কর্তারা এখন থেকেই করে নিচ্ছেন সব রকম বাজার। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফিল্টের হাটে হাট করতে আসা শেখ টোলার মাহবুবকে ব্যাগ নিয়ে ঘুরতে গেখে প্রশ্ন করলাম কি হাটে কিনলেন, উত্তরে মাহবুব জানান, সামনে আসছে পহেলা বৈশাখ। বাড়িতে নানা রকম পদের রান্না হবে। তৈরি হবে পায়েস ক্ষীর। সে জন্য হাটে গুড় কিনতে আসছি। হাটে কয়েকজন গুড় বিক্রাতার সাথে কথা হলে তারা জানান, আঁখ মানে কুশরের গুড় ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দীর্ঘদিন থেকে মহারাজপুর ফিল্টের হাটে গুড় বিক্রি করছেন নাম ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বৃদ্ধ। তিনি জানান, প্রতি হাটেই হামি গুড় বেচি এঠে করে। ব্যাচা বিক্রি ভালোই হয়। বৈশাখের জন্য আঁখের গুড়টা বেশি বিক্রি হচ্ছে। গুড় দিয়ে তৈরি হয় নানা রকম মখরোচক খাবার। গুড় তৈরি থেকে শেষ পর্যন্ত অনেক পরিশ্রম করতে হয়। কি ভাবে গুড় তৈরি হয়? প্রথমে আঁখের বা খেজুরের রস একটি বড় খোলা পাত্রে ছেঁকে রাখা হয়। পরে বড় একটি চুলায় তা জ্বাল দিতে হয়, এতে জলীয় অংশ বাষ্প হয়ে যায়। ধীরে ধীরে রসের রং লালচে হতে শুরু করে। অবশেষে গুড় তৈরি হয়। এ রসকে গুড় না বানিয়ে চিনিও বানানো যায়। গুড় চিনির থেকে কম মিষ্টি হলেও বেশি পুষ্টিকর। চিনির জন্য দুবার ফোঁটালে ঘন কালচে একটু তিতকুটে ভেলি গুড় (ংবপড়হফ সড়ষধংংবং) পড়ে থাকে। আরো বেশি বার চিনি বের করে নিলে থাকে চিটে গুড় (ইষধপশংঃৎধঢ় সড়ষধংংবং), যার মধ্য প্রচুর ভিটামিন থাকলেও তেতো বলে সাধারণত গরুকে খাওয়ানো হয়। আমাদের দেশের গুড় দিয়ে পিঠা, পায়েস ইত্যাদি সু¯স্বাদু নাস্তা তৈরি করা যায়। গুড়ের সন্দেশ এদেশে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় মিষ্টান্ন খাবার বলে বিবেচিত হয়ে আসছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *