Sharing is caring!

সিরামিক রফতানিতে অভাবনীয় সাফল্য

দিন দিন দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বিশ্ববাজার দখলে নিয়েছে বাংলাদেশে তৈরি বিভিন্ন সিরামিক পণ্য। আর এ সিরামিক পণ্যের মধ্যে টেবল পণ্যেরই এখন বিদেশের বাজারে ব্যাপক চাহিদা। এসব টেবল পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১৫০ থেকে ২৫০টি ধরন। পাশাপাশি এইচঅ্যান্ডএম ও মার্কসের মতো নামীদামী বিদেশি ব্র্যান্ডের অর্ডারও নেওয়া হচ্ছে দেশীয় সিরামিকস কারখানায়। এসব সিরামিকসের পণ্য রপ্তানি করে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে সিরামিক কারখানাগুলো।

ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্তত ৪০টি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে বাংলাদেশে তৈরি এসব সিরামিক পণ্য। বিশেষ করে চীনের হাতে থাকা বিশ্ববাজার এখন বাংলাদেশি সিরামিকস দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সরকারিভাবে বিশেষ নজরদারি থাকায় সিরামিকসের বিশ্ববাজার পুরোটাই দখলে নিয়ে আসার অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ৫ কোটি ৬৫ লাখ মার্কিন ডলারের সিরামিক পণ্য রফতানি হয়েছে যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২৭ শতাংশ বেশি।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে রফতানির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের ৮ মাসে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।  অথচ এই সময়ে ৫ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৫১ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি রফতানি হয়েছে।

সিরামিক পণ্য রফতানির উচ্চ প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) সাধারণ সম্পাদক ও ফার সিরামিকস্‌ লিমিটেডের পরিচালক ইরফান উদ্দিন জানান, বিশ্ববাজারে সিরামিকের শীর্ষ বাজার দখলকারী দেশ হচ্ছে চীন। বিশেষ করে ইউরোপের বাজারে তাদের একচেটিয়া প্রভাব। কিন্তু তাদের সে জায়গা আমরা দখল করে নিচ্ছি। কারণ চীন আগে ইউরোপের বাজারে ১২ শতাংশ শুল্ক দিয়ে সিরামিক পণ্য রফতানি করত। কিন্তু চীনের পণ্যের জন্য শুল্কের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন তাদেরকে বেশি শুল্কে পণ্য রফতানি করতে হচ্ছে। এতে চীনের সিরামিক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে আগের চেয়ে অনেক। এ কারণে ইউরোপীয় ক্রেতারা কম দামে সিরামিক পণ্য কিনতে বাংলাদেশের বাজারে ঝুঁকছেন। কেননা বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে সিরামিক পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে থাকে। তিনি মনে করেন, এসব কারণে বাংলাদেশের সিরামিক শিল্পের সামনে বিরাট সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সিরামিক শিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, বিদেশ থেকে নিয়মিত কার্যাদেশ পাওয়ায় সিরামিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন কাজ চলছে পুরোদমে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এক বছরের কার্যাদেশ পেয়েছে। ফলে নতুন নতুন অনেক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করছে এ শিল্পে। আর পুরনো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ইউনিটের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। এভাবে দেশের সিরামিক শিল্প দিন দিন সমৃদ্ধ হচ্ছে। আগামীতে দেশের শীর্ষ তিন রফতানি খাতের মধ্যে সিরামিক শিল্প জায়গা করে নেবে বলে তারা আশা করছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *