Sharing is caring!

মহাবিশ্বের শ্রষ্টার প্রতি ভক্তি বা ভালোবাসাকে মানবজাতি যে নজরেই দেখুক না কেন, তাকে কি মানুষের প্রেমের সর্বোত্তম প্রতিভাসের বহিঃপ্রকাশ হিসাবে ব্যাখ্যার সুযোগ থাকেনা? হোক না ¯্রষ্টা বা ঈশ্বর, ভগবান বা আল্লাহ, জাতিতে হিন্দু বা মুসলিমদের, জৈনের বা খ্রিস্টানের, পরমাত্তায় বিশ্বাসীদের বা একেশ্বর বাদীদের, বহুশ্বরবাদীদের বা নিরীশ্বর বাদীদের, সর্বেশ্বর বাদীদের বা পৃথিবীর সকল আস্তিক বা নাস্তিকবাদীদের হৃদিপদ্মে বিরাজ করে শুধুই এক শ্রষ্টা, কিন্তু ডাকা হচ্ছে বিভিন্ন নামের মাধ্যমে এবং ধর্মীয় পরিচয়ে। তাঁর প্রতি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের ভক্তি প্রকাশের ভাষাটি ভিন্ন হতেই পারে কিন্তু প্রেমের গভীরতাটুকুকে তুলনা করে কাউকে আঘাত দিতে চাওয়াটাই হবে চরম ভুল।
সাধক সন্ন্যাসীর জীবন কাহিনীর সমš^য়ে তাঁদেরই গভীর আত্মার প্রেম ও ভালোবাসা কতটুকু সমৃদ্ধ বা শক্তিশালী তা গভীর ভাবে অভিনেতা ও নাট্যকার নজরুল ইসলাম তোফা তাঁর রচিত নাটকে তুলে ধরেছেন। সাধুরুপী আধ্যাতিক চেতনার পুরুষ সাধন ভজনের ল¶ে এক গ্রামে প্রবেশ করলে সৃষ্টি হয় অনেক ঘটনা। সে গ্রামের এক মেয়ে সেই আধ্যাতিক সাধক পুরুষের কর্মকান্ডে হয়ে উঠে সাধন ভজনে বিভোর। কারণ মেয়েটি ছিল কীর্ত্তনিয়া অর্থাৎ কীর্ত্তন গান করে সেহেতু সাধুজীর আধ্যাতিক ভক্ত হয়ে উঠেন।
আধ্যাতিক আসলে কি? তা জানা যাবে এই নাটকে। সামান্য একটু ধারনা দিয়ে পরিচালক শিমুল সরকার বলেন, দৃষ্টি, শ্রবণ, ঘ্রাণ, ¯^াদ ও স্পর্শ এই পাঁচ ইন্দ্রিয় শক্তির বাইরেও কিছু ঘটনা ঘটে থাকে মানব জীবনে। ¯^াভাবিক বুদ্ধি বা কার্য-কারণ তত্ত্ব দিয়ে তার বিশ্বাস যোগ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। কিন্তু মানব জীবনে এরকম বহু ঘটনা ঘটে। যেমন: একজন ¯^প্নে দেখেছেন, তিনি মরা মানুষ জীবিত করতে পারেন; কেউ কেউ রাতের অন্ধকারে গায়েবি আওয়াজ শুনতে পান; কারো কারো নজর লাগে বা মুখ লাগে যার ফলে অন্যের ¶তি হয়; কেউ কেউ ভবিষ্যতে কোথায় কি ঘটবে তার পূর্বাভাস পান, ইত্যাদি। এরূপ ঘটনা পাঁচ ইন্দ্রিয় শক্তি বা ¶মতার বাইরে। তাই এসবের নামই অতীন্দ্রিক বা আধ্যাত্মিক ঘটনা।
বিশ্বের বিভিন্ন সমাজে বহু উদাহরণ আছে যারা এসব আধ্যাত্মিক বা অতীন্দ্রিক চর্চা করে সফল হন। তারা সমাজে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হন। এই উপমহাদেশে সভ্যতার উষালগ্ন থেকে আধ্যাত্মিক বা অতীন্দ্রিক চর্চা হয়ে আসছে। সাধু-সন্ত-সন্যাসী, আউল-বাউল, পীর-ফকির, আউলিয়া-কুতুব-দরবেশ, মরমি-সুফি, ভি¶ু-শ্রমণ, পুরুত-ঠাকুর, তান্ত্রিক-যোগী-পরমহংস ¤্রমুখ পদ-নাম এর সঙ্গে জড়িত। এঁরা অতীন্দ্রিক বা আধ্যাত্মিক কেরামতি প্রদর্শনের মাধ্যমে যুগে যুগে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন, যার যার ধর্ম বা আদর্শিক মতবাদ প্রচারের কাজ করেছেন এবং ভক্তি-শ্রদ্ধা কুড়িয়েছেন।
আবার জাদুকর, ডাকিনী, গুণিন, ওঝা, বৈদ্য, বাজিকর প্রমুখ ঝাড়ফুঁক, জাদু টোনা, বান মারা, বশ করা, ভুত ছাড়ানো প্রভৃতি তেলেসমাতি দেখিয়ে লোকজনকে বশীভূত বা সম্মোহিত করে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করেন। আর যারা ব্যর্থ হন তারা উন্মাদ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও লাঞ্চনা-গঞ্জনার শিকার হন। বলা বাহুল্য, ধর্ম সম্বন্ধে আমাদের অজ্ঞতা, কুসংস্কার এবং গোঁড়ামিই তাদের মত ধোঁকাবাজদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবার সুযোগ করে দেয়।
এই নাটকের নাটকীয়তায় রয়েছে চরম আধ্যাতিক বিনোদনে ভরপুর। পরিচালক শিমুল সরকার এই নাটক নির্মাণে কোথায়ও রাখতে চান না এতটুকু মেকি ক্লাইমেকস্। প্রেম ভালোবাসার মধুর হাঁসিতে, জন্মের পর যখন প্রথম কাঁদি–সেই কান্নায়, পাহাড়ের ঝর্নায় বহমান ধারায়, সমুদ্রের উথাল পাথাল ঢেউ-এ, পাখীর ডাকে, কীর্ত্তনীয়া নারীর কীর্ত্তন গানের সুরে, দ¶ীনা বায়ুপ্রবাহে আন্দলিত বৃ¶পত্রের মর্মরধ্বনিতে, বৃষ্টির বর্ষণে, বিশ্বপ্রকৃতির মাঝে সর্বত্র ¯^ত:সিদ্ধ হয়ে উঠে এই নাটক, সর্বদা বিদ্যমান রয়েছে চিত্রনাট্যের সুনিপুণ নির্মাণ। চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় আছেন, সুদ¶ নির্মাতা শিমুল সরকার।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *