Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ কয়েকদিন ধরেই টানা হিমেল হাওয়ায় এমনিতেই ঝেঁকে বেসেছে শীত। তার উপর আবার সূর্য্যরে দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও দেখা মিলে, তাও আবার দুপুরের পর। তাতেও আবার থাকেনা তাপ। সব মিলিয়ে জেলার এবছর তাপমাত্রা অনেক কমে। তবে জেলায় কোন আবহাওয়া অফিস না থাকায় সঠিকভাবে বলা সম্ভব হয় না তাপমাত্রার বিষয়টি। এই কনকণে শীতে জনজীবন একেবারেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে দরিদ্র অসহায় মানুষগুলো। যারা দিন আনে, দিন খাই, তারা কাজও পাচ্ছে না ঠিকমত। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকটায় বেকায়দায় পড়েছেন এসব মানুষগুলো। একদিকে যেমন কাজের অভাব, অন্যদিকে কনকণে শীতে কাজও ঠিকমত করতে পারছেনা শ্রমিকরা। দরিদ্র মানুষদের নেই, ভালো গরম কাপড়, নেই অর্থও। শীত নিবারণ করার জন্য খড়-কুটো, কাগজ কুড়িয়ে আগুন জ্বালিয়ে কোনভাবে সময় কাটানো। ঘরে বসে খাবার তৈরী করে লেপকাঁথা মুড়ি দিয়ে থাকারও উপায় নেই তাদের। যত কষ্টই হোক না কেন, ঘরে বাইরে এসে কাজ করতেই হচ্ছে দরিদ্র মানুষদের। সবচেয়ে কষ্ট হচ্ছে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের। এই শীতে সাধারণ মধবিত্ত পরিবারের শিশুরাই কষ্ট করে যাচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু অনেক দরিদ্র পরিবারের শিশুই যেতে পারছেনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ঠান্ডাজনিত রোগের ভয়ে এসব শিশুদের ঘরের বাইরে পাঠাতে ভয় হচ্ছে অভিভাবকদের। কষ্ট মায়েদের কম নয়, সকালে শীতের মধ্যে বিছানা ছেড়ে পরিবারের উপর্জনক্ষম মানুষটির জন্য খাবার তৈরী এবং শিশুদের স্কুলে পাঠানোর জন্য তাদেরও খাবার সঠিক সময়ে তৈরী করে দিতে হচ্ছে। কনকণে ঠান্ডা পানিতে হাত দিলেই যেন, হাতটা একটা ধারোলো ব্লেডে কেটে যাওয়ার মত মনে হয়, এমনই পানিতে সকালে কুয়াশার মধ্যেই কনকণে পানি দিয়ে কাজ করছেন মেয়েরা। যদিও ইতোমধ্যেই অনেক শিশুই ঠান্ডা, জ্বর, সর্দি, কাশিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এদিকে, কষ্ট ভোগ করছেন রিক্সাচালক, অটোরিক্সাচালক, মিশুক চালক, ভ্যান চালকসহ ছোট যানবাহন চালানো মানুষগুলো। কনকণে শীতের মধ্যেও যাত্রীদের নিয়ে বের হতে হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের ব্যয়ভার মেটাতে উপার্জনের জন্যই এই শীতে কষ্টে কাজ করতে হচ্ছে। তাই এসব মানুষদের শীত নিবারণের জন্য দরিদ্র অসহায় মানুষকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসতে হবে সমাজের বিত্তবানদের। তাহলে হয়তো কিছুটা ¯^স্তি পাবে এসব মানুষগুলো। এব্যাপারে জেলা ¯^াধীন সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক তুফান বলেন, বর্তমানে শীতের যে অবস্থা, তাতে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ও দরিদ্র মানুষদের অবস্থা অনেকটায় করুণ। দু-বেলা খাবার জোটায় যাদের সমস্যা, তাদের ভালো গরম কাপড় কেনার পয়সা কোথায়। কোনভাবে আগুন জ্বালিয়ে ছেঁড়া লেপ-কাঁথা জড়িয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করে দিন কাটাচ্ছেন অসহায় মানুষরা। এসব মানুষের পাশে এখনই বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। কৃষক মোজাম্মেল হক জানান, এসময় বোরো আবাদের জন্য বীজতলায় পানি দেয়া বা অন্যান্য কৃষি করার জন্য কনকণে শীতে ঘরে থেকে বের হওয়ায় দায় হয়ে পড়েছে। শীতে ও কুয়াশায় বিভিন্ন রবি ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। দিনে সুর্য্যরে তাপ না থাকায়ও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। পানিতে হাত ঠেকানোই যাচ্ছে না। ঠান্ডায় ঠিকমত কাজও করতে পারছিনা। তাপটা একটু বাড়লে কোনভাবে বাঁচি। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ইতোমধ্যেই দরিদ্র অসহায় শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মঞ্জুরুল হুদা জানান, কিছু রবি শষ্য যেমন, গম, আলু, মশুর, এমন রবি ফসলের জন্য ঠান্ডা আবহাওয়া প্রয়োজন। জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আমের জন্যও শীত প্রয়োজন। জেলায় সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এমন তাপমাত্রায় ফসলের তেমন একটা ক্ষতি হওয়ার আশংকা নেই। এবছর অবশ্য শীত বেশী। তাপমাত্রা অনেকটায় নীচে। নিম্ন তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী হলে সমস্যা হতে পারে, তবে ৪/৫ দিন বা ৭দিনে কোন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বোরো বীজ তলায় ক্ষতি যেন না হয়, সেজন্য কৃষকদের বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, শিশির ঝরিয়ে ফেলা, আলুতে স্প্রে করাসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে কনকণে শীতে ও ঠান্ডা হাওয়ায় সাধারণ ও দরিদ্র মানুষদের কষ্ট হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ফসলের খুব একটা ক্ষতির আশংকা করছেনা কৃষি বিভাগ।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *