Sharing is caring!

সেই একই বৃত্তে তারা

১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে বিএনপি। দেশের মানুষ তো বটেই, বহিঃবিশ্বের লোকেরাও তাদের নানান অপকর্ম ও সুযোগসন্ধানী রাজনীতিতে বিরক্ত, অতিষ্ঠ। তবুও কি টনক নড়ছে দলটির? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে কেবলই হতাশার চিত্র উঠে আসে।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হয়। এরপর থেকেই বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা বাড়তে থাকে। সেই সংসদে তাদের উপস্থিতিও ছিল অতি সামান্য। খোদ খালেদা জিয়া মাত্র ১০ দিন সংসদে উপস্থিত ছিলেন।

তখন বিএনপি হুমকি দিয়েও রাজপথে নামার শক্তি পায়নি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের মতো অসাংবিধানিক দাবি নিয়ে কিছুদিন কথা বলে, উচ্চ আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনর্বহালের দাবিতেও সভা-সমাবেশ করে। কিন্তু জনসমর্থনের অভাবে কোনো কিছুই করতে পারেনি।

চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলে বিএনপি সরাসরি এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। মূলত, জামায়াতের সাথে তাদের সম্পর্ক অচ্ছেদ্য, যা স্বার্থসংশ্লিষ্টও। কিন্তু লাভ হয়নি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। অন্যদিকে হাস্যকর সব দাবিতে বছরজুড়ে সারাদেশে চলতে থাকা বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতায় নিহত হয় অর্ধ হাজারেরও বেশি মানুষ।

দশম জাতীয় সংসদের প্রাক্কালে ২০১৩ সালের শেষে বিএনপি ও তাদের জোট অবরোধ দেয়, কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পরে শুধু ডিসেম্বরের শেষ ১৬ দিনে সহিংসতা চালিয়ে ৩৪ জনকে হত্যা করে। সেই অবরোধ প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক কোন ঘোষণা আজও আসেনি।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় জোটটি। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করার পরও বিএনপি নির্বাচনে আসেনি; বরং নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে পেট্রোল বোমায় নিরীহ মানুষ, শিশু, বাসযাত্রী, নারীদেরকে হত্যা করে। হাজার হাজার গাড়িতে আগুন দেয়। নির্বাচন কমিশনে দল হিসেবে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাওয়ায় জামায়াতের সহিংসতা আরও বিধ্বংসী রূপ নেয়। সেখানে পূর্ণ প্রত্যক্ষ সহযোগিতা দেয় বিএনপি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর জাতি এমন সহিংস তাণ্ডব কখনও দেখেনি।

বিএনপি-জামায়াত জোটের অব্যাহত হুমকির মুখেও জনগণ নিরঙ্কুশ ভোটে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির হাত ধরে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে।

তবুও বিএনপির সন্ত্রাস ও ভণ্ডামির রাজনীতির শেষ হয় না। নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে আসার পরেও চলছে তাদের গলাবাজি ও মিথ্যার রাজনীতি। মিথ্যার মধ্যেই তো তাদের রাজনীতি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *