Sharing is caring!

সৈয়দপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু চিপস

নানা রঙে ও সাইজের  সুস্বাদু চিপস তৈরির বড় মোকাম গড়ে উঠেছে উত্তরের বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায়। প্রায় ৫০টির মতো কারখানায় দিনেরাতে তৈরি হচ্ছে মজাদার চিপস। এসব চিপস স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়াসহ দেশের প্রায় সর্বত্র পাঠানো হচ্ছে।

কিন্তু এসব চিপসে ব্যবহার করা হচ্ছে অতি নিম্নমানের ময়দা, লবণ, অ্যারারোট, বেকিং পাউডার, অ্যামোনিয়া বাই কার্বনেট, সোহাগা ও এক ধরনের ফার্টিলাইজার। এসব কারখানার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফুড কালার ব্যবহার না করে কেমিক্যাল রং ব্যবহার করা হচ্ছে। কারণ এই ফুড কালার রঙের প্রতি কেজির দাম প্রায় আট হাজার টাকা। ময়দার খামির করা হচ্ছে পা দিয়ে। ফলে শরীরের ঘাম ও ময়লা মিশে যাচ্ছে চিপসের সঙ্গে। তৈরির পর খোলা স্থানে শুকানোর কারণে পশু-পাখির বিষ্ঠাসহ ময়লা-আবর্জনা উড়ে পড়ছে চিপসে। হাতের স্পর্শে ডিজাইন ও রঙের চটকদারিতার কারণে সহজে ক্রেতা আকর্ষণ করে থাকে এ ধরনের চিপস।

কারখানায় এসব চিপস বিক্রি হয় প্রতিকেজির প্যাকেট ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। খুচরা দোকানিরা এসব কিনে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি করছেন। খুব সহজে অতিথি আপ্যায়নে এসব ব্যবহার করছেন কেউ বুঝে কেউবা না বুঝে। এতে করে শরীরে নানা রোগ-বালাইয়ের সৃষ্টি হচ্ছে।

সৈয়দপুর একশ শয্যা হাসপাতালের সাবেক আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ও বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত ডা. সিরাজুল ইসলাম জানান, এসব চিপস স্বাস্থ্যের জন্য মোটেই উপযোগী নয়। কেমিক্যাল রং ও অন্যান্য নিম্নমানের উপকরণের কারণে পেটের পীড়াসহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এসব পরিহার করা স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রায় বছরখানেক আগে এসব চিপস কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ জরিমানা করে কয়েকটি কারখানাকে সতর্ক করে দেন। কিন্তু তারপরেও এসব কারখানায় নিম্নমানের চিপস তৈরি অব্যাহত রয়েছে এবং তৈরিকৃত চিপস দেদার বাজারজাত করা হচ্ছে।

সৈয়দপুরের ম্যারাডোনা চিপস কারখানার মালিক আলহাজ জুবায়ের আলম, রুচি চিপসের মালিক আহমেদ, যমুনা ব্রেড ও চিপসের মালিক অমিত কুমার, অপর একটি কারখানার মালিক সুলতান খান ঢেনু জানান, চিপস কারখানার কারণে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখানে যে চিপস তৈরি হচ্ছে তা সরকারি নিয়ম-কানুন মেনে করা হচ্ছে। তারা চিপস তৈরির আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহে সরকার ও ব্যাংকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এতে করে এখানকার অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে যাবে বলে মন্তব্য করেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *