Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর। আর এই বন্দরে রয়েছে ৩১টি শ্রমিক সংগঠন নিয়ে গঠিত শ্রমিক সমš^য় কমিটি। এই সমš^য় কমিটির নেতৃত্বে স্থলবন্দরে চলছে বিভিন্নভাবে চাঁদাবাজি। এই চাঁদাবাজির টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে চলছে উত্তেজনা। কয়েকদিন ধরেই চলা উত্তেজনা বর্তমানে চরম দ্ব›েদ্ব রূপ নিয়েছে। যে কোন সময় দূর্ঘটনা ঘটার আশংকা করছেন স্থানীয়রা ও সাধারণ শ্রমিকরা। বন্দর ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সোনামসজিদ স্থলবন্দর শাখা জাতীয় শ্রমিকলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে স্থলবন্দর শ্রমিক সমš^য় কমিটির বেপরোয়া চাঁদাবাজি এখনো চলছে। এই বন্দর শ্রমিকদের ঘামঝরা টাকায় ভাগ বসাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। আর খরচের নামে এই ভাগ বুঝিয়ে দেয়ার জন্য শ্রমিক নেতাদের কাছে তদ্বির করেন উপজেলার ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। দলীয় কর্মীদের খরচ জোগাতে এই ভাগ দেয়ার কথা বললেও চাঁদাবাজির ভাগের টাকা নিয়ে হচ্ছে দলীয় খরচের বদলে ভাগবাটোয়ারা। দলীয় কর্মীদের খেসারত দিতে গিয়ে নায্য মুজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ শ্রমিকরা। অফিসের খরচ নামে চাঁজাবাজি অংশ নিয়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দর শাখা যুবলীগের দু’গ্রæপের মধ্যে উত্তেজনা ও বাক-বিতন্ডা হয়েছে বলে যুবলীগের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। চাঁজাবাজি অংশ পেতে মঙ্গলবার সকালে শ্রমিক সমš^য় অফিসে গিয়ে যুবলীগের নেতারা সমš^য় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোবারক হোসেনের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনা নিয়ে বন্দরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। জানা গেছে, যেখানে সাধারণ শ্রমিকদের ঠিকমত পরিবারের খরচের টাকা জোটেনা। সারাদিন কাজ করার পর যে টাকা পায় শ্রমিকরা, তা দিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সাধারণ শ্রমিকরা। সেখানে সাধারণ শ্রমিকদের প্রাপ্ত মুুজুরি না দিয়ে নামে-বেনামে টাকা কেটে স্থলবন্দর এলাকার স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলীয় নেতাদের দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এই খরচের নামের টাকা দিয়ে আনন্দ উল্লাসে ভেসে যাচ্ছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। বেশী উল্লাসের কারণে আবার নিজেদের মধ্যে শুরু হয়েছে দ্ব›দ্ব। যেন একে অপরের সুখ দেখতে না পারার মত। এব্যাপারে যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, ২০০৪ সালে সোনামসজিদ স্থলবন্দর শাখা যুবলীগের কমিটি অনুমোদন হয়। সে সময় আমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। কমিটির মেয়াদ পার হলেও নতুন করে কোন কমিটি হয়নি। তিনি আরো জানান, যুবলীগ অফিস কক্ষটি আখিরুল ইসলামের নিজ জমিতে হওয়ায় আমরা নতুন করে অফিস করেছি। আর অফিসের খরচ হিসেবে শ্রমিক সমš^য় কমিটি কিছু অনুদান দিতো এবং এখনো তা দেন। কিন্তু ঈদের পরে ভাগবাটোয়ার অংশের যে টাকা দেয়া হতো, হঠাৎ করে শ্রমিক সমš^য় কমিটির সেক্রেটারি তা বন্ধ করে দেয়। আর এই ভাতা আখিরুলকে দিতে হবে বলেও জানায়। কর্মীদের জনসমর্থন যেদিকে বেশি, আমরা সেদিকেই আছি। আমাদের বেশি জনসমর্থন থাকায় যুবলীগের অফিস আলাদাভাবে করেছি। আর আখিরুল ইসলামেরা মাত্র তিনজন নিয়ে অফিসে আছে। তারপর আখিরুলকে অফিস খরচ দিতে হবে বলে আমাদের বঞ্চিত করছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানী যুবলীগ অফিস চালাতে শ্রমিক সমš^য় কমিটি থেকে যেভাবে খরচ নিতে বলেছেন, আমরা সেই ভাবে-ই নিয়ে যাচ্ছি। অন্যদিকে, সে সময়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, শ্রমিক সমš^য় কমিটি আমাদের অফিস খরচ হিসেবে যে টাকা দেয়, তা আখিরুল দিতে নিষেধ করে তার ভাই শ্রমিক সমš^য় কমিটির সেক্রেটারি মোবারক হাজ্বিকে। পরে আমরা এমপি গোলাম রাব্বানী মহাদয়ের স্মরণাপন্ন হই। তখন এমপি মহাদয়ের ছেলে আলহাজ্ব আহমেদ ইমতিয়াজ শিশিরের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। আখিরুলের বাহিনী আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে বলেও জানাই। আলোচনা শেষে শিশির আমাদের এই খরচের বিষয়টি সমাধান করে দেয়। শিশিরের করে দেয়া সমাধানের অংশ হিসেবে বর্তমানে অফিস খরচের টাকা দেয় শ্রমিক সমš^য় কমিটি। তিনি আরো বলেন, আখিরুল সাহেবের কথায় আমাদের খরচ বন্ধ করে দেয় সেক্রেটারি মোবারক হাজ্বি। কিন্তু সভাপতি সাদেকুর মাস্টারের উপস্থিতিতে এঘটনা ঘটে না। পরে আমাদের অফিস খরচ দিয়ে দেন শ্রমিক সমš^য় কমিটির সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টার। আমরা সেই টাকা নিয়ে অফিসে চলে আসি এবং পরবর্তীতে এঘটনার বিষয়ে শিশিরকে অবহিত করি। তিনি আরো বলেন, এই বন্দরে যে কোন সময় বড় ধরণে দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই আমরা দুশ্চিন্তাই রয়েছি। বিষয়টির স্থায়য় একটা সুষ্ঠু সমাধান চাই আমরা। এছাড়া, কমিটির মেয়াদ দীর্ঘদিন পূর্বেই শেষ হলেও এবং নানা ঘটনার পরও সোনামসজিদ স্থলবন্দর শাখা যুবলীগের সভাপতি দাবিদার আখিরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে আমি যুবলীগের সভাপতি হয়ে আছি। বর্তমানে আমিই সভাপতি। আমাদের মধ্যে কোন বিভেদ নাই। আমাদের যুবলীগের অফিস আছে। আমাদের সাথে বিদ্রোহ করে আরেকটা অফিস করেছে সুবিধাভোগি কিছু নেতারা। আর যুবলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ চাঁদাবাজি করবে তা আমি হতে দিবোনা। তিনি বলেন মঙ্গলবার আমি বা আমার দলের কোন ছেলে শ্রমিক সমš^য় অফিসে যাইনি এবং শ্রমিক সমš^য় কমিটির কোন নেতার সাথে কথা বলিনি। আমি একটাই কথা বলতে চাই, যুবলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে কাউকে এই স্থলবন্দরে চাঁদাবাজি করতে দিবো না। এদিকে কমিটির সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টার জানান, আমার অফিসে তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি। আমাদের অফিস থেকে আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনকে অফিস খরচ হিসেবে যে টাকা দেয়া হয়, তা আমরা বণ্টন করে দিই। আমার অফিসে এসে কেউ হোট্টগোন্ডগোল করবে তা হতে দিবোনা। শ্রমিকদের আয়ের টাকা স্থলবন্দরের দলীয় নেতাদের দেন কেন, এমন প্রশ্নোত্তরে সাদেকুর রহমান মাস্টার বলেন, আমাদের উপজেলার সর্বোচ্চ অভিভাবক আওয়ামীলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে দেয়া হয় দলীয় অফিস চালানো জন্য। তবে তিনি দাবি করেন, ওই ৩ অঙ্গসংগঠনকে শতাংশ হিসেবে নয়, অনুদান হিসেবে দেয়া হয়। শ্রমিকদের আয়ের টাকা থেকে এই তিন সংগঠনকে অনুদানের নামে চাঁদার টাকা প্রতিদিন দিতে হয় কেন, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিদিন না দিলেও হয়, তবে নিজেদের পদ ঠিক রাখতে টাকাগুলো দিতে হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *