Sharing is caring!

স্ট্যাম্পে সই নিয়ে মনোনয়ন বিক্রি করে

বিপাকে জাতীয় পার্টি, আদায় হয়নি পুরো অর্থ!

নিউজ ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পর এবার জাতীয় পার্টিতেও মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। লোক-লজ্জা ভুলে জাতীয় পার্টি অনেকটা প্রকাশ্যেই মনোনয়ন বাণিজ্যের অর্থ পরিশোধের জন্য নারী সাংসদকে চাপ সৃষ্টি করায় জাতীয় পার্টির দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলো।জানা গেছে, জাতীয় পার্টির প্রাপ্ত ৪টি সংরক্ষিত নারী আসনেই মাথাপিছু ৫ কোটি টাকা করে দলীয় ফান্ডে অনুদানের নামে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় জনপ্রতি ৫ কোটি টাকা করে পরিশোধ করার জন্য ৪ নারী সাংসদকে দলিলে স্বাক্ষরও করিয়ে নেয় জাপা। তবে প্রফেসর মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী সময় মতো চাঁদা পরিশোধ না করায় তাকে শোকজ করা হয়েছে যার কারণে হইচই শুরু হয়েছে জাপার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে।

জাতীয় পার্টির একটি সূত্র বলছে, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে ৪ জন নারী এই মর্মে তিন’শ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকার নিয়েছে দলটি। চুক্তি অনুযায়ী তিনজন টাকা পরিশোধ করলেও একজন তা করেননি। ফলে তাকে দল থেকে কেন বহিষ্কার করা হবে না তা জানতে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া দিয়েছে জাপা। এনিয়ে দলটির অভ্যন্তরে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও মনোনয়ন বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়ে যেসব গুঞ্জন চলছে তা পুরোপুরি সত্য নয়। তবে ওই ৪ জন নারী সাংসদ পার্টির ফান্ডে কিছু টাকা জমা দিতে চেয়েছিলেন। এতে অনেকেরই আতে ঘা লাগায় বিষয়টি নিয়ে হইচই করছেন। দলের চেয়ারম্যান আমাকে বলেছেন, ১০ দিনের মধ্যে মাসুদা এম রশীদ চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করে দিতে। বহিষ্কার করলে আমরা নির্বাচন কমিশনে (ইসিতে) চিঠি দিয়ে দেব, যেন ওনার সংসদ সদস্য পদ খারিজ করা হয়।

সংরক্ষিত মহিলা আসনে লিখিত চুক্তি করে জাপা মনোনয়ন দেওয়ার ঘটনা নিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা বিব্রত, ক্ষুব্ধ। দলটির চারজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন, এই ধরণের ঘটনা নজিরবিহীন। মনোনয়ন বাণিজ্য কম-বেশি অনেক রাজনৈতিক দলেই হয়ে থাকে, কিন্তু এভাবে লিখিত দলিল করে শর্ত সাপেক্ষে মনোনয়ন দেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদদের জন্য লজ্জার। লিখিত অঙ্গীকার পূরণ না করায় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য প্রফেসর মাসুদা এম রশীদ চৌধুরীকে শোকজ করা এবং অঙ্গীকার পূরণ না করলে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের হুমকির ঘটনা রাজনীতির জন্য কলঙ্কের।

বর্তমান সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে জাপার আরেক এমপি অধ্যাপিকা রওশন আরা মান্নান বলেন, লিখিত অঙ্গীকারে কী আছে কী নেই, সেটি বলব না। আমার সঙ্গে দলের যেই অঙ্গীকার ছিল আমি সেটা পূরণ করে দিয়েছি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *