Sharing is caring!

ইমরান আলী, শিবগঞ্জ থেকে \ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর সোনামসজিদ স্থলবন্দর শাখা জাতীয় শ্রমিকলীগের নাম ভাঙিয়ে স্থলবন্দর শ্রমিক সমš^য় কমিটি বেপরোয়া চাঁদাবাজি করার অভিযোগ উঠেছে। যেন চলছে চাঁদাবাজীর মহোৎসব। ভাগবাটোয়ারা হচ্ছে জামায়াত-বিএনপি নিয়ে গঠিত শ্রমিকলীগ নামধারী সংগঠনের নেতাদের মাঝে। আর এই চাঁদাবাজির নেপথ্যে কাজ করছে সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন অর রশিদ। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে পানামায় ৮০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান থাকলেও এই সমš^য় কমিটির সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টার শ্রমিক প্রতি ২০ হাজার টাকা করে নিয়ে ১ হাজার ৪০০ শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছেন। এমনিতেই বন্দরের শ্রমিকরা তাদের শ্রমের কাক্সিখত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। কিন্তু কিছু অসাধু শ্রমিক পানামায় অনিময় করলে তাকে বন্দর থেকে বের করে দেয় এবং নতুন শ্রমিক নিয়োগ দেয়। সোনামসজিদ স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন করে তথ্য নিয়ে জানা গেছে, সোনামসজিদ স্থলকবন্দর শ্রমিকলীগের ব্যানারে শ্রমিক সমš^য় কমিটির সভাপতি সাদেকুর রহমান ও আলহাজ্ব মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে প্রতি দিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয় জেলা ট্রাক ও মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সনদপত্র দিয়ে। যা এই সনদপত্রে কোন জেলা ট্রাক ও মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের ¯^াক্ষর নাই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক যুবলীগ নেতা অভিযোগ করেন, শ্রমিক সমš^য় কমিটির সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টার কিছু জঙ্গিদের সাথে নিয়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে চাঁদাবাজি করছে। বন্দরে ৩১টি শ্রমিক সমিতির সভাপতি-সেক্রেটারিরা বেশির ভাগই জামায়াত-বিএনপির। আর তাদের নিয়েই শ্রমিক সমš^র তথা শ্রমিকলীগ নাম ধারণ করে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করছে। সাদেকুর রহমান মাস্টারের নেতৃত্বে যে সংগঠন তা শ্রমিকলীগ নয়, এটি শ্রমিক সমš^য়। তারা এই সমš^য় কমিটি নিয়ে শ্রমিকলীগ নাম করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করছে এবং জঙ্গি সংগঠনকে অর্থ জোগান দিচ্ছেন।
অপরদিকে, জাতীয় শ্রমিকলীগের কার্যকারী সদস্য রেজাউল করিম বলেন, সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ব্যাপক চাঁদাবাজি কারণে স্থলবন্দর প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। আর আমরা প্রতিবাদ করতে গেলেই তারা আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি প্রদান করে। আমাদের শ্রমিকলীগের লোগো ও সাইনবোর্ড ব্যবহার করে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করছে শ্রমিক সমš^য় কমিটির সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টার, আলহাজ্ব মোবারক হোসেন ও খলিলসহ ২০/২৫জন। তারা জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে এই চাঁদাবাজি চলাচ্ছে। এছাড়া বড় ধরণের কোন প্রোগ্রাম হলেই সিএন্ডএফ’র সভাপতি হারুন অর রশিদের সাথে আঁতাঁত করে এই চাঁদাবাজির টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে।
এদিকে, সোনামসজিদ স্থলবন্দর শাখা জাতীয় শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় শ্রমিকলীগ সোনামসজিদ স্থলবন্দর শাখার লোগো ও সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করছে শ্রমিক সমš^য় কমিটির সভাপতি সাদেকুর মাস্টার, মোবারক হোসেন ও খলিলসহ প্রায় ২৫জন। আমাদের শ্রমিকলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে। আর এর নেপথ্যে কাজ করছে সিএন্ডএফ’র সভাপতি হারুন অর রশিদ। যে গেল ইউপির নির্বাচন ছাড়া কোন দিন নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়নি। সিএন্ডএফ’র সভাপতি হারুন শাহবাজপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সোনামসজিদ স্থলবন্দর শাখা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে ছিল। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রæয়ারী জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায়ের পর সোনামসজিদ পর্যটন মোটেল ধ্বংস ও প্রকৌশলী হত্যা মামলার তালিকাভূক্ত আসামী। তার বিরুদ্ধে ওই মামলায় আদালতে চার্জশীটও জমা দেয়া হয়েছে। ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর নিজের দাপট ধরে রাখতে সাবেক প্রতিমন্ত্রীর কাছে এসে আওয়ামীলীগে যোগদান করে। সিএন্ডএফ’র সভাপতি হারুন নামে মাত্র আওয়ামীলীগ নেতা হলেও শ্রমিক সমš^য় কমিটির পদও রয়েছে তার। আর এসবের নেপথ্যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি সাদেকুর মাস্টার ও হারুন জামায়াত-বিএনপিকে নিয়ে এই চাঁদাবাজি করছে। এই প্রতিবেদককে এসব তথ্য লিখিতভাবে দেয় জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, শ্রমিক সমš^য় কমিটির কোন কাগজপত্র নেই। তারা জেলা ট্রাক ও মটর শ্রমিক ইউনিয়নের কাগজ ব্যবহার করছে। তারা এই কাগজের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করছে। সাদেকুর মাস্টার ও মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে জেলা ট্রাক ও মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদনপত্র ৫০ থেকে ৮০ টাকা দিয়ে ক্রয় করে আনেন। আর এই সদনপত্রের দোহাই দিয়ে ট্রাক প্রতি ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে।
অন্যদিকে, স্থলবন্দর সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ ও সোনামসজিদ স্থলবন্দর জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি কুরবান আলী অভিযোগ করেন, শ্রমিকলীগের নাম ভাঙিয়ে শ্রমিক সমš^য় কমিটির সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টার, আলহাজ্ব মোবারক হোসেন সহ ২০/২৫জন লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে। তার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমাকে বিভিন্ন লাঞ্ছিত, মামলা-হামলা, অশ্লীল ভাষায় গালাগালিজ ও মারধর করে। আমি আহত অবস্থায় শিবগঞ্জ ¯^াস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হই। কুরবান আলী আরো বলেন, আমি ১২ বছর যাবৎ আওয়ামী সেচ্ছাসেবকলীগের দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা আমাদেরকে কোন সহযোগিতা না করে জামায়াত-বিএনপি লোকদের নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে আমাকে ফাঁসানোসহ বিভিন্ন মামলা মোকাদ্দমা এবং জীবন নাশের হুমকি দেয়। পরে শিবগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগও করি।
এদিকে, সোনামসজিদ স্থলবন্দ শ্রমিকলীগ দাবিদার শ্রমিক সমš^য় কমিটির সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টার বলেন, আমার সংগঠনের নাম সোনামসজিদ স্থলবন্দর শ্রমিকলীগ। এ নামে আর কোন সংগঠন আছে কি-না তা আমার জানা নাই। আমরা শ্রমিকদের নায্য অধিকার আদায় করছি। আমরা কোন চাঁদাবাজি করিনা। যারা এই অভিযোগ করছেন, তারা ¯^ার্থাšে^ষী। নিজের ¯^ার্থের জন্য আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট কথা বার্তা ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, পামানায় কোন নিদির্ষ্ট শ্রমিকদের কোর্টা নেই। এই পানামায় ১ হাজার ৭ জন শ্রমিক কাজ করছে। আমি বা আমার সংগঠনের কোন নেতাকর্মী শ্রমিকদের কাছ থেকে কোন টাকা নিয়ে শ্রমিক নিয়োগ দেয়নি। সাদেকুর রহমান মাস্টার বলেন, সিএন্ডএফ’র সভাপতি হারুন অর রশিদ একটি বেসিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। সে সূত্রে আমাদের সমš^য় কমিটির সদস্য আছে। তিনি বলেন, আমার সংগঠনের কোন জামায়াত-বিএনপির লোক নেই। আমি কোন জঙ্গিবাদদের জোগান দিইনা। নিজেদের ¯^ার্থ আদায়ের জন্য আমার ও আমার সংগঠনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। তিনি আরো বলেন, জেলা ট্রাক ও মটর শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে আমরা সনদপত্র নিয়ে আসি। এটা চালকদের নিরাপত্তার জন্য। এই সনদপত্রে যে টাকা নেয়া হয় তা জেলা ট্রাক ও মটর শ্রমিক ইউনিয়নকে দিতে হয়।
অপরদিকে, অভিযুক্ত সিএন্ডএফ’র সভাপতি হারুন অর রশিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শ্রমিকলীগ বা সমš^য় কমিটির সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি ২ বছর আগেই এই কমিটি ছেড়ে চলে এসেছি। আর চাঁদাবাজির নেপথ্যে থাকার কোন প্রশ্নই উঠেনা। এদিকে নবাবগঞ্জ জেলা ট্রাক ও মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক জানান, আমাদের সংগঠনের সদনপত্র শ্রমিক সমš^য়কে দেয়া আছে। তবে, তারা যে আমাদের সনদপত্র নিয়ে চাঁদাবাজি করে সেটা আমার জানা নাই। আমাদের সনদপত্র তৈরির জন্য কিছু খরচ দেয়। অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ে বিষয়টি তিনি জানেন বলে জানান। যদি অতিরিক্ত কোন টাকা নেয়া হয়, তাহলে তা তাদের নিজ দায়িত্বে।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি কুরবান আলীর উপর হামলা এবং এঘটনায় মামলার বিষয়ে শিবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ হাবিবুল ইসলাম হাবিব জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দরে শ্রমিকলীগের সভাপতি কুরবান আলী উপরে হামলা করায় নিজে দাবি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *