Sharing is caring!

স্বাধীনতা সংগ্রামে-দেশের উন্নয়নে

প্রত্যয়ী নাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

২৩ জুন উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশকে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দাঁড় করাতে এই সংগঠনের ভূমিকা অপরিসীম। রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতাকে পুঁজি করে বিশ্ব দরবারে সগৌরবে দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশের অপর নাম যেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

বাংলাদেশের স্বাধিকার, স্বাধীনতা আন্দোলন ও বাংলাদেশের সঙ্গে আষ্ঠেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নাম। সুদীর্ঘ রাজনীতি এবং আন্দোলন-সংগ্রামের গৌরবের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধারণকারী সংগঠন হলো আওয়ামী লীগ। রাজনীতির দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় ক্ষমতাসীন এই দলটি  পা রাখলো ৭০ বছরে।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে দেশের অন্যতম প্রাচীন এই রাজনৈতিক দলটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসে ২৩ জুন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।  প্রথমে আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে দলটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেলখানায় ছিলেন। জেলে থেকেও নিজ যোগ্যতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বলে প্রথম যুগ্ম সম্পাদক মনোনীত হন তিনি। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং তরুণ নেতা শামসুল হক ছিলেন দলের প্রথম সাধারণ সম্পাদক। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শ্রম, নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও অসীম সাহসিকতার ফলে কোনো বিতর্ক ছাড়াই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইতিহাসে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী একটি উল্লেখযোগ্য নাম। ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়; নাম রাখা হয়: ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’। আওয়ামী লীগ নামটির প্রবর্তক শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৫৫-এরপর থেকেই শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ব্যাপক গণভিত্তিক সংগঠনে পরিণত হয় এবং ধাপে ধাপে স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্যে কখনো কৌশলে, কখনো রাজপথের সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এগিয়ে গেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ ছিল দেশ ও জাতির জন্য অনুকরণীয়। আওয়ামী লীগ নামক সংগঠনটি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে তিল তিল করে গড়ে ওঠা একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান। তিনি এই দলটির জন্য মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন। কিন্তু এই দলটিকে ত্যাগ করেননি। এই দলটির জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের সর্বত্র গমন করেছেন এবং কর্মী সংগ্রহ করেছেন।

আওয়ামী লীগের সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আন্দোলন, ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের আন্দোলন এক পর্যায়ে স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ নেয়। ৬৬’র ছয়দফা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, স্বাধীনতার সংগ্রাম, ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, পাকিস্তানি শাসন আমলে এবং স্বাধীনতার পর সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের নেতৃত্ব দেয় ঐতিহ্যবাহী এই রাজনৈতিক দলটি। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে পাকিস্তানের তৎকালীন শাসকদের শোষণ ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সকল মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীকে পরিণত হয়। মুক্তিমন্ত্রের একমাত্র রাজনৈতিক দল হিসেবে গণ মানুষের হৃদয়ে স্থান পায়।

৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের পথ ধরেই ৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় সূচিত হয়। গণঅভ্যুত্থান এবং নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সশস্ত্র সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা অর্জিত হয়। ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ বিশ্বের বুকে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। ১৬ই ডিসেম্বর সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত হয়।

এই সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমায় আওয়ামী লীগকে অনেক চড়াই-উৎরাই এবং ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। কখনো নেতৃত্বের শূন্যতা, কখনো ভাঙনের মুখে পড়তে হয়েছে দলটিকে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের যে রাতে সেনাবাহিনীর একদল বিপথগামী সদস্য বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করে, সে রাতে শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা দেশের বাইরে ছিলেন বলে তারা প্রাণে বেঁচে যান। ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর নেতৃত্ব শূন্যতায় পড়ে আওয়ামী লীগ।

পরবর্তীতে স্বৈরশাসকের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে গণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন এবং বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে তিনি এক গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর তিনি সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থায় ফিরে আসার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালের ১২ জুনে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে এবং তিনি সে সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সরকারের সময় ভারতের সংগে গঙ্গার চুক্তি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে তার দল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয় এবং সরকার গঠন করে। টানা তৃতীয়বারের মতো দেশ শাসনের দায়িত্ব নিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।  বর্তমান সরকারের সার্বিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করেছে।  এছাড়া প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবতার পরিচয় দিয়েছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *