Sharing is caring!

image001প্রতি বছর বিজয় আসে আমাদের দেশে। ডিসেম্বর মাসের ১৬ তারিখ। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রক্তের যে ধারা প্রবাহিত হয়েছে তা কোন দিন শোধ হবার নয়। মায়ের বুকের দুধ যেমন কোনদিন শোধ দেয়া যায় না ঠিক সেই মত বাংলার মাটিতে যে রক্তের স্রোত বয়ে গেছে তা কোন দিন আমরা কোন বিনিময়ে শোধ করতে পারি না। মা, তুমি আমার মা। বুকের স্পন্দন মায়ার বাঁধন। মা, তুমি পৃথিবীর বুকে আমায় যে আলো দেখালে তা কোন দিন আঁধারের ঘনঘটায় ম্লান হবার নয়। আমি অভাগা এক কাঙাল, এক বাঙাল। আমার অত মিষ্টি ভাষা নেই যা দিয়ে আমি তোমায় সুন্দর নামে আদর করে ডাকি, তোমায় দুচোখ ভরে জড়িয়ে ধরে বলি তুমি কত——-মা। মা, তুমি আমার জন্য যে যন্ত্রনা পেয়েছ, যে হাত দিয়ে তুমি লালন করেছ, ধারণ করেছ, তা কী আর কোন দিন ভুলে যাবার? সেই ছোট্টটি থেকে তুমি আমায় জড়িয়ে রেখেছে তোমার বুকে। কত আদর যত্নে স্নেহে তুমি আমায় বড় করলে এই বাংলার মাটিতে তা কী আর এই  অক্ষর দিয়ে লিখে  মন ভরা যায়? কিন্তু আমি বুঝি না মা। কেন যে আজও তোমার বুকে মারামারি, হানাহানি, কাটাকাটি চলে। কেন যে মানুষেরা অমানুষের পথ বেছে নেই। ¯^ার্থের দ্ব›েদ্ব জড়িয়ে পড়ে এক অপরে। কী ব্যক্তিগত কী রাষ্ট্রীয় সকল ক্ষেত্রেই একই চিত্র। শুধু রক্তের খেলা। আমরা তোমার ছেলে মেয়েরা কেউ যেন কাউকে সহ্য করতে পারি না। আমাদের ভালবাসার হৃদয় এখন ভরে গিয়েছে লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ ইত্যাদি বিভিন্ন না বোধক কর্মকাণ্ডে। আমাদের বহু প্রতীক্ষিত এই জীবন অনায়াসেই আমরা শেষ করে দেই। অমনিতেই যে কেউ যে কারও নিষ্প্রয়োজন প্রাণপাত ঘটাই। অথচ একজন মানুষ হত্যা করা মানে গোটা মানব জাতিকে হত্যা করা। অর্থবলে মানুষ মানুষকে অকাতরে মেরে ফেলে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে এই তো বছর খানেক আগেও মানুষকে কী বাসে, কী ট্রাকে, কী রেলে বোমা মেরে পুড়িয়ে মেরে ফেলে। আমিও আজ শঙ্কিত মা। তোমার কোলে জন্ম নিয়ে আমরা ধন্য হয়েছি। আমরা শোষিত হয়েছি, নির্যাতিত হয়েছি, বঞ্চিত হয়েছি ১৯৭১ সালের পূর্ব পর্যন্ত আমাদের নানা অধিকার থেকে। কিন্তু আজকালকার দিনে আমরা কী দেখছি রাজনীতির নামে চলছে মরণ-জীবন খেলা। আমরা চাইনা এই মরণ- জীবন খেলা। জীবনের শেষ নিঃশ্বাস টুকু ফেলতে চাই তোমার বুকে মা তোমায় ভালবেসে অতি আদর যত্নে স্নেহে। আমাদের এ অধিকার যেন কেউ কেড়ে নিতে না পারে তার জন্য তুমি আমাদের চোখে চোখে চোখে রেখ। জানি, মা কোন দিন তার সন্তানকে হারাতে চায়না। এই আশাই রাখছি মা। আর যেন কোন অশুভ শক্তি তোমার কোলে মৃত্যুর হুঙ্কার না তোলে। আর যেন কোন মানুষ তার অধিকার হারা জীবনের গ্লানি বয়ে না বেড়ায়। তোমার ষোল কোটি সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে। আজ বিজয়ের এই ক্ষনে হৃদয়ের গভীর থেকে প্রার্থনা করি- মুক্ত হোক সব মৃত্যুর জঞ্জাল। হে বিজয়, কাল থেকে এই বাংলা মায়ের বুকে আর মৃত্যু ডেকো না।

 লেখকঃ সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি), হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *