Sharing is caring!


স্টাফ রিপোর্টার \ দেশের দ্বিতীয় স্থলবন্দর সোনামসজিদ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সোনামসজিদ স্থলবন্দর শাখা আওয়ামী যুবলীগের কমিটি গঠিত হয়েছিল প্রায় ১৩ বছর আগে। এরপর আর নতুন করে কমিটি করা হয়নি। এই কমিটির সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত মনিরুল হত্যা মামলার প্রধান আসামী আখিরুল ইসলাম। একজন খুনি সভাপতি পদে ১৩ বছর কিভাবে থাকে এ নিয়ে যুবলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে নানা বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সঞ্চলিত হচ্ছে চাপা ক্ষোভ। ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের ¯^ার্থ উদ্ধারে কাজ করা এবং নিজেদের গ্রæপের নেতাদের সন্তষ্ট রাখার ষড়যন্ত্রের কারনেই এত দীর্ঘ সময় ধরে কমিটির পদে কোন রদবদল হয়নি বলেও জানা গেছে একাধিক সুত্রে। একই চাঁদাবাজদের দিয়ে চাঁদার অংশ বুঝে নেয়ার অপকৌশল মাত্র এটি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৪ সালে আখিরুলকে সভাপতি ও প্রয়াত মনিরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে স্থলবন্দর ওয়ার্ড যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়। এরপর আর কোন কমিটি গঠন করা হয়নি। এদিকে, ২০১৪ সালের শেষে নানা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ ও ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। মনিরুল খুন হওয়ার পরপরই আলামত সহ চিহ্নিত খুনি হিসেবে গ্রেফতার হয় আখিরুল, সেরাজুল ইসলাম মুন্সি ও তোহরুল ইসলাম টুটুল। স্থলবন্দরের যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, সংগঠনের সংবিধানে আছে কোন খুনি এই সংগঠনে কোনই পদে থাকতে পাবে না। কিন্তু একটি হত্যা মামলার আসামী হয়ে দীর্ঘদিন পলাতন ও কারাবাস করার তিন বছর পর আবারো স্থলবন্দর যুবলীগের সভাপতি পদে নতুন করে দাপট দেখিয়ে স্থলবন্দরের শ্রমিক সমš^য় কমিটির চাঁদাবাজি অংশ বুঝিয়ে নিয়ে নিজ ভাগ্য উন্নয়নে আখিরুল ইসলাম কাজ করার ষড়যন্ত্র হিসেবে আখিরুল জামিনে এসে আবারো দাপট দেখিয়ে নিজে সভাপতি ও আশরাফুলকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবলীগের কমিটি করেছে। কিন্তু ইউনিয়ন শাখা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানে না। অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, সোনামসজিদ স্থলবন্দর শ্রমিক সমš^য় কমিটির বেপরোয়া চাঁদাবাজি করা টাকা থেকে ৪ শতাংশ। এতে সপ্তাহে প্রায় ৪০ হাজার টাকা দেয় স্থলবন্দর শ্রমিক সমš^য় কমিটির সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টার ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোবারক হোসেন।
এব্যাপারে তৎকালিন ওয়ার্ড যুবলীগ কমিটির সোনামসজিদ স্থলবন্দর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, এই শাখার কমিটি গঠন হয়েছিল প্রায় প্রায় ১২ বছর আগে। এরপর কোন কমিটি গঠন হয়নি। সেই সময়ের কমিটি দিয়েই চলছে সাংগঠনিক কর্মকান্ড। সংগঠনিক নিয়মানুযায়ী তিন বছর থাকবে কমিটির মেয়াদ। দীর্ঘদিন পার হওয়ার পরও কেনো নতুন কমিটি হচ্ছে না তা বলতে পারবো। বর্তমান কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক অবৈধ ভাবে চেয়ারে বসে আছে। এছাড়া সভাপতি আখিরুল একটি হত্যা মামলার আসামী। সে প্রায় তিন বছর জেলে ছিল। আদালতের জামিনে এসে আবারো সে যুবলীগের সভাপতির চেয়ার দখল করে বসেছে। এছাড়া শিয়ালমারা গ্রামের আশরাফুলকে নিজের ইচ্ছেমত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করে নতুন ভাবে কমিটি করেছে। কিন্তু ইউনিয়ন বা উপজেলার কোন অনুমোদন নেই। অন্যদিকে, সে সময়ে কমিটির দপ্তর সম্পাদক গোলাম মুর্শেদ জানান, ২০০৪ স্থলবন্দর শাখা যুবলীগের কমিটির অনুমোদন হয়। সে সময় আমাকে দপ্তর সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করেন। কমিটির মেয়াদ পার হলেও নতুন করে কোন কমিটি হয়নি। তিনি আরো জানান, স্থলবন্দর শ্রমিক সমš^য় কিমিটির কাছ থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪০ হাজার টাকা চাঁদা পায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। এই চাঁদা টাকার লোভ সামলাতে না পেরে আবারো মনিরুল হত্যা মামলার প্রধান আসামী আখিরুল দীর্ঘদিন জেল খেটে এসে হঠাৎ সভাপতি রুপ ধারণ করে চেয়ারে বসে পড়েছেন। প্রকৃত পক্ষে এই স্থলবন্দর শাখা যুবলীগের কমিটির কোন অনুমোদন নাই। এটা অবৈধ কমিটি। তারা শ্রমিক সমš^য় কমিটির চাঁদাবাজির টাকা খাওয়ার জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অপরপদিকে, তৎকালিন কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান জানান, যারা প্রকৃত দলকে ভালবাসে তাদের কোন মূলায়ন হয়না। প্রায় ১২ আগে হওয়া কমিটি নিয়েই দাপট দেখাচ্ছে মনিরুল হত্যা মামলার প্রধান আসামী আখিরুল। সে তিন বছর জেলে থাকার পর জামিনে এসেই আবারো ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। তিনি আরো বলেন, আখিরুল নিজের ইচ্ছেমত সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করছে। কাউকে তিন মাস, কাউকে ৬ মাস। এভাবে করে তিনি যুবলীগের কর্মকান্ডকে ব্যবহার করছে। এছাড়া আশরাফুল নামে শিয়ালমারা এলাকা একজনকে গত কয়েকদিন আগে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে চেয়ারে বসান। কিন্তু এই আশরাফুল প্রয়াত মনিরুল ইসলামের চাচাতো ভাই। লুৎফর রহমান বলেন, মনিরুল হত্যা মামলা থেকে বাঁচার জন্য আশরাফুলকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেছে।
এছাড়া, নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক যুবলীগ নেতা বলেন, যুবলীগ অফিসটা আখিরুল ইসলামের জমিতে হওয়ায় তিনি সব সময় দাপট দেখান। ২০০৪ স্থলবন্দর শাখা যুবলীগের কমিটির অনুমোদন হয়। সে সময় আমাকে দপ্তর সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করেন। কমিটির মেয়াদ পার হলেও নতুন করে কোন কমিটি হয়নি। সূত্রটি আরো বলেন, চারশীটভূক্ত কোন আসামী দলীয় কার্যকারি কমিটিতে কোন পদে থাকতে পাবে না। কিন্তু আখিরুল মনিরুল হত্যার প্রধান আসামী হয়েও নিজের দাপট দেখাচ্ছে। কারণে যুবলীগ অফিসটা আখিরুল ইসলামের জমিতে। স্থলবন্দরে লবিং-গ্রæপিং চলছে। এই লবিং-গ্রæপিংয়ের কারণে বন্দর শাখার সংগঠনিক কর্মকান্ড ব্যহত হচ্ছে।
এব্যাপারে বিভিন্নভাবে অভিযুক্ত নিজেকে স্থলবন্দর ওয়ার্ড যুবলীগের অবৈধভাবে সভাপতি দাবিদার আখিরুল ইসলাম জানান, বর্তমান যুবলীগের কমিটি বৈধ। বৈধভাবেই কমিটির কার্যক্রম চলছে। যারা এই অভিযোগ করেছে, তারা ষড়যন্ত্র করছে। দীর্ঘদিন পলাতক ও কারাবাস থেকেও সভাপতির পদ সঠিক থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দেননি।
এবিষয়ে শাহবাজপুর ইউনিয়ন যুবলীগ বর্তমান সভাপতি ওয়ালিদ আলী জানান, স্থলবন্দর শাখা যুবলীগের কমিটির কোন অনুমোদন নেই। কিভাবে স্থলবন্দর যুবলীগ কমিটি পরিচালনা হচ্ছে সেটাও জানা নেই। যারা নিজেকে সভাপতি-সম্পাদক দাবি করছে, তারা অবৈধ। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছে তারা। অবৈধভাবে ক্ষমতা হাতে নেয়া এবং চাঁদাবাজির বিষয়টি উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মাসিদুর রহমান জানান, প্রতিটি কমিটির তিন বছর মেয়াদী করা হয়। একটি হত্যা মামলার আসামী হয়ে দীর্ঘদিন পলাতক ও কারাবাস করার তিন বছর পর আবারো স্থলবন্দর যুবলীগের সভাপতি পদে নতুন করে দাপট দেখিয়ে স্থলবন্দরের শ্রমিক সমš^য় কমিটির চাঁদাবাজি অংশ বুঝিয়ে নিয়ে নিজ ভাগ্য উন্নয়নে আখিরুল ইসলাম কাজ করছেন এমন প্রশ্ন করা হলে জেলা সভাপতি আলহাজ্ব মাসিদুর রহমান জানান, এবিষয়ে আমার কিছু জান নেই। তবে, কমিটি গঠন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রথম ওয়ার্ড, তারপর ইউনিয়ন ও পরে উপজেলা কমিটি করা হয়। কিন্তু সোনামসজিদ স্থলবন্দর সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিটি গঠনের বিষয়ে জানেন না বলেও জানান তিনি। অবশ্য বিষয়টি বিস্তারিত জেনে এই প্রতিবেদককে জানানোর কথা বললেও পরবর্তীতে মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করার সম্ভব  হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *