Sharing is caring!

নাচোলে এস.এস.সি বাংলা পরীক্ষা

২০মিনিট দেরিতে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র বিতরণের

অভিযোগ : কেন্দ্র সচিবকে অব্যহতি

♦ নাচোল প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে শনিবার অনুষ্ঠিত এস.এস.সি পরীক্ষায় বাংলা প্রথম পত্রে বহু নির্বাচনী সৃজনশীল প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ২০ মিনিট দেরিতে বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাচোল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৬টি কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নাচোল খ.ম. সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও ওই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাৎক্ষনিক বিষয়টি আমলে নিয়ে নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা ঘটনার তদন্ত করে কেন্দ্র সচিব বাইরুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিয়েছেন। তবে, এঘটনায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ ও শিক্ষার্থীরা চরম হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন ফলাফলের বিষয় নিয়ে। শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষতিকারক শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবকগণ। জানা গেছে, শনিবার অনুষ্ঠিত এস.এস.সি পরীক্ষায় বাংলা প্রথম পত্রে নাচোল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৬টি কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পরীক্ষার্থীদের নিকট বহু নির্বাচনী সৃজনশীল প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ২০মিনিট দেরিতে বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে ফলাফল বিপর্যয়ের আশঙ্কায় পড়েছেন কক্ষগুলোর পরীক্ষার্থীরা। পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে পরীক্ষার্থীদের উপর মানসিক চাপ পড়ার আশঙ্কা অভিভাবকদের। এ ব্যাপারে নাচোল খ.ম. সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম কর্তব্যে অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের পরীক্ষা পরিচালনা কাজে নিয়োজিতদের বিরুদ্ধে নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ দায়ের করেছেন। নাচোল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে (কেন্দ্র কোড-১৫৮)’র বহু নির্বাচনী ও সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তরপত্র একই সময় দেয়ার নিয়ম থাকলেও ৬টি কক্ষে কর্তব্যরত পরীক্ষকগণ শৃজনশীল প্রশ্নপত্র বহুনির্বাচনী উত্তরপত্র নেওয়ার পর প্রদান করেন। বাংলা ১ম পত্রের পরীক্ষা শুরুর ৩০মিনিট পর বহু নির্বাচনী উত্তরপত্র গ্রহণ করেন। শিক্ষাথার্থীদের নিকট সৃজনশীল উত্তরপত্র ১০.৫০ মিনিটে দেয়া হয়। অর্থাৎ ২০মিনিট দেরিতে সৃজনশীল প্রশ্নপত্র পাওয়ায় পরীক্ষার্থীরা ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন লিখতে সময় কম পায় বলে পরীক্ষার্থীরা দাবি করে। এসময় অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রেই কান্নায় ভেঙে পড়ে। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ঘটনাটি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানা ওই কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব বাইরুল ইসলামকে তাঁর অফিসে ডেকে পাঠান। ওই কেন্দ্রের ৯নং কক্ষের কক্ষ পরিদর্শক মাক্তাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইসাহাক আলীকে জিজ্ঞসাবাদে তিনি জানান, নাচোল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক আনিকুল হক ও ধর্ম শিক্ষক আবু বাক্কার সিদ্দিকের পরামর্শে এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিকে, ক্রীড়া শিক্ষক আনিকুল হকের মেয়ে ওই কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী। তারপরও তিনি বিভিন্ন কক্ষে ঘুরে দায়িত্ব পালন করছেন যা বিধি সম্মত নয়। অভিযোগকারী নাচোল খ.ম. সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, ওই কেন্দ্রের ৩, ৬, ৭, ৮, ১৩ ও ১৪নং কক্ষের পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ শুনে তিনি বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানার নিকট একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এঘটনায় ওই কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব বাইরুল ইসলাম জানান, তার অজান্তেই কক্ষে দায়িত্বরতরা ভুল বুঝে এমন কাজ করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানা জানান, পরীক্ষা কক্ষে শিক্ষকদের অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছেন। ঘটনার তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে কেন্দ্র সচিব বাইরুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *