Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় ভুঁতুরে বিদ্যুৎ বিল ও বেপরোয়া লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ উপজেলাবাসি। আর এই ভুঁতুরে বিদ্যুৎ বিল ও লোডশেডিংয়ের অত্যাচারের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে উপজেলাবাসি। জানা গেছে, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে সারাদিন বিদ্যুৎ তো থাকেই না বরং রাতের বেলাও চলছে বেপরোয়াএই লোডশেডিং। ফলে রমজান মাসে রাতে তারাবি নামায পড়া ও সেহ্রি রান্না করতে হচ্ছে অন্ধকারে। রমজান মাসের রোজাদাররা সারাদিন ক্লান্ত হয়ে ইফতারের পর একটু ¯^স্তি পেলেও লোডশেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠে। গত কয়েক মাস থেকে বেপরোয়া লোডশেডিং হওয়ার সত্যেও চলতি মাসে বিদ্যুতের ভূঁতুরে বিল নিয়ে দুশ্চিন্তা পার করতে উপজেলাবাসি।
এদিকে ভূঁতুরে বিদ্যুৎ বিল প্রসঙ্গে ভোগÍভোগিরা বলেন, রমজান মাস শুরু হতে না হতে বেপরোয়া লোডশেডিং শুরু হয়। রোজার আগে লোডশেডিং কম থাকলেও বিদুৎ বিল অনেক কম দিয়েছি। আর রোজা শুরু হতে না হতে বেপরোয়া লোডশেডিং হওয়ার সত্যেও কয়েকগুন বিদ্যুৎ বিল বেশি করে দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস। এছাড়াও মিটার রিডিংয়ের সাথেও কোন মিল নাই। মিটার রিডিংয়ের তুলনায় বিদ্যুৎ বিল কপিতে ৫০ থেকে ১০০ এর অধীক রিডিং লেখা হয়েছে। যা কল্পনাবিহীন। ভোগÍভোগিরা আরো অভিযোগ করেন, বিদুৎ অফিস এধরণের বিল দিয়ে এক প্রকার চাঁদাবাজি শুরু করেছে। তারা আরো বলেন, বিলের কপি অফিসে নিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ করায় অফিসকর্তৃপক্ষ বিল সংশোধন করে দিচ্ছে। যদি এ প্রতিবাদ না করতাম আমরা তা হলে তারা পুরো বিল নিয়ে নিতো। এছাড়া আবু হায়দার চৌধুরী, সমির কুমার রায়, কাজল কুমার দাস সহ আরো কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, আমার প্রতি মাসে যে বিল আসে তার চেয়ে এ মাসে দিগুন বিল এসেছে। বাধ্য হয়ে আমি বিল পরিশোধ করেছি। ভোগÍভোগি নিজাম উদ্দীন জানান, আমি প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল যে পরিমাণের আসে এ মাসে তিনগুন বিল বেশি করেছে। কিন্তু বিল দেখে আমার ছেলে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বিল সংশোধন করে আনে এবং পরিশোধ করি। বিজন কুমার দাস অভিযোগ করে বলেন, আমার বিদ্যুৎ বলি এ মাষে বেশি করে দিয়েছি বিদ্যুৎ অফিস। বিল বেশি দেখি অফিসে গিলে আমার বিল সংশোধন করে দেয়।
অপরদিকে ঠিকমত বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে ধান থাকা সত্তে¡ও চাউলের অভাবে অনেকের রান্নায় ব্যঘাত ঘটছে। অচল হয়ে পড়ছে রাইস মিশ শিল্প। শুধু তাই নয়, বর্তমানে গরুর মাংস কিনা একেবার-ই দুঃসাধ্য। ফলে অধিকাংশ মানুষ বয়লার মুরগি (পোলটি) এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কিন্তু বিদ্যুতের কারণে দিন-দিন পোলটি শিল্পও ধ্বংস হতে চলেছে। এমনকি লোডসেডিং বিষয়ে প্রিন্ট মিডিয়া বা ইলেকট্রনিক মিডিয়া সংবাদ লেখতে বসলেও এই সংবাদটি লেখতে প্রায় ৭/৮ ঘন্টা সময় লেগে যায়।
এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শিবগঞ্জ জোনাল অফিসে ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মোঃ মাইনুদ্দীন আহমেদ মাইনু বলেন, আমরা ইচ্ছাকৃত লোডশেডিং করিনা। গত মাসের ঘুর্ণি ঝড়ে দক্ষিণাঞ্চালে সাব-স্টেশনগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে বিদুৎ সংকটে পড়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ কম পাওয়ায় উপজেলার প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহণকের সেবা দিতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এদিকে বিদ্যুতের ভূঁতুরে বিল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা কোন ভূঁতুরে বিল নয়, আমাদের একটু ভূল হয়েছে ¯^ীকার করছি। আর এই ভূলের কারণে সকলকে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া তিনি আরো বলেন, সরকার আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন চলতি মাসের ২২ তারিখে বিদ্যুৎ বিল আদায় করতে বলেছেন। তাই আমরা আগেই এই বিল আদায় করতে অনুমান করে বিল নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই বিল নিয়ে কেউ যদি আমার কাছে আসে তাহলে সে বিল সংশোধন করে দিচ্ছি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *