Sharing is caring!

karibul-rajinশিবগঞ্জ প্রতিনিধি \ ২ কোটি টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে রবিবার দায়িত্বভার গ্রহন করেছেন শিবগঞ্জ পৌরসভার নব-নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। চলতি অর্থ বছরের ৮ মাসে পুরাতন (আগের) পরিষদ কয়েকটি খাতে পৌর পরিষদের কাছে প্রায় ২ কোটি বকেয়া রেখেছে। আর এর দ্বায়ভার মাথায় নিয়েই নতুন জনপ্রতিনিধিদের পরিষদের দায়িত্ব নিতে হয়েছে। ২ কোটি টাকা পাওনা থাকলেও হাতে রয়েছে প্রায় ১০-১৫ লাখ টাকা। পৌরসভার কাছে বিদ্যুৎ বিভাগের পাওনা রয়েছে প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা, ৩ মাসে কর্মচারীদের বেতন বাকী রয়েছে প্রায় ৪২ ল¶ টাকা, ঠিকাদারদের বকেয়া বিল বাবদ পাওনা রয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা, পত্রিকা, বিজ্ঞপ্তি বিল, স্টেশনারীসহ অন্যান্য বাবদ বিল বাকী রয়েছে ৫-৭ লাখ টাকা, ২০১১ সাল থেকে পৌরসভার ৩৭ কর্মচারীর আনুতোষিক এবং পিএফ এর টাকা বকেয়া প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা। এই টাকার কোন হিসাব বা জমাও নেই বলে জানা গেছে। বছরে শিবগঞ্জ পৌরসভার আয় প্রায় ৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে বড় আয় আসে গরু হাট ও বাজার বিক্রয়ের টাকা থেকে। গত বছর গরুর হাট ও বাজার বিক্রি করে আয় হয় প্রায় ২ কোটি টাকা। এর পরে হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স থেকে আয় আসে প্রায় ২০ লাখ টাকা, রেজিস্ট্রি অফিস থেকে  প্রায় ৩ লাখ, নির্মাণ কাজ ও রোলার ভাড়া বাবদ আয় হয় প্রায় ৫ লাখ।  প্রায় ২ কোটি টাকা দেনা থাকলেও শিবগঞ্জ পৌরসভার ১৩টি হিসাব নম্বরে জমা রয়েছে ১০-১৫ লাখ টাকা। এসব তথ্য নিশ্চিত করেন, শিবগঞ্জ পৌরসভার হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস। গত পরিষদের মেয়র ও কয়েকজন কর্মচারীর ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতিতে এসব বকেয়া, আয় হবার পরেও থেকে যায়। গত ১০ বছরে পরপর ২ বার নির্বাচিত ও সাবেক মেয়রকে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির কারনে অন্তত ৩ বার বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়। তবে গত ১০ বছরে এই পৌরসভায় ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতি হলেও, সেসময়ের স্থানীয় এমপি ও প্রশাসনের অবহেলায় এবং সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি দিয়ে সঠিক তদন্ত না হওয়ায় আসল তথ্য তেমন বেরিয়ে আসেনি বলে নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান পৌরসভায় বেশ কিছু নাগরিক। পৌরসভায় গত ১০ বছরে সাবেক মেয়র অফিস না করে বছরের পর বছর থেকেছেন বাইরে। টেন্ডার, সড়ক নির্মান, গরুর হাট বিক্রয়ে অনিয়ম ও দূর্নীতিসহ পৌর মার্কেটের ঘর টেন্ডারের মাধ্যমে হলেও বেশ কয়েকটি ঘর অনিয়ম করে ও কম দামে প্রদান, ভূয়া ভাউচার করে বিল প্রদান ও গ্রহন করে গত ১০ বছরে অনিয়মের পাহাড়সম দূর্নীতি হয়েছে বলে জানান পৌর নাগরিকরা। গত ৩০ ডিসেম্বর  পৌর নির্বাচনে  শিবগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে ১০ হাজার ২১৫ ভোট পেয়ে কারিবুল হক রাজিন জয়লাভ করেন। মেয়র ৩ নারী কাউন্সিলর ১২ কাউন্সিলর জয় লাভ করে ১৪ জানুয়ারী শপথ নেন। এর মধ্যে মামলা ও আটকের কারনে ২ ও ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পরে শপথ নেন বলে জানা গেছে। তরুন এই মেয়র কারিবুল হক রাজিন জানান, নির্বাচিত হবার পরে আমি সকল নাগরিকের মেয়র হিসাবে কাজ করতে চাই। শিবগঞ্জ পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিছন্ন ও মডেল পৌরসভা হিসাবে গড়ে তোলার জন্য সকলের সহায়তা কামনা করেন রাজিন। তিনি আরো বলেন, জলাবদ্ধতা ও দুর্নীতি দূর করতে প্রথমেই পদক্ষেপ নিবেন। স্বচ্ছতা. সড়কে বাতি, রাস্তাঘাট ও ড্রেন পরিস্কার এবং নির্মান করার কাজেও অগ্রাধীকার দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *