Sharing is caring!

২ ঘন্টা পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন এর উদ্বোধন \ দূর্ভোগে মা ও শিশুরা

♦ স্টাফ রিপোর্টার

ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন (২য় রাউন্ড) সরকারী কর্মসূচী ঘোষণা মোতাবেক সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় ২ ঘন্টা পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন এর উদ্বোধন করা হয়। প্রচন্ড ঠান্ডায় শিশুদের নিয়ে এসে এতে চরম দূর্ভোগে পড়েন শিশুর মা ও পরিবারের লোকজন। সয়ং জেলার সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধূরীই চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে আসেন প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে। ক্যাম্পেইন উদ্বোধন না হওয়ায় অনেক মা শিশুদের নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন সদর হাসপাতাল চত্বরে। এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভাতেও ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন এর কার্যক্রম শুরু হয় সকাল ৯টার পর। ২ ঘন্টা ধরে মা ও শিশুদের এই ভোগান্তির বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধূরী বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্যের ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন এর উদ্বোধন করার কারনেই এই দেরী। তবে অন্যান্য স্থানে যথারীতি সময়মত শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর কাজ শুরু হয়। তবে সিভিল সার্জন একথা বললেও সময়মত ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কাজ শুরু হয়নি বলে সরজমিন দেখা গেছে। এদিকে, গত ৯ জানুয়ারী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন সম্মেলন কক্ষে জেলার মিডিয়াকর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে জানানো হয়, ১১ জানুয়ারী শনিবার সকাল ৮টা থেকে ক্যাম্পেইন শুরু হবে এবং যথাসময়ে মিডিয়াকর্মীদের সংবাদ সংগ্রহ ও ক্যাম্পেইন সফল করার জন্য আন্তরিকভাবে সহযোগিতার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। প্রেক্ষিতে সকাল ৮টা থেকে মিডিয়াকর্মীরা অবস্থান করলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ক্যাম্পেইন এর উদ্বোধন হয়নি। ফলে সাংবাদিকরা প্রায় ২ ঘন্টা ধরে হয়রানীর শিকার হয় এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভিটামিন এ প্লাস কাম্পেইন এর উদ্বোধন হয় সকাল ১০টায়। এ নিয়ে মিডিয়াকর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় কর্মসূচীতে এভাবে সময়ক্ষেপন বিষয়সহ অন্যান্য কর্মসূচীতে সময়ের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি ও যতœবান হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা। উল্লেখ্য, সভায় জানানো হয়, আগামী ১১ জানুয়ারী জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পইন ২য় রাউন্ডে জেলার ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৪’শ ৩৫ জন ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হয় এবং ৬-১১ মাস বয়সী ২৪ হাজার ৭’শ ৫৩জন শিশুকে ১টি নীল রঙের ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনে জেলায় মোট ১২০১টি সেন্টারে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করে ২ হাজার ৪’শ ২জন স্বেচ্ছাসেবক। সিভিল সার্জন অফিস সুত্র জানায়, ১২-৫৯ মাস বয়সী সদর উপজেলায় ৪২ হাজার ৬’শ ২০, শিবগঞ্জে ৬৫ হাজার ৮’শ ৩৬, গোমস্তাপুরে ২৯ হাজার ৯’শ ৭, নাচোলে ১৬ হাজার ৩’শ ৯১, ভোলাহাটে ১১ হাজার ২’শ ১১জন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ১৬ হাজার ৪’শ ৭০ জন শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল এবং ৬-১১ মাস বয়সী সদর উপজেলায় ৫ হাজার ৮’শ ৬৬, শিবগঞ্জে ৮ হাজার ৪’শ ৫৪, গোমস্তাপুরে ৩ হাজার ৯’শ ২৮, নাচোলে ২ হাজার ৩’শ ৪৯, ভোলাহাটে ১ হাজার ৪’শ ৬৩জন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ২৬ হাজার ৬’শ ৯৩ জন শিশুকে ১টি নীল রঙের ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। এছাড়াও জেলায় ভেঙ্গে পড়েছে সরকারী স্বাস্থ্য সেবা। সরকারী হাসপাতাল বা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সগুলোতে সঠিকভাবে সেবা না পাওয়ায় এবং জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে কাঙ্খিত সেবা না পাওয়ায় হাসপাতালের চারিদিকে গড়ে উঠেছে অনেক ক্লিনিক। এদিকে, সামান্য ঘটনাতের রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা না করে বা পরীক্ষা না করেই উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া বা ক্লিনিকে রোগী পাঠিয়ে দেয়ারও অভিযোগ সর্বদায় পাওয়া যাচ্ছে। উপজেলা সদরগুলোতেও গড়ে উঠেছে বৈধ ও অবৈধ অনেক ক্লিনিক। এসব ক্লিনিকে মোটা অংকের টাকা খরচ করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। এতে চরম সমস্যায় পড়েছে অসহায়-দরিদ্র মানুষেরা। আর এসব জেনেও না জানা বা দেখেও না দেখার ভান করছেন জেলার সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য দপ্তর সিভিল সার্জন কার্যালয়। অন্যদিকে, সিলিভ সার্জনের কাছে কোন অভিযোগ হলে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে, বলেই দায়িত্ব শেষ। শেষ পর্যন্ত অভিযোগকারীর যেন সিভিল সার্জন এর কাছে আর না আসে সেজন্য নানা টালবাহানা, নিয়মের ফিরিস্তি দিতে থাকেন দিনের পর দিন। বার বার ঘুরে যেন কোন অভিযোগকারী তাঁর কাছে বিরক্ত হয়ে আর না আসে, এমনটায় যেন করছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *