Sharing is caring!

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি \ আবু তাহের একজন গ্রামপুলিশ। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের শিবনগর-ত্রিমোহনী গ্রামে মৃত জিল্লুর রহমানের ছেলে। আবু তাহের মোবারকপুর ইউপির ৯নং ওয়ার্ডের একজন গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার)। তিনি ৬ বছর ধরে শয্যায় রয়েছে। সে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে নলের সাহায্যে নাক দিয়ে তরল খাবার খেয়ে কোন রকম বেঁচে আছেন। যার ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছে তার পরিবার। জানা গেছে, প্রায় ৬ বছর আগে হঠাৎ করে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রথমে কানসাটের একটি ক্লিনিকে ভর্তি হয়। সেখানে চিকিৎসায় শারীরিক উন্নতি না হওয়ায় শিবগঞ্জ  উপজেলা ¯^াস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সেখানে শারীরিক কিছুটা উন্নতি হলে চিকিৎসকগণ উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে টিকিৎসা নিতে পরামর্শ দেন। কিন্তু একজন গ্রামপুলিশ হয়ে সে উন্নত চিকিৎসা করাতে এবং নিজের পরিবারের সদস্যদের মূখে অন্ন তুলে দিতে অসাধ্য হয়ে পড়েছেন আবু তাহের। এছাড়া নিজের উন্নত চিকিৎসা না করতে পারলে আজীবন নাকের ভিতর দিয়ে পেটের নাড়ির সংযোগ করে তরল খাবার খেয়ে কোন রকম বেঁচে থাকবেন বলে জানান চিকিৎসকরা। যা একজন সুস্থ্য মানুষের পক্ষে কষ্টসাধ্য। এমন অবস্থায় তার পরিবারকে বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়াতে বৃত্তশালী ও সুনামধন্য ব্যক্তিদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন সচেতন মহল। এদিকে সরেজমিনে শিবনগর-ত্রিমোহনী গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে আবু তাহির ও তার স্ত্রী শুকতার বেগমের মানবেতর জীবনযাপনে চিত্র। কথা হয় আবু তাহের ও আর স্ত্রী শুকতারা বেগমের সাথে। আবু তাহির বলেন, প্রায় ৬ বছর আগে হঠাৎ করে আমার স্ট্রোক হওয়ার সাথে সাথে আমাকে প্রথমে কানসাট বেসরকারী হাসপাতাল ভর্তি, সেখানে উপয্ক্তু চিকিৎসা না হওয়ায় শিবগঞ্জ উপজেলা ¯^াস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে এবং সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসকগণ আমার পরিবারের সদস্যদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, রোগীকে দেশের বাইরে গিয়ে তার উন্নত চিকিৎসা করাতে হবে। উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারলে তাকে আজীবন নাকের ভিতর দিয়ে পেটের নাড়ির সংযোগ করে তরল খাবার খেয়ে বেঁচে থাকতে হবে। কোনদিনই সে মুখ দিয়ে খাবার খেতে পারবে না। আবু তাহেরের স্ত্রী শুকতারা জানান, আমরা গরীব মানুষ; দিন আনি দিন খাই। তাই চিকিৎসকদের সেই পরামর্শ অনুযায়ী আমাদের ৫ কাঠা জমির মধ্যে  ৪ কাঠা বিক্রি করে ও এনজিও হতে ঋণ নিয়ে চিকিৎসা করিয়ে তার শারীরিক উন্নতি হয় এবং তার নাকের ভিতর দিয়ে খাদ্যনালীর সঙ্গে সংযোগ করে দেয় ডাক্তাররা। তখন থেকেই অতি সাধারণ তরল খাবার খেয়েই কোন রকম বেঁচে আছেন আমার ¯^ামী। আমরাও অভাবের তাড়নায় ভাল খাবার যোগাড় করতে না পারায় কোন হালে ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে আছি। শুকতারা আরো জানান, ¯^ামীর চৌকিদারীর চাকুরী করে মাত্র ৩ হাজার টাকা বেতন পাই। অন্য কোন সুযোগ সুবিধা নেই। তারপরও অসুস্থতার অভিযোগে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করতে চাইছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান তোহিদুল রহমান (তোহিদ মিঞা)। কিন্তু এলাকার লোকজনের অনুরোধে চাকুরীতে রেখেছেন তিনি। আমাদের দুইজন ছেলে মেয়ে, তাদের বিয়েও দিয়ে দিয়েছি। ছেলেটি ব্যাটারি চালিত রিক্সা চালায়। ¯^ামীর ঔষধ ও খাবার যোগাড় দিতে গিয়ে কোন রকম দু-মুঠো খেয়ে দিনযাপন করছি। আবার কোন দিন অনাহারেই থাকতে হয় আমাদের। এটাই আমাদের জীবন। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান তোহিদুর রহমান মিঞা জানান, একজন চৌকিদারের জন্য সরকার থেকে যতটুকু সুযোগ সুবিধা আছে সে ততটুকুই পাই।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *