Sharing is caring!

নওগাঁ সংবাদদাতা \ নওগাঁর সাপাহারে পরকিয়া প্রেমের টানে স্বামীর সংসার ছেড়ে ৩ সন্তানের জননী আলেয়া বেগম (৪৫)নামের এক মহিলার বিয়ের দাবীতে কথিত প্রেমিকের বাড়ীতে অনশণ করার ঘটনায় কথিত প্রেমিক সহ ৪ ব্যক্তির নামে স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এ আলোড়ন সৃষ্ঠিকারী ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আইহাই ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামে। এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, গৌরীপুর সরকার পাড়ার বাসিন্দা মোকসেদুল ইসলাম সরকারের পরিবারের সাথে পার্শ্ববর্তী গৌরীপুর পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুসের পরিবারে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরই সুত্র ধরে উভয় পরিবারে যাতায়াত ও গভীর সম্পর্ক বিরাজ করে। অভিযোগ উঠে মহিলার সাথে আব্দুল কুদ্দুসের পরকিয়া সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এ নিয়ে তার স্বামী সন্দেহ করে তাকে নিয়ে প্রকাশ্য কথা বার্তা বলে থাকে। এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে প্রায় সময় কলহ বিবাদ চলছিল বলে ওই গ্রামের লোকজন অভিযোগ করেন। ঘটনার দিন গত রোববার সন্ধ্যায় ওই মহিলা তার স্বামীর বাড়ী থেকে বিয়ের উদ্যেশ্যে পালিয়ে পাশের গ্রামের কথিত প্রেমিক আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ীতে অবস্থান নেয়। এ নিয়ে ওই গ্রামের লোকজনের মধ্যে চরম হৈ চৈ বেঁধে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে আব্দুল কুদ্দুস নিরুপায় হয়ে ওই গ্রামের মন্ডল মাতবর শ্রেনীর লোকজনের সহায়তা নেয়। এ ঘটনায় গ্রামের সাবেক মেম্বার বিএনপি নেতা সাইদুর সহ বেশ কয়েকজন ওই মহিলাকে স্বামীর বাড়ীতে ফিরে যেতে অনুরোধ করে। ওই মহিলা তা প্রত্যাক্ষান করে প্রকাশ্য ঘোষনা দেন, রাতে যদি তাকে কুদ্দুসের সাথে বিয়ে না দেয়া হয় তাহলে সে ওই বাড়ীতে বসে কিটনাশক পানে আত্মহত্যা করবে। স্বামীকে তালাক দেওয়ার জন্য অবশেষে স্থানীয় ম্যারেজ রেজিষ্টার কে ডেকে নিয়ে আসা হয়। মহিলার সম্মতিতে তালাক নামা লেখা হয়। এক পর্যায় ওই গ্রামের বর্তমান মেম্বার দেলোয়ার হোসেন ও তার ভাতিজা যুবলীগ নেতা ফারুক মাস্টার, মহিলার স্বামী মোকসেদুল ইসলাম সরকার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ীতে জোর পুর্বক প্রবেশ করে ঘর থেকে ওই মহিলাকে নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে ওই মহিলাকে তার স্বামী নিজ বাড়ীর একটি কক্ষে তালা বদ্ধ করে রাখে। এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে একটি মহল গ্রাম্য রাজনীতি শুরু করে। স্ত্রী আলেয়া বেগমকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে সন্ধ্যার সময় তার বাড়ীর সামনে থেকে অপহরণ করে আটক রাখা হয়েছিল এমন অভিযোগ করা হলে সোমবার বিকেলে এ এস আই বায়েজিদ হোসেন সাইদুর রহমানকে আশড়ন্দ বাজার থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে এ নিয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিগণ আপোষ মিমাংসার চেষ্ঠা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় কথিত প্রেমিক আব্দুল কুদ্দস, সাবেক ইউপি সদস্য সাইদুর সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে পুলিশ আটক সাইদুরকে পরদিন নওগাঁ আদালতে প্রেরণ করে। এদিকে একটি মহল বিশেষ রাজনৈতিক ভাবে প্রতিপক্ষের লোকজনকে হয়রানী করার জন্য পরিকল্পিত ভাবে মামলা দায়ের কর হয়েছে। মধ্যে বয়সে এ কথিত পরকিয়া প্রেমের ঘটনাটি নিয়ে সাপাহার উপজেলার সর্বত্র ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *