Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জঙ্গী বিরোধী অভিযানে ৭ জঙ্গি গ্রেফতার \ বোমা তৈরি জেল, গান পাওডার ও জিহাদী বই উদ্ধার
স্টাফ রিপোর্টার \ গত দুইদিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে টানা জঙ্গি বিরোধী অভিযানে ৭ জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযানে সাড়ে ৪ কেজি গান পাওডার, সাড়ে ৫২ কেজি বোমা তৈরির বিশেষ ধরণের জেল (১২০ এমএল এর ৪২০টি টিউব) ও ২২টি জিহাদী বই উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত জঙ্গিরা হলো- জেলার সদর উপজেলার দেবীনগর-ফাটাপাড়ার মোঃ গুটুর ছেলে আব্দুল হাকিম(২০), নাচোল উপজেলার গুঠইল গ্রামের মৃত. তাইফুর রহমানের ছেলে মোঃ হারুন অর রশিদ (২৫), একই এলাকার মোস্তফার ছেলে মোঃ কামাল উদ্দীন (৩২) ওরেফে সরকার, বেড়াচকি গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে নাসিম রেজা(২০) ওরেফে শাহিন, শ্রীরামপুর কেতাবুল ইসলামের ছেলে মোঃ ফিরোজ (২২), শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের শিবনগর কাইঠাপাড়া গ্রামের এসলামের ছেলে মোঃ বাবু (২২) ও একই ইউনিয়নের রাঘরপুর গ্রামের মৃত. নেশ মোহাম্মদ এর ছেলে মোঃ আজিজুর রহমান(৩৮)। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম এবিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ সুপার বলেন, গত ৯ মে দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে নাচোল উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৪ জন, পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সদর উপজেলার দেবীনগর-ফাটাপাড়া এলাকা থেকে ১ জন ও শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের তিনটি স্থান থেকে ২জন কে গ্রেফতার করা হয়। এরা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। তিনি আরো বলেন, অভিযানকালে তাদের বাড়ি থেকে পুঁতে রাখা একটি ড্রাম মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়। এ ড্রামের ভিতর থেকে ১২০ এলএম ৪২০টি টিউব এর সাড়ে ৫২ কেজি বোমা তৈরি জেল, ২২টি জিহাদী বই উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম আরও বলেন, রাতে গ্রেফতারকৃত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের হবে। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাবাদ করে সঠিক তথ্য উদঘাটন করার মাধ্যমে কোথায় কোথায় জঙ্গি আস্তানা আছে তা খুজে বের করে নির্মূল করা হবে। জেলা থেকে জঙ্গি, সন্ত্রাস উৎখাতে পুলিশের অভিযান অব্যহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, গত ৯ মে দিবাগত রাত থেকে ১২ মে সকাল পর্যন্ত গত দুইদিনে অভিযান চালিয়ে ওই ৭ জঙ্গিকে গ্রেফতার, বিষ্ফোরক দ্রব্য ও জিহাদী বই উদ্ধার করা হয়। এর আগে প্রতিটি মসজিদ, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় সন্ত্রাস ও জঙ্গি বিরোধী প্রচারণার করা হয়েছে এবং বর্তমানে সন্ত্রাস-জঙ্গি বিরোধী বিরোধী অভিযান অব্যহত থাকবে। জেলা থেকে জঙ্গী নির্মূলে সমাজের সচেতন মহল ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম বিপিএম। উল্লেখ্য, শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের বিলবাড়ি-জাইগীর গ্রাম, বাঘিতলা ও রাঘবপুর এলাকায় ৩টি বাড়ি জঙ্গী আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখে পুলিশ। অস্ত্র ও বিষ্ফোরকদ্রব্য থাকার সন্দেহে ৩টি বাড়ি বৃহষ্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার রাত ১০ টা পর্যন্ত ঘিরে রেখে তল্লাশী চালায় পুলিশ। তল্লাশী শেষে এই এলাকা থেকে একটি ড্রাম ও জিহাদী বই উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত ড্রাম থেকে ভারতীয় ১২০ এলএম ৪২০টি টিউব এর সাড়ে ৫২ কেজি বোমা তৈরি জেল পাওয়া যায়। এদিকে স্থানীয়সুত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে এসলামের ছেলে জুয়েল এখানে বাড়ি করেছে রাতারাতি। সে স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে থাকতো। জুয়েল দিনের বেলা অটোবাইক চালাতো। জুয়েল কে দিনের বেলা বাড়িতে দেখতে পাওয়া যেত না। জুয়েল সৌদি আরবে সাথে মিল রেখে রোজা এবং ঈদ করতো। এছাড়া স্থানীয় মহিলারা জানায়, এখানে যে বাড়ি করেছে তা আগে বুঝে উঠতে পারিনি। তারা রাতারাতি বাড়িটি করেছে। এই বাড়ি মহিলাটাকেও বাইরে দেখতে পাইনা। তবে, ছোট্ট বাচ্চা থাকায়, বাচ্চাটা বের হলে তাকে পর্দা অবস্থায় দেখা যেত। অন্যদিকে রাঘবপুর এলাকার নাম না প্রকাশ করার শর্তে কয়েকজন জানান, আজিজুর রহমান আগে মসলার ব্যবসা করতো। পরে সে বৈদ্যুতিক মিস্ত্রীর কাজে লাগে। আজিজুর রহমান ঈদের নামায পড়তো সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে। তার এই চিত্র দেখে আমরা আমাদের মসজিদ থেকে বের করে দিয়েছি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *