Sharing is caring!

সূচনাঃ               শত বছরের সংগ্রাম শেষে রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অতঃপর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন
তখন পলকে দারুন ঝলকে তরিতে উঠিল জল, হৃদয়ে লাগিল দোলা
জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার সকল দুয়ার খোলা-
কে রোধে তাহার বজ্রকণ্ঠ বাণী?
সনসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর কবিতা খানি :
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”
(সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের স্বাধীনতা এই শব্দটি আমাদের কীভাবে হলো কবি)
“নির্মলেন্দু গুণ”

আমি এ কবিতাটি বহুবার আবৃত্তি করেছি উদীচীর মঞ্চে, স্কুলের শতবর্ষ অনুষ্ঠানে। তখন থেকেই আমার মনে গভীর আগ্রহ সৃষ্টি হয় বঙ্গবন্ধুকে জানার এবং চেনার। আমি বড় ভাগ্যবান আমি সচক্ষে বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সেই গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মস্থান বাঙালির তীর্থ ভ‚মি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। বঙ্গবন্ধুর সমাধির পাশে দাঁড়িয়ে দুই ফোটা চোখের জল ফেলেছি। মনে বিষ্ময় জাগে এই আজো পাড়া গাঁয়ে এক দুরন্ত কিশোর কীভাবে মহান রাষ্ট্র নায়কে রূপান্তরিত হলো। আমার এই অল্প জ্ঞানে হইতো লেখা সম্ভব নয় তারপরেও মনের গভীরে যতটুকু বঙ্গবন্ধুকে জেনেছি যতটুকু বুঝেছি তারই আলোকে আমি আমার মনের কথা তুলে ধরেছি।

¯^াধীনতা মানে বঙ্গবন্ধু ঃ বেঁচে থাকার জন্য ¯^াধীনতার বিকল্প কোনো শব্দ নেই। মানুষ দরিদ্র হতে পারে কিন্তু ¯^াধীন মানুষের আত্মমর্যাদাবোধ সবচেয়ে বড় সত্য, চির ভা¯^র। বাঙালি জাতির ভাগ্যে সেই চিরন্তন শব্দটির রূপদান করেছেন, শ্রেষ্ঠ বাঙালি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যাঁর তুলনা শুধু তিনিই। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক উত্থান ছিল যেমন দাপটের তেমনি ঝুঁকিপূর্ণ। অসাধারণ সাংগঠনিক ক্ষমতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দেশপ্রেম দেখে মুগ্ধ হন বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দীপাগুরু হোসেন শীহদ সোহরাওয়ার্দী। আর বিপুল ¯েœহধন্য সিক্ত হতেন মাওলানা ভাসানীর কাছ থেকে। তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনীই প্রমান করে কী বিপুল ভাবে তিনি তাঁদের সমর্থন পেয়েছিলেন। মাটি থেকে উঠে আসা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির বিকাশ ঘটে তাঁরই পরিচালনায় বাহান্না-একাত্তর পূর্বে বাঙালির জাতীয়তাবাদ দানা বাঁধে। পুরো ষাটের দশক ছিল এই জাতীয়তাবাদের বিকাশের শ্রেষ্ঠ সময়। উনসত্তরের গণ-আন্দোলন নয়া মধ্যবিত্ত শ্রেণী থেকে বের হলে আসা তরুণ নেতৃত্বকে আরো সুসংহত করে। ছাত্র জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করে গগনবিদারী এক গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ব বাংলায় যে সফল গণজোয়ার তৈরি করে। তার বিপুল নিয়ন্ত্রক ছিলেন বঙ্গবন্ধু। পাকিস্তানি সামরিক অসামরিক আমলা, রাজনৈতিক ¯^ার্থাšে^ষী মহল বাঙালি নেতৃত্বের এই উত্থানকে মেনে নিতে পারে নি। ফলে সাধারণ নির্বাচনে বিশাল ম্যাণ্ডেট পাওয়া গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ নেতৃত্বকে ডাক দিতে হলো সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের। ২৬ শে মার্চ ১৯৭১ বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দি হয়েও ছিলেন মুক্তিযোদ্ধার প্রধান নিয়ন্ত্রক। তাঁর নামেই চলেছে মুক্তিযুদ্ধ। তিনিই ছিলেন বাঙালীর শৌর্য ও ঐক্যের উৎস। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূল স্রষ্টা শেখ মুজিবুর রহমান। ইতিহাসের গতিধারায় রাজনৈতিক উত্তরঙ্গ মুহূর্তের সৃষ্টি করে তাকে বাস্তাবায়িত করার কৃতিত্ব বঙ্গবন্ধুর। তিনিই আমাদের উপহার দিয়েছেন বহু কাক্সিখত ¯^াধীনতা। তাঁর কারণেই আজ আমরা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাগরিক। তিনি এবং বাংলাদেশ তাই এক এবং অভিন্ন সত্তা।

শেখ মুজিব কেন অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক? কেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি? কেন তিনি বাঙালি জাতির পিতা? ঃ এসব প্রশ্নে কারো কারো সংশয় থাকতে পারে, থাকতে পারে ভিন্নমত; কিন্তু ইতিহাস ও রাষ্ট্র দর্শনের তাত্তি¡ক বিচারে এসব প্রশ্নের যথাযথ উত্তর পাওয়া কঠিন নয়। কোনো ভৌগলিক অঞ্চলের মানুষ শতসহ¯্র বছরের নানা উপাদান, নানা ক্ষেত্রের প্রতিভাবানদের তাৎপর্যপূর্ণ অবদানে ধীরে ধীরে একটি জাতি হিসেবে বিকশিত হয়ে ওঠ; এবং কোনো একটা যুগে সেই জাতি তার সামাজিক-সাংস্কৃতিক-মনস্তাত্তি¡ক ও রাষ্ট্রসত্তাগত চেতনার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে। দেশের সর্বস্তরের ব্যাপক মানুষের মনে এই সর্বোচ্চ চেতনার স্তর সৃষ্টিতে যে নেতার প্রধান ভ‚মিকা থাকে এবং সে ভ‚মিকা সর্বজন¯^ীকৃত হয়ে যখন তা একটা যুগ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় তখনই কোনো জাতি বা জনগোষ্ঠীর মাহেন্দ্রক্ষণ। বাঙালি জাতির জীবনে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ সর্বোচ্চ চ‚ড়া স্পর্শ করে ১৯৭১ সালে ৭ই মার্চ। আর সেই চ‚ড়ার ওপর দাঁড়িয়ে বাঙালি জাতির অবিসংবাদী নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঘোষণা করেন- “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম ¯^াধীনতার সংগ্রাম”। বাঙালি হাজার বছর ধরে এই ঘোষণার অপেক্ষায় ছিল। এজন্যই শেখ মুজিব হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। কারণ, তিনি বাঙালির হাজার বছরের ¯^প্নের এবং অন্তরের অন্তস্থলে গুমড়ে মরা ¯^াধীনতার আকাক্সখার প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন সেদিন। যুগের দাবিকে সাহস ও শৌর্যে ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি দখলদার বাহিনীর কামান, বন্ধুক ও হেলিকপ্টার গানশিপের যে কোনো মূহূর্তে গর্জে ওঠার ভয়াল পরিস্থিতির মুখে। পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোনো নেতা এমন ভয়ংকর জটিল পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে এত অকুতোভয় ¯^াধীনতার কথা উচ্চারণের সাহাস করেন নি। এই নজিরবিহীন ঘটনার জন্যেই তিনি বাংলাদেশের ¯^াধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা নিজ¯^ রাষ্ট্র সত্তাগত বাঙালি জাতির পিতা এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্রষ্টা। তাঁর চেয়ে প্রতিভাবন ও বহুগুণে গুণাšি^ত বাঙালি অনেকেই ছিলেন; তবু যেন তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ও আধুনিক রাষ্ট্রসত্তার অধিকারী বাঙালী জাতির জনক।
কবির ভাষায় বলতে গেলে বলা যায়-
যতকাল রবে পদ্মা যমুনা
গৌরী মেঘনা বহমান,
ততকাল রবে কীর্তি তোমার
শেখ মুজিবুর রহমান।

উপসংহর ঃ বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পড়ে আমার চেতনায় উদভাসিত হয়েছে আমার মনের জগতে চেতনায় যে চিন্তা চেতনা উদয় হয়েছে তা বিশ্লেষণ করলে ১০০০ শব্দে তুলে ধরা সম্ভব নয়। কেননা হাজার হাজার শব্দ দিয়েও তার কর্মকাণ্ডের, তার জীবনের যে রাজনৈতিক দর্শন মানুষের মুক্তির আকাক্সখা মানুষের প্রতি সহমর্মিতা উদরতা ভালোবাসা তিনি যে জাতির জন্য ধারণ করেছিলেন তা লিখে শেষ করা যাবে না। জীবন যৌবন সংসার সব কিছুকে ফেলে রেখে মানুষের মুক্তির আকাক্সখা দেশের ¯^াধীনতাকে বক্ষে ধারণ করে আজীবন লড়াই সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি বাঙালি জাতিকে ¯^প্ন দেখিয়েছেন বাঁচার মতো বাঁচতে শিখিয়েছেন। তাইতো তিনি একাধারে ¯^াপ্নিক কবি, রাজনৈতিক নেতা ও বিপ্লবী এবং হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। আমার এই অল্প লেখায় এই বিশাল মহামানবকে তুলে ধরা সম্ভব নয়।

ফারহান সুলতানা আনিসা
রোল ঃ ৮৫০
শ্রেণী ঃ দ্বাদশ
বিভাগ ঃ ব্যাবসায় শিক্ষা
নবাবগঞ্জ সরকারী কলেজ

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *