Sharing is caring!

খালেদার দুর্নীতি মামলায় জাতিসংঘের

ব্যাখ্যা নিয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত বিএনপি

নিউজ ডেস্ক: আইন সবার জন্য সমান। এই সত্যের ওপর আস্থা রেখে বিএনপির কারান্তরীণ চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ‘দুর্নীতি মামলায়’আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ দেখতে চায় জাতিসংঘ। এর আগেও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এমন আহ্বান জানিয়েছিল জাতিসংঘ। বাংলাদেশ সরকারও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগে বিশ্বাসী বলে জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিচার সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনীতি সচেতন সুশীল সমাজ। এদিকে জাতিসংঘের আহ্বানকে অনেকেই রঙ মিশিয়ে উপস্থাপন করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতিসংঘ যেহেতু বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সম্মিলিত একটি সামাজিক সংস্থা সুতরাং তারা যেকোনো দেশের বিচার ব্যবস্থার সুষ্ঠু প্রয়োগ দেখতে আহ্বান জানাবে এটিই স্বাভাবিক। এটা সংস্থাটির সাধারণ ব্রিফ।৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বেগম জিয়ার কারান্তরীণ বিষয়ে বাংলাদেশি এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের ডেপুটি মুখপাত্র ফারহান হক এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার সুষ্ঠু আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে এবং রাখবে বলেও জাতিসংঘকে আশ্বস্ত করেছে।

বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে অগ্নিসন্ত্রাসে ইন্ধনদাতা, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মতো মামলায় অভিযুক্ত বেগম খালেদা জিয়ার বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এগিয়ে চলেছে। এমনকি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান মামলার অধিকাংশই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে হওয়ায় বিষয়টির যে রাজনৈতিক নয় তা জানে জাতিসংঘ। ফলে মামলার আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষ কোনো অবস্থান না নিয়ে বরাবরের মতো সংস্থাটি নিরপেক্ষ আইনি প্রয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। যা চলমান রয়েছে।

এদিকে গত সেপ্টেম্বরে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঘোষিত রায় এবং রায়-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে জাতিসংঘ। সকল আইনি প্রক্রিয়াকে মেনে নিয়ে সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়। সে সময়‘শারীরিক ও সামাজিক দিক বিবেচনায় নিয়ে’জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারাদণ্ড প্রাপ্ত খালেদা জিয়া ৫ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড পেয়েছেন। তা নিয়ে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণে আইনি প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু হিসেবে দেখানো হয়। তখনও যেন এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে সে বিষয়ে দৃষ্টি দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এ প্রসঙ্গে আইন বিশ্লেষক শাহদীন মালিক বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার আইনি প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ রাখতে আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছে গত বছর। যে মামলায় খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড হয়েছে সেটি সত্য প্রমাণিত। এমনকি মামলাটি রাজনৈতিকও নয়। যেহেতু সেটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই করা হয়। সুতরাং বিষয়টি জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়ে। তাই জাতিসংঘও চায় আইনি প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু হোক।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *