Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডাল ফসল বিষয়ে কৃষাণী প্রশিক্ষণ

এক কেজি ধান উৎপাদনে ৪ হাজার লিটার পানি

–কমলা রঞ্জন দাস

♦ স্টাফ রিপোর্টার

এক কেজি ধান উৎপাদনে প্রায় ৪ হাজার লিটার পানির প্রয়োজন হয়। তাই চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার করা যাবে না। এসব অঞ্চলে ডোবা, নালা, নদীর পানি ব্যবহার করে ফসল ফলাতে কৃষকদের আগ্রহী করা হচ্ছে। সেই সাথে ধানের চাষাবাদ কমিয়ে ডাল জাতীয় ফসলের চাষাবাদে কৃষকদের বিভিন্ন প্রনোদনা প্রদান করছে সরকার। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডাল জাতীয় ফসল সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং মূল্য সংযোজন বিষয়ে কৃষাণী প্রশিক্ষণে শনিবার সকালে কৃষি মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমলা রঞ্জন দাস প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) চাঁপাইনবাবগঞ্জ উপকেন্দ্রের আয়োজনে উপকেন্দ্রের সম্মেলণ কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে তিনি আরো বলেন, বর্তমানে ধানচাষীদের অবস্থা আপনারা সবাই জানেন। উৎপাদন খরচ এতো বেশি হলেও নূন্যতম খরচও তারা পাচ্ছেন না। তাই এখনই সময় হয়েছে ধান ছেড়ে অন্যান্য ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদন করার। কারন ধানে পানি ছাড়াও সার, কীটনাশক, বিদ্যুৎ অনেক বেশি প্রয়োজন হয়। উৎপাদন খরচও ডাল জাতীয় ফসলের তুলনায় অনেকগুন বেশি। অন্যদিকে, ডালজাতীয় ফসল বরেন্দ্র অঞ্চলে যেখানে পানি অনেক কম সেখানে খুব সহজেই অল্প খরচে উৎপাদন করা যায়। তিনি বলেন, কৃষকদের মাঝে দেয়া বীজ হতে উৎপাদিত ফলন ভালো মানের হলে আমরাই সেগুলো বেশি দাম দিয়ে আবার ক্রয় করবো। এতে প্রান্তিক চাষীরা আরো বেশি লাভবান হতে পারবে। শাকসবজি, ফলমূলে কোনপ্রকার কেমিক্যাল ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে। না হলে আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে ধ্বংশের পথে নিয়ে যাবো। বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বিনা’র মহাপরিচালক ড. বীরেশ কুমার গো¯^ামীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিনা ময়মনসিংহ কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ¯িœগ্ধা রায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ লাক্ষা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মোখলেসুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উপ-পরিচালক (শস্য) ড. মো. সাইফুল আলম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জমির উদ্দীন। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে বিনা’র মহাপরিচালক ড. বীরেশ কুমার গোস্বামী বলেন, শুধুমাত্র ভাত খাওয়ার সময় শেষ। পরিপূর্ণ পুষ্টিগুণ পেতে ভাতের বিকল্প অন্য কিছু ভাবতে হবে। ভাতের সাথে অধিক পরিমানে শাক-সবজি খেতে হবে। তাই ধান উৎপাদনের পরিমান কমিয়ে ডালজাতীয় ফসলের চাষাবাদ বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, ডালজাতীয় ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি এর সংগ্রহ ও সংরক্ষণে আরো বেশি সচেতন হয়ে কাজ করতে হবে। তাছাড়াও এর সংরক্ষণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ফসলের মূল্য সংযোগন করতে পারলেই কৃষকরা আরো বেশি লাভবান হতে পারবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ লাক্ষা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ডালজাতীয় ফসলের সংরক্ষণ কাজ অত্যান্ত জরুরী। নারীদের বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপায় ব্যবহার করে ফসল সংরক্ষণ করতে দেখা যায়। তাই নারীদেরকেই এই প্রশিক্ষণে অন্তভুক্ত করা হয়েছে। বিনা ময়মনসিংহ কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ¯িœগ্ধা রায় বলেন, ২০১৬ সালে জেলায় মোট ৭শ ৪জন কৃষককে ডালবীজ প্রদান করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জেলায় ছোলা ও মসুর ডালের উৎপাদন নিশ্চিত করা হচ্ছে। এবছর ৮শ ৩৫ জন কৃষককে বীজ ও সার দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) চাঁপাইনবাবগঞ্জ উপকেন্দ্রের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মো. হাসানুজ্জামানের সঞ্চালনায় এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের জ্বাম প্লাজম কর্মকর্তা মো. জহুরুল ইসলাম, বিনা চাঁপাইনবাবগঞ্জ উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবিএম শফিউল আলমসহ জেলার বিভিন্ন কৃষাণীগণ। জেলার ৯০ জন কৃষাণীকে ডাল জাতীয় ফসল সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং মূল্য সংযোজন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এবং ২০ জন কৃষাণীর মাঝে ডাল সংগ্রহের জন্য ড্রাম প্রদান করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *