Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে সভা

সারাবিশ্বে প্রতি ৬ সেকেন্ডে একজন তামাক

সেবীর মৃত্যু-বর্জণের আহবান

–যুগ্মসচিব খায়রুল আলম শেখ

♦ স্টাফ রিপোর্টার

সারাবিশ্বে তামাক সেবনের জন্য প্রতি ৬ সেকেন্ডে একজন তামাকসেবীর মৃত্যু হয় এবং প্রতিবছর ৭১ লক্ষের বেশি মানুষ মারা যায়। এর মধ্যে পুরুষ রয়েছে ৫১ লক্ষ ও নারী ২০ লক্ষ। ইউএস সার্জন জেনারেল রিপোর্ট ২০১০ অনুযায়ী, তামাকের ধোয়ায় ৭ হাজরের বেশি ক্ষতিকর রাসায়নিক রয়েছে এবং তার প্রায় ৭০টি মানবদেহে ক্যান্সার সৃষ্টি করে। সোমবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলণ কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমš^য়কারী ও যুগ্মসচিব মো. খায়রুল আলম শেখ। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ অবহিতকরণ সভা হয়। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত ও জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যদের নিয়ে অবহিতকরণ সভায় তিনি বলেন, নিজেদের ও আগামী প্রজন্মকে বাঁচাতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন করা অত্যান্ত জরুরী, এর কোন বিকল্প নেই। শিশুদেরকে কোনভাবেই তামাকজাত পন্য বেচা-কেনায় ব্যবহার করা যাবে না। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী তা করলে সেই দোকানকে ৫ হাজার এবং দ্বিতীয়বার একই অপরাধ পুনঃরায় করলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় যুগ্মসচিব মো. খায়রুল আলম শেখ বলেন, আমরা অনেক সময় দেখি, আইন-শৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উন্মুক্ত স্থানে ধূমপান করে। এর কারনে অলিখিতভাবে সাধারণ মানুষরাও তা করার অনুমতি পেয়ে যায়। তাই এব্যাপারে তাদেরকেও সচেতন হতে হবে যেন, আইনের পোষাক পরিহিত অবস্থায় কেউ উন্মুক্ত স্থানে ধূমপান না করে। শিক্ষকদেরকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধূমপান না করার আহব্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। তাছাড়াও বিদ্যালয়ের ধূমপান করলে শিশুরা তা থেকে উৎসাহ পায় ও তা গ্রহণে আগ্রহী হয়। এমনকি অধূমপায়ীদের মাঝেও পরোক্ষভাবে ধূমপান গ্রহণের ফলে ব্যাপক ক্ষতি হয়। তামাক ব্যবহারের বিভিন্ন কুফল নিয়ে তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী তামাক ব্যবহারের ফলে ফুসফুস ক্যান্সার, মুখ গব্বরের ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোক, অ্যাজমা, হাপানি, ডায়বেটিস, পায়ের পচনসহ ৮টি প্রাণঘাতি, ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদী রোগে প্রতিবছর বাংলাদেশে ১২ লক্ষের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ৩ লক্ষ ৮২ হাজার মানুষ পঙ্গুত্বের শিকার হয় এবং ১ লক্ষ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। দেশের পুরুষদের মোট মৃত্যুর ২৫.৫৪ শতাংশ এবং নারীদের মৃত্যুর ৯.৭ শতাংশই হয় তামাক সেবনের জন্য। এমনকি তামাক সেবনকারী যদি তামাকের ৬৯ শতাংশ অর্থে খাদ্য ক্রয় করে, তাহলে বাংলাদেশে অপুষ্টিজনিত মৃত্যু অর্ধেক কমানো সম্ভব। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক বলেন, জেলাকে মাদকমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ইতোমধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই জেলায় তামাকের চাষ না হলেও মাদকের সহজপ্রাপ্যতা অনেক। তাই জেলাকে মাদক ও তামাকমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর জন্য ভ্রাম্যমান আদালতের তৎপরতা বৃদ্বি করা হবে এবং এর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রতি যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। সভায় তামাকমুক্ত সমাজ গঠনে সকলের সহযোগিতার আহব্বান জানান বক্তারা। সভার শুরুতেই তামাকজাত পন্য ব্যবহারের বিভিন্ন কুফল ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে বিস্তারিত ভিডিও প্রর্দশনী উপস্থাপন করেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের প্রোগাম অফিসার আমিনুল ইসলাম সুজন। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন ও এর ব্যবহার রোধ করার বিভিন্ন পদক্ষেপ, সমস্যা ও সমাধানের বিভিন্ন উপায় নিয়ে সভায় বক্তব্য রাখেন, সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দেবেন্দ্র নাথ উঁরাও, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান-পিপিএম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মো. আলমগীর হোসেন, শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশন ইসলাম, গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা সিহাব রাইহান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাড. আব্দুস সামাদ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান খাঁন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম, সদর উপজেলা পরিবার কল্যান কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মাতিন, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোসা. শাহিদা আখতার, নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুলতানা পাপিয়া, সাপ্তাহিক সোনামসজিদ পত্রিকার সম্পাদক জোনাব আলী। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক উম্মে সালমা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. শফিকুল আলম, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল মালেকসহ উপজেলা স্বস্থ্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *