Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে র‌্যালী, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। ‘ভবিষ্যতের উন্নয়নে, কাজের সুযোগ পর্যটনে’ শ্লোগানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এসব কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র‌্যালী বের হয়। র‌্যালীটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এ কে এম তাজকির উজ জামান। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. ইকবাল হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন নবাবগঞ্জ সরকারী মহিল কলেজের প্রভাষক মো. বশির আলী, জেলা আনসার কমান্ডার মো. ইব্রাহীম, সন্তাষপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদা খাতুন, রাজারামপুর হামিদুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. শামিম রেজাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। উপস্থিত ছিলেন ‘দৈনিক চাঁপাই দর্পণ’ এর সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটগণ, জেলা তথ্য অফিসার মো. ওয়াহেদুজ্জামান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম, নবাবগঞ্জ সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী মো. আশরাফুল ইসলামসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ও সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি। সভা শেষে ‘পর্যটন দিবস’ উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
বক্তারা দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলোকে ভালোভাবে প্রচারনার মাধ্যমে সেখানে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা দর্শনার্থীদের সহযোগিতার মাধ্যমে আয় করা সম্ভব এবং এতে করে পর্যটন এলাকায় কাজের সুযোগ সৃষ্টির আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথি বলেন, বাংলাদেশে ১২৩ কিলোমিটার সি বিচ রয়েছে। সুন্দরবন রয়েছে, রয়েল বেঙ্গল টায়গার রয়েছে, সুন্দরবনে সুন্দরী গাছ রয়েছে। বাংলাদেশর আবহাওয়া সারাবছরই ভ্রমনের মত। কিন্তু অনেক দেশেই বৈরী আবহাওয়া থাকা পর্যটকদের সমস্যা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ এটা হয় না। তিনি ‘টুর গাইড’ বিষয়ে বলেন, বাংলাদেশে প্রাকৃতিকভাবে থাকা পর্যটন এলাকায় বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য বেশী বেশী করে প্রচারণা করতে হবে। পর্যটকদের গাইড করার জন্য বিভিন্ন দেশের ভাষা শিখতে হবে। ভালো ফটোগ্রাফার হতে হবে। নির্দিষ্টস্থানের ইতিহাস পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে ওই স্থান সম্পর্কে জানতে হবে। এভাবে পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। বেকারদের কাজের সংস্থান হবে। অনেক বেশী বেশী আয় করা সম্ভাবনাও রয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে পর্যটনে বিকাশ ঘটাতে হবে। তিনি আরও বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার প্রায় ৫০টি স্থানকে চিহ্নিত করা হয়েছে, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এসব স্থানকে পর্যটন স্থান হিসেবে ম্যাপ তৈরী করা হচ্ছে। ভ্রমন পিপাসু পর্যটকগণ যোগাযোগ, থাকার ব্যবস্থা, পথের দুরত্ব, খরচসহ বিভিন্ন বিষয়ে জানতে পারবেন। এছাড়া এই ম্যাপের মাধ্যমে পর্যটন এলাকার সমস্যা ও করনীয় বিষয়েও জানাতে পারবেন পর্যটকগণ। নিজেদের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ সৃষ্টি করে সুন্দর ও সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়ার আহবান জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *