Sharing is caring!

নাচোলে অলিতে-গলিতে এনজিও \ মোটা

অংকের রাজস্ব বঞ্চিত পৌরসভা

♦নাচোল থেকে সাকিল রেজা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে অলিতে-গলিতে গড়ে উঠেছে বে-সরকারী বীমা ও এনজিও। যে দিকে তাকানো যায়, সেদিকেই এনজিও আর বীমা। দরিদ্র জনগোষ্ঠি অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এবং সাধারণ মানুষকে খব সহজেই ঋণ কার্যকমের সা থে জড়িত করতে পারায় এসব এনজিও প্রতিষ্ঠা এবং দ্রæতই অর্থের মালিক হয়ে যাওয়ার আশায় কাজ করছেন এনজিও মালিকরা। আর এসব এনজিও কর ফাঁকি দেয়ায় প্রতি বছরই লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নাচোল পৌরসভা। নাম মাত্র কয়েকটি এনজিও বাৎসরিক কর পরিশোধ করলেও বাকী এনজিও লাখ লাখ টাকার ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম চালিয়ে অবৈধভাবে চালিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন, কিন্তু পৌরকর পরিষোধের বিষয়ে এনজিও মালিকদের কোন গুরুত্ব নেয় বলে অভিযোগ করেছেন পৌর কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, নাচোল উপজেলায় শতাধিক বীমা, সমবায় সমিতি ও বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ঋণ কার্যক্রমের নামে লাখ লাখ টাকার কড়া সুদে কার্যক্রম চালালেও নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে তালিকাভুক্ত এনজিওর সংখ্যা রয়েছে মাত্র ২০টি। প্রতিষ্ঠিত এনজিও ছাড়া মফস্বল এনজিওরা ক্ষুদ্র ঋণের আড়ালে চালিয়ে যাচ্ছে লাখ লাখ টাকার ঋণ কার্যক্রম। অথচ ইউএনও অফিসে নেই তাদের নামের তালিকা। সময় মত দিচ্ছেনা বাৎসরিক পৌরকর। ফলে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ গুলি হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব। ক্ষুদ্র ঋণ পরিচালনার জন্য এসব এনজিও/সমবায় গুলো জেলা সমাজ সেবা কিংবা সমবায় অফিস থেকে এনজিও’র রেজিষ্ট্রেশন নিয়ে চড়া সুদে ঋণ বিতরণের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে দেদারসে। এসব সমবায় সমিতি/এনজিও গুলোর দেখভাল করার জন্য উপজেলা সমবায় অফিস থাকলেও তাদের কোন তদারকি নেই। অজ্ঞাত কারণে এসব এনজিও বা সমবায় সমিতিগুলোর অনিয়ম জেনেও যেন না জানার ভান করেন উপজেলা সমবায় অফিস কর্মকর্তারা বলেও জানিয়েছে একাধিক সুত্র। বাৎসরিক অডিটের নামে নেয়া হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। আর এজন্যই হয়তো চোখ পড়ছেনা অনিয়মের দিকে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাচোল উপজেলা সমবায় অফিসার সুনিল কুমার সরকার। উপজেলা সমবায় অফিসার সুনিল কুমার সরকার ও তার অফিসের অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর মোস্তাফিজুর রহমান সমবায় গুলি দেখভাল করলেও বাৎসরিক কর পরিশোধে নেই তাদের তৎপরতা। তবে ২/১টি সমবায় সমিতি পৌর কর পরিষধের উদ্যোগ দেখালেও সমবায় কর্মকর্তা তাদেরকে পৌর কর পরিশোধে নিষেধ করেছেন। তিনি লাখ লাখ টাকার ঋণকেও ক্ষুদ্র বলে অবহিত করেন এ প্রতিবেদকের কাছে। নাচোল পৌরসভায় বীমা ও এনজিও’র নিকট নাচোল পৌরসভা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ পৌর-১ শাখা এস আর ও নং ২৪৬-আইন/২০১৪ স্থানীয় সরকার পৌরসভা) আইন.২০০৯ তারিখ ২১/১০/২০১৪খৃ: এর ৬নং অনুচ্ছেদের ৩ এর ৮ নং কলাম অনুযায়ী এনজিও প্রতিষ্ঠান পৌর এলাকার মধ্যে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করলে উক্ত প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত হারে ফি প্রদান পূর্বক ব্যবসা পরিচালনার বিধান রয়েছে। এ আদেশের বলে নাচোল পৌর সভা বাৎসরিক ট্রেড লাইসেন্স গ্রহনের জন্য একাধিকবার জরুরী নেটিশ প্রেরণ করলেও এ আদেশ এর কোন তোয়াক্কা করছেনা এনজিওগুলো। এদিকে বাংলাদেশ গেজেট এর ন্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ পৌর-১ শাথা প্রজ্ঞাপনের ৩ নং ধারায় ব্যাংক,বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারী অফিস প্রতিষ্ঠান বা সং¯’া বা উহাদের কোন শাখা,এনজিও প্রতিষ্ঠানের /মাইক্রা ক্রেডিট পরিচালনার জন্যে ৫০০০/টাকা পৌর কর পরিষধের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বীম ও এনজিওরা তা পরিশোধ করছেন না, মানছেন না সরকারী আইন। এ বিষয়ে নাচোল পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ খান ঝালুর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বীমা ও এনজিওদেরকে কর পরিশোধের জন্য জরুরী ভিত্তিত্বে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। এর পরেও যদি তারা পৌর কর পরিশোধ না করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে মালামাল ক্রোকসহ আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানা বলেন, উপজেলা অফিসে মাত্র ২০টি এনজিও’র তালিকা রয়েছে, বাকী এনজিও গুলো কি কি কার্যক্রম করছেন সে বিষয়ে কোন তথ্য নেই। তবে তারা নিয়ম ভঙ্গ করেই এসব কার্যক্রম চালাচ্ছেন বলে তিনি জানান। খুব শিঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *