শুক্রবার, নভেম্বর ০৭, ২০২৭

উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য কে অপসারন ॥ কুয়েট ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উল্লাস

WP Import ২৪ এপ্রিল ২০২৫ ০৬:০৬ অপরাহ্ন খুলনা
WP Import ২৪ এপ্রিল ২০২৫ ০৬:০৬ অপরাহ্ন

উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য কে অপসারন ॥ কুয়েট ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উল্লাস

উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদ ও উপ উপাচার্য অধ্যাপক এস কে শরিফুল আলমকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি পূরণ হওয়ায় ৫৮ ঘণ্টা পর অনশন ভেঙেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-কুয়েটের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য (ইউজিসি) অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান বুধবার রাত ১টার দিকে জুস পান করিয়ে তাদের অনশন ভাঙান। তার আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো একটি বার্তা অনশনরত শিক্ষার্থীদের পড়ে শোনান অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে ‘সমস্যা নিরসন ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে’ কুয়েটের উপাচার্য ও উপ উপাচার্যকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পরিচালনার জন্য জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকদের মধ্যে থেকে একজনকে সাময়িকভাবে উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেন মঞ্জুরি কমিশনের এই সদস্য। এর কিছুক্ষণ আগে বুধবার মধ্যরাতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্য ও উপ উপাচার্যকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানানো হয়।

সেখানে বলা হয়, সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন উপাচার্য ও উপ উপাচার্যকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। ওই বার্তা আসার পর ক্যাম্পাসের স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টার এলাকায় উল্লাসে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে আনন্দ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে যান। উল্লেখ্য, কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগ দাবিতে বেশ কয়েকদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। তিন দিন আগে কয়েকজন শিক্ষার্থী অনশনে বসেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সি আর আবরার বুধবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে কুয়েট ক্যাম্পাসে পৌঁছান। তবে দীর্ঘ সময় বুঝিয়েও তিনি অনশন ভাঙাতে পারেননি। এরপর বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় কুয়েটের ৩৭ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়ার পাশাপাশি সব হল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪ মে শুরু হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আমরণ অনশন কর্মসূচির তৃতীয় দিনে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন অনেক শিক্ষার্থী। তবে উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন তারা। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গঠন করা কমিটির তিন সদস্য কুয়েট ক্যাম্পাসে যায়। দাবি পূরণ হওয়ায় ৫৮ ঘণ্টা পর অনশন ভেঙে বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহরে তারা হলে ফিরে যান।