নিয়ামতপুরে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে বালির বদলে মাটি ব্যবহারের অভিযোগ
নওগাঁর নিয়ামতপুরে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে বালুর পরিবর্তে মাটি ও ইটের টুকরো ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। রাতের আঁধারে এসব মালামাল দিয়ে সড়কের দুই পাশ ভরাটের চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়দের বাধার মুখে কাজ বন্ধ করা হয়। বুধবার (০৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বরিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় বালির পরিবর্তে মাটি দিয়ে রাস্তা ভরাট করা হচ্ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের বটতলী বাজার থেকে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বরিয়া জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়কটির দুই পাশে প্রশস্তকরণের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খাইরুল কবির রানা এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। গত ২৭ অক্টোবর গভীর রাতে সড়কের দুই পাশে বালুর পরিবর্তে মাটির সঙ্গে ইটের টুকরো মিশিয়ে ভরাটের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা বাধা দেন। একপর্যায়ে মাটিবোঝাই কয়েকটি গাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয় এবং কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মজিদুল ইসলাম বলেন, সড়কের দুই পাশে বালুর পরিবর্তে কাদামাটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। তাঁরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই গ্রামের বাসিন্দা রাজু আহম্মেদ বলেন, কাজের সময় নিয়মিত পানি দেওয়া হয়নি। যেখানে খোয়া দেওয়ার কথা,
সেখানে ভাটার শক্ত মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি ভরাটের জন্য নর্দমা থেকে মাটি তুলে আনা হচ্ছে। প্রায় ২০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই, ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত এবং প্রকৌশল বিভাগের তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খাইরুল কবির রানা এন্টারপ্রাইজ এর এক প্রতিনিধির সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এগুলো বালি না মাটি তা পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে পরীক্ষা করে দেখেন। নিয়ামতপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, সড়কের অন্য পাশের ডব্লিউএমএম (WMM) কাজের নিচের অংশে মাটির পরিমাণ বেশি থাকায় ঠিকাদারকে ওই পাশের মালামাল গ্রহণ করা হবে না বলে আগেই নিষেধ করেছিলাম। এরপরও ঠিকাদার দুই গাড়ি মালামাল নিয়ে এসেছিলেন। পরে সেগুলো অপসারণ করা হয়েছে। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।