মঙ্গলবার, আগস্ট ০৪, ২০২৭
মালয়েশিয়া ও চীন সফর

দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী ॥ ‘সফরের অর্জন-দেশের অর্জন’-সংসদে প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি ২৭ জুন ২০২৬ ০৬:১৮ অপরাহ্ন জাতীয়
বিশেষ প্রতিনিধি ২৭ জুন ২০২৬ ০৬:১৮ অপরাহ্ন
দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী ॥ ‘সফরের অর্জন-দেশের অর্জন’-সংসদে প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে তিনি ঢাকায় পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব (ডিপিএস) জাহিদুল ইসলাম রনি সাংবাদিকদের জানান, বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৬ মিনিটে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। পরে বাংলাদেশ সময় রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও দেশে ফেরেন। এ ছাড়া সফরসঙ্গীরা একই ফ্লাইটে দেশে ফিরে আসেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সরকারের মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২২ জুন চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যান। সফরকালে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। সফর শেষে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ দফা যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) চীনের সহায়তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ স¤প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, কৃষি, প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২১ জুন প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যান। সেখানে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে ২২ জুন তিনি রাষ্ট্রীয় সফরে চীনের উদ্দেশে রওনা হন।


মালয়েশিয়া ও চীন সফরের জন্য জাতীয় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব পাস হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিদেশ সফরে তিনি দেশের মানুষ ও বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছেন। শনিবার সংসদ অধিবেশনে যোগ দিলে তার উদ্দেশে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। পরে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছে তাদের স্বার্থ দেখার জন্য।” বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে দলটির চেয়ারম্যান বলেছেন, “আমাদের দলের অবস্থান থেকে আমরা একটি শ্লোগান ব্যবহার করি, সেটি হচ্ছে যে, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট বা বাংলাদেশ প্রথম’।”

সংসদ নেতা বলেন, “আমি যে কাজটি করার চেষ্টা করেছি মাননীয় স্পিকার, আমি আমার অবস্থান থেকে আমি আমার দেশের, আমার দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলার এবং সেই স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।” এর আগে অধিবেশনের শুরুতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ‘অভূতপূর্ব সাফল্যের’ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। পরে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। তারেক রহমান বলেন, “যে বিষয়ের উপরে আমাকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে এই সংসদের পক্ষ থেকে, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ এবং আন্তরিকভাবে সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।” সফরের অর্জনকে নিজের ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে না দেখে দেশের অর্জন হিসেবে দেখার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এখানে আমাদের কারোরই কোনো ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নেই। এটি যদি কোনো কিছু অর্জন হয়ে থাকে, ভালো কোনো কিছু অর্জন হয়ে থাকে, এটি বাংলাদেশের অর্জন।” বিরোধী দলের নেতাসহ সংসদের সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের পক্ষে কাজ করতে তারা তাকে উৎসাহ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যেহেতু সংসদের সকল সদস্য বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতা উনিও উৎসাহ প্রদান করেছেন দেশের জন্য দেশের মানুষের পক্ষে কাজ করার জন্য, সেজন্য আবারও আমি আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে সকল সদস্য, বিরোধী দলের নেতাসহ সকল সদস্যকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।”

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপি সরকার গঠনের পর তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে গত ২১ জুন মালয়েশিয়া যান। পরদিন মালয়েশিয়ার আনুষ্ঠানিকতা সেরে তিনি চীন সফরে যান। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এ সফরে চীনের সঙ্গে ১৭টি সমঝোতা এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা ও দুটি দলিল বিনিময় করে বাংলাদেশ।