শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৭

বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনে শনিবার বিএনপির দোয়া মাহফিল

বিশেষ (ঢাকা) প্রতিবেদক ॥ ১৪ আগস্ট ২০২৬ ০৭:৪৪ অপরাহ্ন জাতীয়
বিশেষ (ঢাকা) প্রতিবেদক ॥ ১৪ আগস্ট ২০২৬ ০৭:৪৪ অপরাহ্ন
বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনে শনিবার বিএনপির দোয়া মাহফিল


প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে উপলক্ষে শনিবার সারাদেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করবে বিএনপি। শুক্রবার সকালে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। আর ঢাকায় সকাল ১১টায় নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। এ কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুড়িতে, ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট। পারিবারিক নাম খালেদা খানম, ডাক নাম পুতুল। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীতে হলেও তিনি জলপাইগুড়িতে বোনের বাসা থেকে পড়ালেখা করেন। পরে সেখানে চা ব্যবসায় জড়ান ইস্কান্দার, বিয়েও করেন তিস্তা পাড়ের শহরটিতে। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর খালেদা জিয়ার পরিবার বাংলাদেশের দিনাজপুর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। সেখানে মিশনারি স্কুলে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরানোর পর দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন খালেদা খানম। ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সাথে খালেদার বিয়ে হয়। পরে স্বামীর কর্মস্থল পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যান তিনি। স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি দল গঠন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৮১ সালে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপির হাল ধরেন তার স্ত্রী খালেদা জিয়া, তখন তিনি নিতান্তই একজন গৃহবধূ। ১৯৮৩ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সাতদলীয় জোট গঠন করে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন শুরু করে। সেই আন্দোলনে এরশাদ সরকারের সঙ্গে কখনো আপস করেননি খালেদা জিয়া। অন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতা করলেও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি কোনো সমঝোতায় যায়নি। তাই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তার নাম হয় আপসহীন নেত্রী। বিগত স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বিভিন্নভাবে অত্যাচার চালানো হয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপর এবং পরিবারের উপরও। একটি মিথ্যা, সাজানো মামলায় বেগম জিয়াকে কারাবাসও করতে হয়। এমনকি চিকিৎসার জন্য বিদেশে পর্যন্ত যেতে দেয়া হয়নি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর/২৫ বেগম খালেদা জিয়া মারা যান। তিনবারের এ প্রধানমন্ত্রী মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারপারসন ছিলেন। ক্ষমতাসীন দলটির নেতৃত্বে এখন আছেন তার জ্যেষ্ঠ ছেলে তারেক রহমান, যিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রয়াত দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় সারাদেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ‘বিএনপি’।