কালিয়ায় ১০টি অবৈধ কয়লার চুল্লি-পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের পাইটকেবাড়ী গ্রামে নবগঙ্গা নদীর তীরে সবুজ বনায়ন ধ্বংস করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরীর ১০টি চুল্লি। সরকার ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে সবুজ বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ নিলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় প্রতিনিয়ত গাছ কেটে এসব চুল্লিতে পোড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বেলায়েত মেম্বার নামে এক ব্যক্তির মালিকানায় পরিচালিত এসব চুল্লিতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। ফলে চুল্লি থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই এসব চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা উৎপাদন করা হচ্ছে। চুল্লিগুলো থেকে নির্গত ধোঁয়ায় আশপাশের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও নবগঙ্গা নদীর পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধোঁয়ার কারণে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি মূল্যবান গাছ কেটে কয়লা উৎপাদনের কারণে পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও চুল্লিগুলোতে কাঠ পোড়ানো হয়। এতে সৃষ্ট ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত এসব অবৈধ চুল্লি বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এলাকাবাসী স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, অবৈধভাবে পরিচালিত এসব কয়লার চুল্লির বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা না হলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি আরও বাড়বে। এবিষয়ে চুল্লীর পরিচালক বেলায়েত মেম্বারের সাথে কথা হলে উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের কোন অনুমতি নেননি বলে জানান। তবে প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার দোহাই দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।