রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৭

গোবিন্দগঞ্জে রোপা আমনে মাজরা পোকার আক্রমণ ॥ দিশেহারা কৃষক

ফারুক হোসেন-গাইবান্ধা ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৫:২৩ অপরাহ্ন সারাদেশ
ফারুক হোসেন-গাইবান্ধা ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৫:২৩ অপরাহ্ন
গোবিন্দগঞ্জে রোপা আমনে মাজরা পোকার আক্রমণ ॥ দিশেহারা কৃষক

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে রোপা আমন ধানের জমিতে মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কীটনাশক ব্যবহার করেও পোকা নিয়ন্ত্রণে আসছেনা। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে ফলন নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। জানা গেছে, উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর, কমলনারায়নপুর, মথুরাপুর, ছয়ঘড়িয়া, দেবোত্তররামনাথপুর, সমসসপাড়া, বৃষ্টিপুর, শালমারা, চিয়ারগ্রাম, দেবপুর, রঘুনাথপুর, নাকাই ইউনিয়নের দক্ষিণ পোগইল, বড়দহ, নাকাই, শীতলগ্রাম, খুকশিয়া, রথের বাজার, ডুমরগাছা, পাটোয়া, কুঞ্জনাকাই, হরিরামপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর, ক্রোড়গাছা, পাখেরা, হরিরাম পুরসহ প্রায় উপজেলার সর্বত্রই একই পরিস্থিতি। ধান গাছের গোড়ায় আক্রমণ করছে মাজরা পোকা। এতে অনেক গাছ শুকিয়ে সাদা হয়ে যাচ্ছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি। কৃষকরা বলছেন, বারবার কীটনাশক স্প্রে করেও কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন। তবে মৌসুমের শুরুতেই পোকার এমন আক্রমণ কৃষি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ধান রোপণের পর থেকে নিয়মিত যত্ন নিচ্ছি। কিন্তু এখন মাজরা পোকার আক্রমণে অনেক গাছ মরে যাচ্ছে। আমরা যতবার কীটনাশক ব্যবহার করছি, তত খরচ বাড়ছে। কিন্তু ফল পাচ্ছিনা। যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে সব শেষ হয়ে যাবে। পাশর্^বর্তী পোগইল গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান জানান, ধানের গোড়ায় পোকা ঢুকে গাছকে সাদা করে দিচ্ছে। এতে পুরো জমি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অনেক টাকা খরচ করেছি কীটনাশকে, কিন্তু কাজ হয়নি। ফলন কম হলে ঋণ শোধ করাই আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের বার্ণাচন্দ্র শিখর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের কৃষির প্রধান ভরসা হচ্ছে আমন ধান। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই যদি পোকা আক্রমণ করে, তাহলে আমরা কী ভাবে বাঁচব? সরকারি দিকনির্দেশনা আর সহযোগিতা ছাড়া আমাদের সামনে অন্ধকার ছাড়া কিছু নেই। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আজিজা আকতার সেবু বলেন, এখনো আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কৃষকরা যদি আমাদের নির্দেশনা মেনে চলেন, তাহলে পোকার আক্রমন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরুল কায়েছ পোকা নিয়ন্ত্রণে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। আমরা কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।