মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৭

রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান আর নেই

রাজশাহী প্রতিনিধি ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:৩০ অপরাহ্ন সারাদেশ
রাজশাহী প্রতিনিধি ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:৩০ অপরাহ্ন
রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান আর নেই

রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান আর নেই (ইন্না ... রাজিউন)। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। কিডনি রোগজনিত জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন প্রবীণ এই সাংবাদিক। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। মরহুমের জানাযার নামাজ বাদ আসর হযরত শাহমুখদম দরগায় অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে জানাজা শেষ তাঁকে হেঁতেম খাঁ গৌরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মহরুমের প্রতি সর্বসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাজশাহী প্রেসক্লাবে দুপুর ১২টা থেকে যোহরের আগ পর্যন্ত মরদেহ রাখা হয়। মরহুম সাইদুর রহমান ৪ দশকের বেশি সময় ধরে  সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। রাজশাহীর অত্যন্ত স্বনামধন্য পরিবারের সন্তান সাইদুর রহমান ছিলেন দৈনিক ভোরের কাগজের সাংবাদিক। এছাড়াও দৈনিক করতোয়ায় তিনি সাংবাদিকতা করেন। সাংবাদিক সাইদুর রাজশাহী প্রাক্তন গভর্নর  ও ভাষা সৈনিক মরহুম আতাউর রহমানের পুত্র এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মাদার বখ্শ এর নাতি। তিনি আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সভাপতি ছিলেন। প্রবীন সাংবাদিক সাইদুর রহমানের মৃত্যুতে সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। সাংবাদিক সাইদুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। প্রবীন সাংবাদিক সাইদুর রহমানের মৃত্যুতে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ‘দৈনিক চাঁপাই দর্পণ’ এর প্রকাশক ও সম্পাদক, চ্যানেল আই’র চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু। শোক জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।  সাইদুর রহমানের মৃত্যুতে রাজশাহীর সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে তিনি ছিলেন শুধু একজন প্রবীণ সাংবাদিক নন; ইতিহাস-ঐতিহ্য, জনকল্যাণ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত একজন মানুষ। সাইদুর রহমান ছিলেন রাজশাহীর একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবারের উত্তরসূরি। তাঁর নানা ছিলেন প্রখ্যাত আইনজীবী ও জননেতা মাদার বখশ। রাজশাহীতে উচ্চশিক্ষার প্রসারে মাদার বখশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ও বাস্তবায়নেও তাঁর অবদানের কথা সরকারি নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর বাবা জননেতা আতাউর রহমানও ছিলেন রাজশাহীর রাজনৈতিক ইতিহাসের আলোচিত ব্যক্তিত্ব। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচিত হন। তাঁর মা ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমান ছিলেন সমাজসেবায় নিবেদিতপ্রাণ ও আত্মত্যাগী নারী। এই পারিবারিক ঐতিহ্যকে শুধু স্মৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি সাইদুর রহমান। সাংবাদিকতার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন তিনি। সাইদুর রহমানের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তাঁর সম্পদকে জনকল্যাণে ব্যবহারের উদ্যোগ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিজের প্রায় সমুদয় সম্পত্তি সমাজসেবামূলক কাজে ব্যয় করার উদ্দেশ্যে তিনি ‘জননেতা আতাউর রহমান ট্রাস্ট’ গঠন করেন এবং সম্পত্তি ট্রাস্টের নামে দলিল করে দেন। ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন তাঁর ছোট বোন ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরফিন কনকের মা খেলনা আপা। সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের উপদেষ্টা মাসুদ রানা সরকার।  রাজশাহীর সাংবাদিক অঙ্গনে দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় ছিলেন সাইদুর রহমান। সহকর্মীদের অনেকের কাছেই তিনি ছিলেন অভিভাবকসুলভ। বিশেষ করে নবীন সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল আন্তরিক। পেশাগত বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া, সংবাদকর্মীদের বিভিন্ন সংকটে পাশে দাঁড়ানো এবং সাংবাদিক সমাজের স্বার্থে ভূমিকা রাখার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যম অঙ্গনে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য মুখ ছিলেন। তাঁর মৃত্যু তাই কেবল একজন প্রবীণ সাংবাদিককে হারানোর ঘটনা নয়; রাজশাহীর সাংবাদিকতা অঙ্গনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব ও অভিভাবকত্বের একটি অধ্যায়েরও অবসান ঘটল। সাংবাদিকতা জীবনের ব্যস্ততা, পারিবারিক ঐতিহ্য ও ব্যক্তিগত অর্জনের বাইরে মানুষের জন্য কিছু রেখে যাওয়ার যে প্রত্যয় সাইদুর রহমান ধারণ করেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পর সেটিই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সহকর্মীদের মতে, সাংবাদিকতার মাধ্যমে মানুষের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি নিজের সম্পদও মানুষের কল্যাণে ব্যবহারের যে উদ্যোগ তিনি নিয়েছেন, সেটি তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানবিক উত্তরাধিকার হয়ে থাকবে। সাইদুর রহমানের মৃত্যুতে রাজশাহীর সাংবাদিক সমাজ হারাল একজন প্রবীণ সহকর্মী ও অভিভাবককে।