শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২৭

আমন আবাদের জমিতে মাছ ধরার আনন্দে মাতোয়ারা শিশু-কিশোররা

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ০৯ আগস্ট ২০২৬ ০৭:৩০ অপরাহ্ন কৃষি
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ০৯ আগস্ট ২০২৬ ০৭:৩০ অপরাহ্ন
আমন আবাদের জমিতে মাছ ধরার আনন্দে মাতোয়ারা শিশু-কিশোররা


আমন আবাদের জমিতে মাছ ধরার আনন্দে মাতোয়ারা এলাকাকর শিশু-কিশোররা। এমনটিই লক্ষ্য করা গেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার নান্দাইল সদর ইউনিয়নের সাভার এলাকার বিস্তীর্ণ জলাবদ্ধ জমিগুলোতে। জানা গেছে, আমন ধান রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করতে ট্রাক্টর নামতেই যেন শুরু হয়েছে অন্যরকম এক উৎসব। বর্ষার পানিতে জলাবদ্ধ হয়ে থাকা জমিতে ট্রাক্টরের লাঙলে কাদামাটি উল্টে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গর্তে লুকিয়ে থাকা ছোট ছোট দেশি মাছ ভেসে উঠছে। আর সেই মাছ ধরতে বালতি ও কালই হাতে ট্রাক্টরের পেছনে ছুটছে স্থানীয় শিশু-কিশোররা। মুহূর্তেই পুরো মাঠ পরিণত হয়েছে আনন্দমুখর মিলন মেলায়। কেউ কাদাপানিতে নেমে মাছ ধরছে, আবার কেউ ট্রাক্টরের পেছনে ছুটে ভেসে ওঠা মাছ কুড়িয়ে নিচ্ছে। মাছ ধরার আনন্দে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস। সম্প্রতি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার নান্দাইল সদর ইউনিয়নের সাভার এলাকার বিস্তীর্ণ জলাবদ্ধ জমিতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। গ্রামবাংলার চিরচেনা এই দৃশ্য যেন হারিয়ে যাওয়া শৈশবের স্মৃতিকেই সামনে নিয়ে এসেছে। বর্ষার পানি জমে থাকা এসব জমিতে আমন ধান রোপণের আগে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করা হয়। চাষের সময় কাদামাটি উল্টে যাওয়ায় জমিতে থাকা দেশি মাছগুলো পানিতে ভেসে ওঠে। আর সেই সুযোগে শিশু-কিশোরসহ স্থানীয়রা মাছ ধরতে মাঠে নেমে পড়েন। ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ শুরু হতেই আশপাশের শিশু-কিশোররা মাঠে জড়ো হয়। কেউ কাদাজলে হাঁটু ডুবিয়ে, কেউ আবার দৌড়ে ট্রাক্টরের পেছনে পেছনে ছুটে মাছ ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এ প্রতিযোগিতা শুধু মাছ ধরারই নয়, এটি যেন অন্যরকম এক উৎসবেরও অংশ। স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষার সময় জমিতে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় জমির আশপাশের ডোবা বা খাল থেকে কৈ, শিং, পুঁটি, টেংরা, মাগুর ও চিংড়িসহ বিভিন্ন দেশি মাছ আশ্রয় নেয়। পরে জমি চাষের সময় মাটি উল্টে গেলে এসব মাছ সহজেই চোখে পড়ে। তখন শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি অনেক সময় বড়রাও মাছ ধরতে নেমে পড়েন। এতে এক ধরনের উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। গ্রামীণ জীবনের এই স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দের দৃশ্য দেখে অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। ব্যস্ততার এই সময়ে এমন দৃশ্য যেন মানুষকে ফিরিয়ে নেয় গ্রামবাংলার সেই চিরচেনা শৈশবের স্মৃতিতে। আনন্দে মেতে উঠে গ্রামের শিশু-কিশোররা।