বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৭

পত্নীতলায় এলজিইডি’র গড়িমসি-ঝুলে আছে নজিপুর-গগনপুর আঞ্চলিক সড়কের কাজ

পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি ১৯ আগস্ট ২০২৬ ০৫:৫৭ অপরাহ্ন সারাদেশ
পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি ১৯ আগস্ট ২০২৬ ০৫:৫৭ অপরাহ্ন
পত্নীতলায় এলজিইডি’র গড়িমসি-ঝুলে আছে নজিপুর-গগনপুর আঞ্চলিক সড়কের কাজ

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে গগনপুর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির সংস্কার কাজ টেন্ডার হওয়ার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়হীনতা ও গাছ কাটার জটিলতার কারণে কাজটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে। ফলে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকার লাখো মানুষকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নজিপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে গগনপুর পর্যন্ত সড়কটি উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এছাড়া কৃষিপণ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব অনেক। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে সড়কটি প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ ও খোয়া উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ইটের খোয়া বের হয়ে এসেছে, আবার কিছু অংশে সড়ক দেবে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে থাকে, অনেক সময় মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। যানবাহন চালকরা বলছেন, সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন মেরামত ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে সময়মতো গন্তব্যে পৌছানোও কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক চালক বাধ্য হয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছেন, ফলে সময় ও জ্বালানি খরচ দুটোই বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের কারণে সাধারণ মানুষকে এর খেসারত দিতে হচ্ছে। এ বিষয়ে মুঠোফোনে নওগাঁ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ বদরুদ্দোজা বলেন, ‘সড়কটির সংস্কার কাজের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে রাস্তার দুই পাশের গাছ কাটার জন্য এতদিন রাস্তার কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। আমরা বন বিভাগের সঙ্গে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, রাস্তার গাছ কাটার জন্য। যেহেতু আদালতের একটা নিষেধাজ্ঞা আছে, তাই গাছ কাটা সম্ভব নয়। দুই পাশে তিন ফিট করে রাস্তা প্রশস্ত না করে যতদূর রাস্তা বাড়ানো সম্ভব, সেই উপায়ে রাস্তা সংস্কার কাজ অতি দ্রুত শুরু করা হবে।