নাচোলে ডিএমএফ ডাক্তারের এন্টিবায়োটিকের প্রেসক্রিপশন-ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার সোনাইচন্ডী বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ‘লাইফ কেয়ার এন্ড কনসালটেশন চেম্বার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত রোগী দেখছেন মোঃ আবদুল্লাহ আন তাকী নামের এক কথিত ডাক্তার। সাইনবোর্ডে তিনি নিজেকে ডিএমএফ (ঢাকা), এমপিএইচ (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়), শিশু ও জেনারেল প্রাকটিশনার এবং উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। বিএমডিসি রেজি নম্বর-ডি-৭০৪৮৭ উল্লেখ রয়েছে। সরেজমিনে দেখাগেছে, তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি)’র 'ডি' ক্যাটাগরিভুক্ত একজন ডিপ্লোমা চিকিৎসক। তিনি এমবিবিএস ডিগ্রিধারী নন। অথচ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ১০০ টাকা ফি নিয়ে শিশুসহ সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং অ্যান্টিবায়োটিক ও হরমোন জাতীয় ঔষধ ব্যবস্থাপত্রও দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার চেম্বারে গিয়ে দেখা গেছে, টেবিলের উপর একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক ও হরমোন জাতীয় ঔষধের শীল ও সার্জিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট রয়েছে। এবিষয়ে চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আন তাকীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি ডাক্তার তাই অ্যান্টিবায়োটিক ও হরমোন জাতীয় ঔষধ প্রেসক্রাইব করা তার অধিকার আছে। বিএমডিসি আইন ২০১০ এর ২৯ ধারা অনুযায়ী, এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ নামের আগে ’ডাক্তার’ পদবী বা বিশেষজ্ঞ পদবী ব্যবহার করতে পারেন না। একই আইনের ১৩ ধারায় বলা হয়েছে, বিএমডিসির স্বীকৃতি ছাড়া কোনো ডিগ্রি ব্যবহার করা রোগীর সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এছাড়া ১৯৬২ সালের অ্যালোপ্যাথিক সিস্টেম অধ্যাদেশের ৬ ধারা মতে, নিবন্ধিত চিকিৎসক ছাড়া কেউ অ্যান্টিবায়োটিক বা বিপজ্জনক ঔষধ প্রেসক্রাইব করতে পারে না। আদালত গত ১২ মার্চ ২০২৫ তারিখে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। আইন লঙ্ঘন করলে ৩ বছরের কারাদন্ড বা ১ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। এ বিষয়ে নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ফারহানা নবী জানান, তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এছাড়া স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসকের (SACMO) আইনগতভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ও হরমোনজাতীয় ঔষধ প্রেসক্রাইব করার সুযোগ নেই। অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিত অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারে রোগীর শরীরে ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স’ তৈরি হওয়ার চরম ঝুঁকি থাকে, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক প্রাণঘাতী। এ বিষয়ে এলাকার সচেতন নাগরিকরা জানান, সাধারণ ও অশিক্ষিত রোগীরা সাইনবোড দেখে বিভ্রান্তহয়ে চিকিৎসা নিতে এসে আর্থিক প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। অবিলম্বে এই ধরনের বেআইনি চেম্বার ও বিএমডিসি আইন অমান্যকারী প্র্যাকটিশনারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয় সচেতন মহল কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।