বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৭

নাচোলের রানী ইলামিত্রের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

স্টাফ রিপোর্টার-নাচোল ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:২৬ অপরাহ্ন চাঁপাইনবাবগঞ্জ
স্টাফ রিপোর্টার-নাচোল ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:২৬ অপরাহ্ন
নাচোলের রানী ইলামিত্রের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে তে-ভাগা আন্দোলনখ্যাত বিপ্লবী নেত্রী রাণী ইলামিত্রের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। মঙ্গলবার (১৩ই অক্টোবর) সকালে রানী ইলা-মিত্র স্মৃতি সংসদ’র আয়োজনে ও এসেডো ও গণস্বাক্ষরতা অভিযান যৌথ সহযোগিতায় এ দিবস পালিত হয়। উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের ইলা-মিত্র মট ও সংগ্রহশালা প্রাঙ্গণে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে মঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। পরে ইলা-মিত্র স্মৃতি সংসদ'র সভাপতি শ্রী বিধান শিং এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দাস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নাচোলের রানী সিনেমার পরিচালক সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দুলাল উদ্দিন খাঁন, বিআরডিবি কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ, রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমীর পরিচালক হরেন্দ্রনাথ শিং, এসেডোর নির্বাহী পরিচালক রবিউল আলম। এছাড়াও কৃষি অফিসার সলেহ্ আকরাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ফারহানা নবী, সমাজসেবা অফিসার সোহেল রানা,এলজিইডির প্রকৌশলী সাদিকুল ইসলাম, এসেডোর ম্যানেজার আজাহার আলী, সাংবাদিক সাজিদ তৌহিদ, একেএম জিলানীসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম। আলোচনা শেষে ইলা মিত্র স্মৃতি সংসদ'র পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন প্রধান অতিথি নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দাসকে। দুপুরে উপস্থিত সকলের জন্য মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের কিংবদন্তি নেত্রী এবং শোষিত কৃষকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক রানী ইলামিত্র। ২০০২ সালের ১৩ অক্টোবর ৭৭ বছর বয়সে কলকাতায় এই মহীয়সী নারী মৃত্যুবরণ করেন। প্রতি বছরই বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রয়াণ দিবসটি বিনম্র শ্রদ্ধায় ও গুরুত্বের সাথে পালন করা হয়।


চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে সাঁওতাল আদিবাসী ও প্রান্তিক কৃষকদের জমি ও ফসলের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য তিনি ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগ কৃষকদের দেওয়ার দাবিতে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন শোষক জমিদার ও তৎকালীন জোতদারদের ভীত নাড়িয়ে দিয়েছিল। সাঁওতাল ও সাধারণ কৃষকদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের জন্য অসীম ত্যাগের কারণে কৃষকরা তাকে ভালবেসে 'রানী মা' বলে ডাকতেন। ১৯৫০সালে নাচোল বিদ্রোহের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। তৎকালীন পাকিস্তান পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর ওপর চালানো হয় লোমহর্ষক ও অমানবিক শারীরিক নির্যাতন। আদালতে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলেও ১৯৫৪ সালে অসুস্থতার কারণে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য কলকাতায় চলে যান এবং পরবর্তীতে সেখানেই স্থায়ী হন।


১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ইলা-মিত্র ভারতে অবস্থান করেই বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠন এবং শরনার্থী শিবিরের জন্য নানা ধরনের ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি একজন কৃতি ক্রীড়াবিদও ছিলেন এবং ১৯৪০ সালের অলিম্পিক গেমসের জন্য নির্বাচিত প্রথম বাঙালি নারী অ্যাথলেট ছিলেন, যদিও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে সেই অলিম্পিক বাতিল হয়ে যায়। এছাড়া তিনি ভারতের আইনসভার (পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা)র সদস্য হিসেবেও একাধিকবার নির্বাচিত হন।