মাদক-সাইবার অপরাধ ও বাল্যবিবাহ রোধে শিক্ষার্থীদের সচেতনতায় বিশেষ কর্মশালা
মাদক, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, ইভটিজিং, আত্মহত্যা ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেছেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সচেতন নাগরিক। তাদের মধ্যে নৈতিকতা, সততা ও আইন মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তুলতে পারলে একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। বুধবার (২৮ অক্টোবর) চাঁপাইনবাবগঞ্জের নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা ও ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, মাদক ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে এবং নানা অপরাধের ঝুঁকি বাড়ায়। মাদক নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মাদক ও ধূমপান থেকে দূরে থাকতে হবে এবং পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সবাইকে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে। বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য বড় বাধা। আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের এবং ২১ বছরের নিচে ছেলেদের বিয়ে নিষিদ্ধ।
কোথাও বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটতে দেখলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় জানানোর জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন। আত্মহত্যা প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পুলিশ সুপার বলেন, জীবন অমূল্য, কোনো সমস্যাই জীবনের চেয়ে বড় নয়। পরীক্ষায় খারাপ ফল, পারিবারিক চাপ, ইভটিজিং কিংবা মানসিক কষ্টের কারণে হতাশ হয়ে আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। মন খারাপ বা হতাশা অনুভব করলে পরিবার, শিক্ষক, বন্ধু কিংবা পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে হবে। মনে রাখতে হবে, আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান নয়। সাইবার সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান, সন্দেহজনক লিংকে প্রবেশ এবং ডিজিটাল প্রতারণার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে যৌতুক, ইভটিজিং, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ বা ব্যাড টাচ এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে সচেতন থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, ছোটবেলা থেকেই সড়ক নিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। জেব্রা ক্রসিং, ফুটওভার ব্রিজ ও ট্রাফিক সিগন্যাল যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে চললে নিজের পাশাপাশি অন্যদের জীবনও নিরাপদ রাখা সম্ভব। কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের সততা, নৈতিকতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ‘সততা স্টোর’ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সৎ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে বলে আলোচনা করা হয়। কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য ছিল “আইন মেনে চলব, নিরাপদ জীবন গড়বো-সচেতন নাগরিক হব।” এসময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে উত্তর ও পরামর্শ পায়। পরে কুইজ প্রতিযোগিতায় সঠিক উত্তরদাতা শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়। কর্মশালায় এএসপি (প্রবিঃ), সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহীন আকন্দ, পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) মো. সফিকুল আলম, ট্রাফিক পুলিশের সদস্য, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসলাম কবিরসহ অন্যান্য শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।