অনুমতি একটির-কাটা হলো তিনটি গাছ ॥ প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরসম্ভুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাছ কাটার সরকারি অনুমতি নিয়ে আরও দুটি মূল্যবান মেহগনি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে উপজেলা শিক্ষা বিভাগ। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মবহির্ভূতভাবে কাটা অতিরিক্ত গাছের গোড়া মাটি দিয়ে ঢেকে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টাও করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়ের একটি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ‘চাম্বুল’ গাছ উপজেলা প্রশাসনের প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে ২ হাজার ২৬০ টাকায় বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, নিলামে সরকারি মূল্য কম দেখানো হলেও বাস্তবে গাছটি প্রায় ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই আরও দুটি মূল্যবান মেহগনি গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে দুটি গাছ কাটার অনুমতি রয়েছে বলে দাবি করে। তবে সাংবাদিকদের সামনে তারা মাত্র একটি গাছের অনুমতিপত্র দেখাতে সক্ষম হয়। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হেমায়েত হোসেন দুটি গাছ কাটার কথা স্বীকার করলেও তিনটি গাছ কাটার বিষয়টি অস্বীকার করেন। অন্যদিকে, দপ্তরি লোকমান মিয়া দুটি গাছ কাটার কথা বললেও পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়ে তৃতীয় আরেকটি মেহগনি গাছের গোড়া উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা জানায়, রাতের আঁধারে একটির বদলে তিনটি গাছ বিক্রি করা হয়েছে। অনুমোদিত গাছটি স্থানীয় ব্যবসায়ী রাজা কাজির কাছে চড়া দামে বিক্রি করা হলেও সরকারি কোষাগারে সামান্য অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা উর্মী আক্তার মুঠোফোনে জানান, বিদ্যালয় থেকে আমাকে জানানো হয়েছিল একটি গাছ কাটার সময় আরেকটি ভেঙে গেছে। কিন্তু তিনটি গাছ কাটার বিষয়টি পরে জানতে পেরেছি এবং তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়্যেদাতুন নেসা রুপা বলেন, গত ১৪ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে একটি চাম্বুল গাছ ২ হাজার ২৬০ টাকায় বিক্রি করা হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি আরও দুটি গাছ অবৈধভাবে কাটা হয়েছে। এ ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি সম্পদ আত্মসাতের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।