শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৭
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধ সীসা তৈরির কারখানায় অভিযান ॥ ৮ জনের কারাদণ্ড ও জরিমানা

নিজস্ব প্রতিনিধি ০৬ আগস্ট ২০২৬ ০৬:২৪ অপরাহ্ন চাঁপাইনবাবগঞ্জ
নিজস্ব প্রতিনিধি ০৬ আগস্ট ২০২৬ ০৬:২৪ অপরাহ্ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবৈধ সীসা তৈরির কারখানায়    অভিযান ॥ ৮ জনের কারাদণ্ড ও জরিমানা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সরলা ফুলতলা এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরির অভিযোগে ‘মেসার্স আলতা প্লাস্টিক এন্ড মেটাল’ নামের একটি অবৈধ কারখানায় অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জ অফিস ও ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অপরাধে আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও মোটা অঙ্কের অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (০৫ আগস্ট) বেলা সোয়া ১১টায় পরিবেশ অধিদপ্তর,


চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ আবু সাঈদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রকার ছাড়পত্র বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কারখানাটিতে রাতারাতি ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরি করা হচ্ছিল, যা স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি স্বরূপ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) রাত ৯টা থেকে রাত ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে ওই কারখানায় গভীর রাতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইকরামুল হক নাহিদ।


এসময় পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ আবু সাঈদসহ দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অভিযানকালে পরিবেশ দূষণের অপরাধ হাতেনাতে প্রমাণিত হওয়ায় ‘বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধন ২০১০)’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ৮ জন ব্যক্তিকে ১ থেকে ৩ মাসের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্কের জরিমানা প্রদান করা হয়। এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিতরণ সংসথা ‘নেসকো-১’-এর সহায়তায় অবৈধ ওই কারখানাটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে, যাতে পুনারায় কার্যক্রম চালু করতে না পারে। অভিযান চলাকালে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের দুটি চৌকস টিম সার্বিক নিরাপত্তা ও সহায়তা প্রদান করে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোঃ আবু সাঈদ জানান,


জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জেলা জুড়ে এ ধরনের ক্ষতিকর ও অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত নজরদারি এবং কঠোর আইনি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, এর আগেও ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে এই কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয় এবং ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু অভিযানের কয়েকদিন পর থেকেই তারা পুরাতন পদ্ধতিতে এবং বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে মারাত্মক ক্ষতিকর পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। এছাড়া এই প্রতিষ্ঠানের মালিক প্রশাসনের চোখে ফাঁকি দিয়ে একই উপজেলার গোবরতলা সাহবাডাইং এলাকায় একই কায়দায় মারাত্মক ক্ষতিকর পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরির কাজ করছে বলে স্থানীয় একটি সুত্রে জানা গেছে।


প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মারাত্মক ক্ষতিকর পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরির কাজ চালিয়ে যাওয়ার এমন দুঃসাহস দেখানোয় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকার ভূক্তভোগীদের দাবী, পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিকারক পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা তৈরির এই কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হোক, যেন ভবিষ্যতে পরিবেশ ও মানবকুল, প্রাণীকূলের ক্ষতিকারক কোন প্রতিষ্ঠান চালানোর সাহস না পাই।