চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই সংগঠনের বিরোধে যান চলাচল বন্ধ ॥ ৮ ঘন্টা পর স্বাভাবিক
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়কে সার্ভিস চার্জ আদায় ও চাঁদা দাবি নিয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দুই পক্ষের বিরোধের জেরে সব রুটে বাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা। প্রায় ৮ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর দুপুর আড়াইটার দিকে প্রশাসনের সাথে আলোচনা শেষে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জেলা ট্রাক, ট্যাংকলড়ি কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান জানান, রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে ড্রাইভারদের মারধর করা হচ্ছে এবং জোর করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। গাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদে মালিক-শ্রমিক যৌথ সমন্বয় কমিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দেয়। অন্যদিকে, জেলা বাস ও মিনিবাস ও ঢাকা কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন, রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত বৈধ সংগঠন, তাই সার্ভিস চার্জ আমরাই নেব। কিন্তু ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান সংগঠনগুলো গায়ের জোরে বাস থেকে সার্ভিস চার্জ নিতে চাইছে। সমঝোতার বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসীম ফিরোজ বলেন, দুই সংগঠনের বিরোধ মেটাতে পুলিশ উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসা হয়েছিল। তাদের অনড় অবস্থানের কারণে সমঝোতা করতে কস্ট হয়েছে। তিনি জানান, সড়কে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি করার সুযোগ নেই বলে দুই পক্ষকেই সতর্ক করা হয়েছে। এর আগে বিষয় নিয়ে বুধবার রাতে পুলিশের তত্ত্বাবধানে বৈঠকে বসে দুই শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। কিন্তু বৈঠকে সমঝোতা না হওয়ায় বহস্পতিবার সকাল থেকে ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা কর্মবিরতি শুরু করে। এতে জেলার সব রুটে বাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা পিকেটিং করে যানবাহন চলাচলেও বাধা দেয়। ফলে সব রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রশাসন ও উভয় পক্ষের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা শেষে অবরোধ তুলে নেয়া হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।