টোকিওতে যৌন পর্যটন নিয়ে উদ্বেগ, অর্থনৈতিক চাপে ঝুঁকিতে তরুণীরা
জাপানের রাজধানী টোকিওর কিছু এলাকায় যৌনসেবা ঘিরে বিদেশি পুরুষদের আনাগোনা এবং তরুণীদের যৌনকাজে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট, ঋণের চাপ এবং হোস্ট ক্লাবের ব্যয় মেটাতে দেশটির কিছু তরুণী এ পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন বলে অধিকারকর্মীদের দাবি।
২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে টোকিওর শিনজুকু এলাকার ওকুবো পার্ক ও আশপাশের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, করোনাভাইরাস মহামারির পর পর্যটন স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকায় বিদেশি পুরুষদের উপস্থিতি বেড়েছে বলে স্থানীয় একটি যুব সুরক্ষা সংগঠন লক্ষ্য করেছে।
তরুণদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন লিয়াজোঁ কাউন্সিল প্রটেকটিং ইয়ুথসের মহাসচিব ইয়োশিদে তানাকার ভাষ্য, মহামারির পর ওকুবো পার্ক এলাকায় বিভিন্ন দেশের বিদেশি পুরুষদের আনাগোনা বেড়েছে। তাদের মধ্যে চীনা নাগরিকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য বলে তিনি দাবি করেন।
তানাকা বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ২০-এর কোঠার কিছু তরুণী জীবিকা নির্বাহের জন্য যৌনশিল্পে জড়িয়ে পড়ছেন। তার মতে, বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে দারিদ্র্য, ঋণ এবং সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্নও জড়িত।
হোস্ট ক্লাবের ঋণের চাপ
টোকিওর কাবুকিচো এলাকার হোস্ট ক্লাব সংস্কৃতিও এ সমস্যার সঙ্গে যুক্ত বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কিছু নারী হোস্ট ক্লাবে ব্যয় করা অর্থ বা ঋণ পরিশোধ করতে যৌনসেবায় জড়িয়ে পড়ছেন বলে জাপানের পুলিশের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
২০২৩ সালে রাস্তায় যৌনসেবা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া নারীদের একটি বড় অংশ হোস্ট ক্লাবের বিল পরিশোধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে এ কাজে জড়িয়েছিলেন বলে পুলিশি তথ্যের উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের উল্লেখযোগ্য অংশের বয়স ছিল ২০-এর কোঠায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালে কাবুকিচো এলাকায় রাস্তায় যৌনসেবা দেওয়ার অভিযোগে ১৪০ নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে এই সংখ্যা টোকিওর সামগ্রিক যৌনশিল্প বা বিদেশি পর্যটকদের যৌনসেবা গ্রহণের পরিমাণ নির্দেশ করে না।
পুলিশের অভিযান
যৌন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধেও অভিযান চালাচ্ছে জাপানের পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নারীদের যৌন ব্যবসায় যুক্ত করার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জাপানের রাজনীতিতেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তৎকালীন প্রধান বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতা কাজুনোরি ইয়ামানোই এটিকে শুধু জাপানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে না দেখে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
অধিকারকর্মীদের মতে, যৌনসেবা ঘিরে সমস্যার সমাধানে শুধু নারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যথেষ্ট নয়। যৌনসেবার ক্রেতাদের দায়বদ্ধতা, তরুণীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং হোস্ট ক্লাবের ঋণসংক্রান্ত অনিয়ম মোকাবিলায়ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তবে টোকিওকে ‘এশিয়ার নতুন যৌন পর্যটনের রাজধানী’ হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি কোনো সরকারি পরিসংখ্যানভিত্তিক স্বীকৃতি নয়। এটি মূলত ২০২৪ সালের একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ব্যবহৃত বর্ণনা। ফলে টোকিওর যৌন পর্যটন নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে বিষয়টিকে উদ্বেগ ও প্রবণতা হিসেবে দেখা হলেও চূড়ান্ত বাস্তবতা হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।