ভেড়ামারায় বাণিজ্যিকভাবে আনারকলির চাষ-লাভবান কৃষক
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় চাষ হচ্ছে বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত আনারকলির চাষ বাণিজ্যিকভাবে। পরীক্ষামূলক ভাবে চাষ করে সফলতা পাওয়ায় এখন এক বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবেই চাষ করেছেন হালিম আহম্মেদ বাচ্চু। কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের কোদালিয়া পাড়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা হালিম আহম্মেদ বাচ্চুর বাগানে গিয়ে দেখা যায়, লতানো গাছের সবুজ পাতার মাঝে ঝুলছে সবুজ রঙের আকর্ষণীয় দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চলের ফল আনারকলি, প্যাশন বা ট্যাংক ফল। হালিম আহম্মেদ বাচ্চু জানান, চারা লাগানোর ৮মাস পর থেকে ফল আসা শুরু করলেও এটি সারা বছর ফল দিতে থাকে। কোনো ধরনের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে শুধু জৈব সার ব্যবহার করেই এই ফল চাষ করা যায়। জলবায়ু সহনশীল টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফল চাষে তুলনামূলক কম খরচ ও রোগবালাই কম হওয়ায় দিন দিন চাষে আগ্রহ বাড়ছে আশপাশের কৃষকদেরও। কৃষি বিভাগ থেকে যদি আমাদের মতো ক্ষুদ্র কৃষি উদ্যোক্তারা সহযোগিতা পায়, তাহলে আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারবো বলে। তিনি আরো বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। বাপ-দাদাও কৃষক ছিলেন। কৃষিই আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। আমি গতবছর ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরে স্টালিন ভাইয়ের বাগানে সর্বপ্রথম এই ফলের চাষাবাদ দেখি। সেখান থেকেই আমি চারা সংগ্রহ করে আমি আমার ১বিঘা জমিতে রোপন করি। কিছু দিনের মধ্যেই এসব ডালে নতুন পাতা গজায় এবং তরতর করে গাছগুলো লাউ গাছের মতো বড় হতে থাকে। পরে মাচাং তৈরি করে দেই। মাচাংয়ে বড় হতে হতে মাত্র ৮ মাসের মধ্যে সুন্দর ফুল ও পরে ফল হতে থাকে। আট মাস আগে লাগানো এসব গাছে এখন ফল পাকতে শুরু করেছে। এক বিঘার বাগান করতে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। বর্তমান ফলন ও বাজারদর ঠিক থাকলে মৌসুম শেষে প্রায় ১০ লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা। বাচ্চুর বাগান দেখতে আসছেন আশপাশের মানুষও। নতুন এই ফলের চাষ ও ফলন দেখে অন্য কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। ভেড়ামারা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সদরুল ইসলাম জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফলটি আনারমলি, প্যাশন ফ্রুট বা ট্যাং ফল নামে পরিচিত। ভেড়ামারায় এর চাষ নতুন হলেও চলতি মৌসুমে উপজেলার অনেক জমিতে বানিজ্যিক ভাবে এর চাষ হয়েছে। কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় আগামীতে এলাকার কৃষকরা আরও বেশি বেশি জমিতে আনারকরিল চাষ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষি কর্মকর্তা।