সোমবার, অক্টোবর ০৫, ২০২৭
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশগ্রহণ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন

জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে-মাহাদী আমিন

বিশেষ (ঢাকা) প্রতিনিধি ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:০৫ অপরাহ্ন জাতীয়
বিশেষ (ঢাকা) প্রতিনিধি ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:০৫ অপরাহ্ন
জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে-মাহাদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহাদী আমিন বলেছেন, জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। এসময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা জানেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নিউইয়র্কে পৌঁছান। এসময় তিনি জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে তিনি গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ভোরে দেশে পৌঁছান। তিনি বলেন, এবারের অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। নতুন সরকারের জন্য এটি ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথম অংশগ্রহণ। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রথমবার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এর মধ্য দিয়ে একই পরিবারের দুই প্রজন্মের তিনজন প্রধানমন্ত্রীর এই বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্বের অনন্য ইতিহাস রচিত হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করায় বাংলাদেশের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান, চারদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী সব মিলিয়ে মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন, ৭টি উচ্চ-পর্যায়ের সভায় বক্তব্য রেখেছেন, ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মাহাদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী দিনব্যাপী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চ-পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বৈঠকে যোগ দেন। সকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিব কর্তৃক আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে ব্রেকফাস্টে অংশ নেন। পরে তিনি অন্যান্য বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। দিনের কর্মসূচির শেষে প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী অধিবেশন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিনি আরও জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী সাধারণ বিতর্ক পর্বে অংশ নিয়ে বাংলায় বক্তব্য দেন। এসময় তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, দেশ পুনর্গঠনে সরকারের Recovery, Restoration and reconstruction  কৌশল (Three-R), নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন এবং এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং এ লক্ষ্যে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ, সংঘাত ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় সংলাপ ও বহুপাক্ষিক কূটনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শান্তি ও নিরাপত্তা, ফিলিস্তিন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, উন্নয়ন অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্ব সম্প্রদায় কর্তৃক প্রশংসিত ও অভিনন্দিত হয়। তিনি বলেন, এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ÔClimate Action and the Just TransitionÕ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। একই দিনে তিনি বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ÔThe Rohingya Crisis: A Renewed Call for a Durable Solution from Protracted Displacement, with Justice and AccountabilityÕ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় যোগ দেন। এসময় তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, মিয়ানমারে সহিংসতার অবসান, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা এবং রোহিঙ্গাদের প্রতি সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধসমূহের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, তাছাড়া, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির উদ্যোগে আয়োজিত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি সম্পর্কিত একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। একই দিন তিনি বাংলাদেশ ও সুইডেনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ÔFrom Commitment to Action: Integrating Midwifery into Primary Heath Care to end Preventable Maternal and Newbord DeathsÕ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফদের অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন। এর পাশাপাশি তিনি এ বিষয়ে সরকারের সামগ্রিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক ও ইরানের রাষ্ট্রপতি, মালদ্বীপের উপ-রাষ্ট্রপতি, ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রী এবং কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এছাড়াও, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এর পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের মহাসচিব, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার, মিয়ানমার সংক্রান্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা, গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী, বোয়িং গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী এবং ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসব দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশ ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ও সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পাশাপাশি আমি নিজেও ব্রাজিল এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে বৈঠক করি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২, পররাষ্ট্র সচিব এবং সচিব (পূর্ব-পশ্চিম) বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের সভায় অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়াও প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ বিভিন্ন পর্যায়ের সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সার্বিক বিবেচনায়, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে। এই সফর নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে বিশ্ব পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সভায় ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সব অতিথিই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলাদেশের নতুন এই গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। দীর্ঘদিন পর জনগণের নিরঙ্কুশ ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এই সফরে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের আত্ম বিশ্বাস, সম্মান এবং আত্মমর্যাদা নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছেন।